হুথিদের অবরোধে তাইজের হাসপাতালগুলোতে চরম মানবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা
- আপডেট সময় : ১১:০৮:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

ইয়েমেনের তাইজ শহর ঘিরে হুথিদের কঠোর অবরোধের কারণে সেখানকার হাসপাতালগুলোতে ওষুধ, চিকিৎসাসামগ্রী ও জ্বালানির মজুত প্রায় ফুরিয়ে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে জরুরি চিকিৎসা, অস্ত্রোপচার, ডায়ালাইসিস এবং নবজাতকদের সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো ভয়াবহ আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার সতর্ক করে জানিয়েছে, পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে শহরটিতে বড় ধরনের স্বাস্থ্য ও মানবিক বিপর্যয় দেখা দেবে।
দেশটির জনস্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা মন্ত্রণালয় শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাইজের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে শিরায় দেওয়ার তরলসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী ও জ্বালানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর ফলে রোগী, আহত ব্যক্তি, অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং নবজাতকদের জীবন সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। মন্ত্রণালয় অবিলম্বে অবরোধ প্রত্যাহার, সরবরাহের পথ উন্মুক্ত করা এবং স্বাস্থ্যকর্মী ও ত্রাণবাহী অ্যাম্বুলেন্সের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোর প্রতি তাইজের হাসপাতালগুলোতে জরুরি সহায়তা পাঠানোর আহ্বানও জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, প্রতিটি মুহূর্তের বিলম্ব চিকিৎসাসেবা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি এবং মৃত্যুর হার বাড়িয়ে দিচ্ছে।
ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুথিরা, যারা আনসার আল্লাহ নামেও পরিচিত, ২০১৪ সালে রাজধানী সানা দখলের পর থেকে ইয়েমেনের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। তাইজে ২০১৫ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ অবরোধের পর আংশিক অবরোধ বজায় ছিল। ২০২৪ সালে সাময়িক সময়ের জন্য একটি সড়ক খুলে দেওয়া হলেও নতুন করে লড়াই শুরুর পর অক্টোবর মাসের শুরু থেকে অবরোধ পুনরায় জোরদার হয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে লোহিত সাগরের উপকূলীয় মোখা বন্দর এবং ৪ অক্টোবরের মধ্যে আত তুরবাহ শহর হুথিদের নিয়ন্ত্রণে এলে তাইজ শহরের সঙ্গে সরকার-নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোর সর্বশেষ প্রধান সড়কটিও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর জবাবে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকার পাল্টা অভিযান শুরু করেছে।
তাইজ প্রদেশে ইয়েমেন সরকারের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের মহাপরিচালক নাবিল জামিল আল-জাজিরাকে বলেন, এবারের অবরোধ ২০১৫ সালের চেয়ে অনেক বেশি ব্যাপক ও মারাত্মক। তার হিসাব অনুযায়ী, সরকার-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় প্রায় ২৮ লাখ মানুষ বসবাস করছেন, যাদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে প্রায় দুই লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। জ্বালানি সংকটের কারণে কালোবাজারে ২০ লিটার পেট্রলের দাম ৩০ হাজার ইয়েমেনি রিয়াল থেকে বেড়ে ৯০ হাজার রিয়ালে দাঁড়িয়েছে। তিনি জানান, তারা এখনো মাঠপর্যায়ে কার্যকর হস্তক্ষেপের অপেক্ষায় আছেন।
এদিকে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্ক করেছে যে, এই লড়াই ইয়েমেনের ভঙ্গুর স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। জাস্টিস ফর রাইটস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের প্রধান ও আইনজীবী নাবিল শারিয়ান এ বিষয়ে মন্তব্য করেন যে, কোনো সংঘাতেই বেসামরিক মানুষকে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।




























