ঢাকা ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাউন্ট এতনা থেকে ৪ কিমি উচ্চতায় ছাই, ইতালিতে রেড অ্যালার্ট মৌলভীবাজারে পাহাড় কেটে অবৈধ রিসোর্টের ছড়াছড়ি, বিপন্ন পরিবেশ আয়কর রিটার্ন জমা দিয়ে করছাড় পাওয়ার সুযোগ আর মাত্র চার দিন ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যানের পর ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক বার্তার অপেক্ষায় ইরান মাধবপুরে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু, আতঙ্কে পারাপার শিক্ষার্থীসহ শত শত মানুষ কুমিল্লার ১৮ থানায় অভিযানে আটক ২৫৪, রতন গ্রুপের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ গ্রেপ্তার আজ শুরু একাদশে ভর্তির দ্বিতীয় ধাপের আবেদন, ফল ১ অক্টোবর কোলাহলের মাঝেও নির্জনতা ধরে রেখেছে মৌলভীবাজারের বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক জাতিসংঘ সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দক্ষিণ আমেরিকান গেমসের ফাইনালে প্যারাগুয়ের কাছে আর্জেন্টিনার হার

জাতিসংঘে ইরান: নতুন কূটনৈতিক অধ্যায়ে আরাগচি ও পেজেশকিয়ান

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৬:৫০:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র-সমন্বিত ইসরাইলি বিমান হামলা থেকে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে ফেরার সাত মাস পর, ইরানের শীর্ষ কূটনীতিকরা চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিসের সুরক্ষাবলয়ে ম্যানহাটনের রাস্তায় হেঁটেছেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে বিশ্বনেতারা যখন নিউ ইয়র্কে সমবেত হয়েছেন, তখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের অবস্থান তুলে ধরেন।

নিউইয়র্কে অবস্থানকালে আরাগচি দুই ডজনের বেশি কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এদের মধ্যে ইউরোপের ১০টির বেশি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা প্রতিনিধি ছিলেন। এছাড়া জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদির সঙ্গেও তার বৈঠক হয়েছে, যে দেশটির ভূখণ্ডে সাম্প্রতিক সময়ে ইরান হামলা চালিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে আরাগচির সরাসরি বৈঠক। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তিন মাস ধরে অচল থাকা কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় চালুর লক্ষ্যেই এ বৈঠক হয়েছে।

আরাগচি পরবর্তীতে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরান একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, ওয়াশিংটন যদি ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক অবরোধ শিথিল করে, তবে তেহরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে কাজ করবে এবং একটি চূড়ান্ত সমঝোতার পথে আলোচনা শুরু হতে পারে।

বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কের একটি হোটেলে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান পশ্চিমা সাংবাদিক ও থিংক-ট্যাংক বিশ্লেষকদের সঙ্গে বসে তার সরকারের চিন্তাধারা তুলে ধরেন। ২৮ ফেব্রুয়ারির সেই সকালের পরিস্থিতির সঙ্গে আজকের এই দৃশ্যপট ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত; সেদিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলার মধ্যে দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকায় তাঁর মৃত্যুর আশঙ্কা করা হয়েছিল।

অতীতের দশকগুলোতেও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ইরানের অংশগ্রহণ মনোযোগ আকর্ষণ করেছে, তবে যুদ্ধের ঘনঘটার মধ্যে এবারের সফরটি ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। তেহরানের কর্মকর্তারা অত্যন্ত কৌশলী পরিকল্পনার মাধ্যমে এই সফরের আয়োজন করেছিলেন। যদিও ইরানের কট্টরপন্থীরা ওয়াশিংটনের প্রতি পেজেশকিয়ান ও আরাগচির এই কূটনৈতিক উদ্যোগের সমালোচনা করেছে। বিশেষ করে উইটকফের সঙ্গে বৈঠক করার কারণে আরাগচি রক্ষণশীল আইনপ্রণেতাদের তোপের মুখে পড়েছেন। কট্টরপন্থী আইনপ্রণেতা ইব্রাহিম রেজাই গত বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রশ্ন তুলেছেন, কোন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে শত্রুপক্ষের প্রতিনিধির সঙ্গে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো, তার ব্যাখ্যা অবশ্যই দিতে হবে।

এত ঝুঁকি সত্ত্বেও, এই সফরের মাধ্যমে তেহরান প্রতিপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পথ পুনরায় উন্মুক্ত করেছে, বিশ্ববাসীর কাছে টিকে থাকার বার্তা পৌঁছাতে পেরেছে এবং আমেরিকান জনগণের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। পেজেশকিয়ান জাতিসংঘের মঞ্চ থেকে ইরানের দাবিগুলো তুলে ধরেন এবং বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। এর ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা যায় ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ক্ষেত্রে; তিনি যখন ভাষণ দিচ্ছিলেন, তখন নিউ ইয়র্কের রাস্তায় তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয় এবং জাতিসংঘের অধিবেশনে উপস্থিত প্রতিনিধিরা প্রতিবাদস্বরূপ সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

জাতিসংঘে ইরান: নতুন কূটনৈতিক অধ্যায়ে আরাগচি ও পেজেশকিয়ান

আপডেট সময় : ০৬:৫০:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র-সমন্বিত ইসরাইলি বিমান হামলা থেকে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে ফেরার সাত মাস পর, ইরানের শীর্ষ কূটনীতিকরা চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিসের সুরক্ষাবলয়ে ম্যানহাটনের রাস্তায় হেঁটেছেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে বিশ্বনেতারা যখন নিউ ইয়র্কে সমবেত হয়েছেন, তখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের অবস্থান তুলে ধরেন।

নিউইয়র্কে অবস্থানকালে আরাগচি দুই ডজনের বেশি কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এদের মধ্যে ইউরোপের ১০টির বেশি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা প্রতিনিধি ছিলেন। এছাড়া জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদির সঙ্গেও তার বৈঠক হয়েছে, যে দেশটির ভূখণ্ডে সাম্প্রতিক সময়ে ইরান হামলা চালিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে আরাগচির সরাসরি বৈঠক। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তিন মাস ধরে অচল থাকা কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় চালুর লক্ষ্যেই এ বৈঠক হয়েছে।

আরাগচি পরবর্তীতে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরান একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, ওয়াশিংটন যদি ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক অবরোধ শিথিল করে, তবে তেহরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে কাজ করবে এবং একটি চূড়ান্ত সমঝোতার পথে আলোচনা শুরু হতে পারে।

বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কের একটি হোটেলে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান পশ্চিমা সাংবাদিক ও থিংক-ট্যাংক বিশ্লেষকদের সঙ্গে বসে তার সরকারের চিন্তাধারা তুলে ধরেন। ২৮ ফেব্রুয়ারির সেই সকালের পরিস্থিতির সঙ্গে আজকের এই দৃশ্যপট ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত; সেদিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলার মধ্যে দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকায় তাঁর মৃত্যুর আশঙ্কা করা হয়েছিল।

অতীতের দশকগুলোতেও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ইরানের অংশগ্রহণ মনোযোগ আকর্ষণ করেছে, তবে যুদ্ধের ঘনঘটার মধ্যে এবারের সফরটি ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। তেহরানের কর্মকর্তারা অত্যন্ত কৌশলী পরিকল্পনার মাধ্যমে এই সফরের আয়োজন করেছিলেন। যদিও ইরানের কট্টরপন্থীরা ওয়াশিংটনের প্রতি পেজেশকিয়ান ও আরাগচির এই কূটনৈতিক উদ্যোগের সমালোচনা করেছে। বিশেষ করে উইটকফের সঙ্গে বৈঠক করার কারণে আরাগচি রক্ষণশীল আইনপ্রণেতাদের তোপের মুখে পড়েছেন। কট্টরপন্থী আইনপ্রণেতা ইব্রাহিম রেজাই গত বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রশ্ন তুলেছেন, কোন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে শত্রুপক্ষের প্রতিনিধির সঙ্গে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো, তার ব্যাখ্যা অবশ্যই দিতে হবে।

এত ঝুঁকি সত্ত্বেও, এই সফরের মাধ্যমে তেহরান প্রতিপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পথ পুনরায় উন্মুক্ত করেছে, বিশ্ববাসীর কাছে টিকে থাকার বার্তা পৌঁছাতে পেরেছে এবং আমেরিকান জনগণের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। পেজেশকিয়ান জাতিসংঘের মঞ্চ থেকে ইরানের দাবিগুলো তুলে ধরেন এবং বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। এর ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা যায় ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ক্ষেত্রে; তিনি যখন ভাষণ দিচ্ছিলেন, তখন নিউ ইয়র্কের রাস্তায় তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয় এবং জাতিসংঘের অধিবেশনে উপস্থিত প্রতিনিধিরা প্রতিবাদস্বরূপ সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh