প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জাতিসংঘের মহাসচিবের অভিনন্দন
- আপডেট সময় : ০২:১৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর সফরের তৃতীয় দিনে তাদের মধ্যে একটি ফলপ্রসূ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্ক সময় সন্ধ্যা ৭টায় ‘জাতিসংঘের সদর দপ্তরের মিডিয়া চত্বরে’ আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন এ তথ্য জানান। এই ব্রিফিংটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ইউএনজিএ’র ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ এবং তৃতীয় দিনের কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত হয়েছিল।
মাহ্দী আমিন জানান, বৈঠকের শুরুতেই জাতিসংঘ মহাসচিব প্রধানমন্ত্রীকে সরকার গঠনের জন্য অভিনন্দন জানান। জবাবে প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন পর একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারার অনুভূতি প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে তিনি তার বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া একসময় যে ঐতিহাসিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন, সেখানে দাঁড়িয়ে নিজের গভীর আবেগের কথা তুলে ধরেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ বা ‘গ্র্যাজুয়েশন’ প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব অর্থনীতির বিদ্যমান নানা চ্যালেঞ্জের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই উত্তরণের সময়সীমা কিছুটা বাড়ানোর জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবকে অনুরোধ জানান।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র আরও বলেন, বহুপক্ষীয় কূটনীতি, বিশ্ব শান্তি রক্ষা এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের অনন্য অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের সকল দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সংহতি ও যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকারকে ধারণ করেই এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাহ্দী আমিন দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশকে বিশ্ব মঞ্চে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
সফরসূচির তৃতীয় (3) দিনে প্রধানমন্ত্রী মোট ৭টি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন জানিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানমালাকে মূলত তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে – দ্বিপক্ষীয়, বহুপক্ষীয় এবং উচ্চপর্যায়। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিষয়ে তিনি জানান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এবং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব আলোচনায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করা, সমতা, ন্যায্যতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ককে বহুমাত্রিক পর্যায়ে রূপ দেওয়া এবং ‘পিপল টু পিপল টাইজ’ বা জনগণের সঙ্গে সংযোগ বৃদ্ধি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এছাড়াও, সফরসূচিতে দু’টি উচ্চপর্যায়ের কনফারেন্স ছিল বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র উল্লেখ করেন। এসব সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান এবং মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা অংশ নেন। এর মধ্যে একটি ছিল সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি তথা পরিবেশ বিষয়ক এবং অন্যটি ছিল মিডওয়াইফারি ও স্বাস্থ্যবিষয়ক। দ্বিতীয় সম্মেলনটি বাংলাদেশ সরকার আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে যৌথ সহযোগিতায় আয়োজন করেছে।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি একেএম ওয়াহিদুজ্জামান, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনিসহ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সদস্যবৃন্দ ও জাতিসংঘ মিশনের কর্মকর্তারা।



























