হরমুজ প্রণালীতে দুই তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা, তদন্তে কর্তৃপক্ষ
- আপডেট সময় : ১১:১৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী ও ওমান উপকূলে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে 'অজ্ঞাত বস্তু' দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা শুক্রবার এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে এই ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করল।
প্রথম হামলার ঘটনাটি ঘটে যখন একটি জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার হয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল। হামলার পর ওই ট্যাংকারটিতে সাময়িকভাবে আগুন ধরে যায় এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তবে দ্রুতই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা জানিয়েছে, এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং পরিবেশেরও কোনো ক্ষতি হয়নি। পরবর্তীতে জাহাজটি আবার নিজের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। তবে জাহাজটি কোথা থেকে আসছিল বা কোথায় যাচ্ছিল, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি সংস্থাটি।
এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর ওমানের পূর্ব দিকে অপরিশোধিত তেলবাহী আরেকটি ট্যাংকারে একইভাবে 'অজ্ঞাত বস্তু' দিয়ে আঘাত করা হয়। এই জাহাজেরও সব নাবিক সম্পূর্ণ নিরাপদে রয়েছেন এবং কোনো ধরনের পরিবেশগত ক্ষতি হয়নি বলে জানানো হয়েছে। এই দুটি হামলার ঘটনা কীভাবে ঘটেছে এবং এর পেছনে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালীকে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম প্রধান ধমনী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হতো। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই এই নৌপথটি সংঘাতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, তেহরান এই প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নানাভাবে বাধা সৃষ্টি করছে। এমনকি অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করার অভিযোগে বেশ কয়েকটি জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলাও চালিয়েছে তারা। এর জবাবে ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোর ওপর পাল্টা নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ আরোপ করেছে, যাতে দেশটি আন্তর্জাতিক বাজারে তেল রপ্তানি করতে না পারে। এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে দুটি ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটল।




























