ঢাকা ০৫:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আল্লাহর বিধান ছাড়া প্রকৃত শান্তি অসম্ভব: মিয়া গোলাম পরওয়ার সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর: ন্যায়বিচার পাবেন বললেন রাশেদ খাঁন অধিকৃত পশ্চিম তীরে গাজার মতো যুদ্ধের উস্কানি দিলেন স্মোটরিচ সরকার বা দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করলে রেহাই নেই: মাহদী আমিন ভোলায় মহিষ চুরি রোধে মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি কুমিল্লায় ছাত্রদলের মিছিলে কিশোর গ্যাং লিডার তানজিম, ভিডিও ভাইরাল জাসদ কার্যালয়ে অভিযান: আটক ২৭ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ নেপালের হিমলুং পর্বতে তুষারধস, ১০ পর্বতারোহী ও গাইড নিখোঁজ যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত বৃটিশ বিমানঘাঁটির কাছে বাড়ি খালি করল পুলিশ বিএনপি চাঁদাবাজ দল—এই ঢালাও অভিযোগের মানে নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

যুদ্ধাপরাধের দায়ে কসোভোর সাবেক প্রেসিডেন্ট হাশিম থাচির ২৫ বছরের কারাদণ্ডাদেশ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৫:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



কসোভোর সাবেক প্রেসিডেন্ট হাশিম থাচিকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত বিশেষ আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল ‘কসোভো স্পেশালিস্ট চেম্বার্স’ (কেএসসি)। ১৯৯০-এর দশকের শেষভাগে সার্বিয়ার কাছ থেকে স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় যুদ্ধাপরাধ, নির্যাতন ও বেআইনি আটকের অভিযোগে তাঁকে এই দণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় ৫৮ বছর বয়সী হাশিম থাচিকে আদালতে শান্ত অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেলেও, তিনি শুরু থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯৮-৯৯ সালের সংঘাতের সময় কসোভো লিবারেশন আর্মির (কেএলএ) শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক কমান্ডার হিসেবে থাচি নিজস্ব রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী এবং সার্বীয় বাহিনীর সহযোগীদের ওপর নির্যাতন, বেআইনি আটক ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিলেন। যুদ্ধ চলাকালে অন্তত ৯৬ জন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও বেসামরিক নাগরিক হত্যার জন্য তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

এই মামলায় থাচির পাশাপাশি কেএলএ-এর আরও তিন শীর্ষ অধিনায়ককে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইয়াকুপ ক্রাসনিকিকে ২৫ বছর, কাদ্রি ভেসেলিকে ১৮ বছর এবং রেঝেপ সেলিমিকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে মানবতাবিরোধী অপরাধের অন্য ছয়টি অভিযোগ প্রসিকিউশন পক্ষ প্রমাণ করতে না পারায় বিচারকেরা তাঁদের সেসব অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ পাবেন।

এই রায়কে কেন্দ্র করে কসোভো ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। কসোভোর আলবেনীয় জনগোষ্ঠীর কাছে থাচি ও কেএলএ স্বাধীনতার বীর হিসেবে পরিচিত, তাই রাজধানী প্রিস্টিনায় হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে এই রায় প্রত্যাখ্যান করেছে। কসোভোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী গ্লাউক কোনজুফকা এই রায়কে কসোভোর জন্য চরম ক্ষতিকর বলে বর্ণনা করেছেন। আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এদি রামা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, সার্বিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী ইভিকা দাচিচ এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি প্রমাণ করে যে কেএলএ একটি অপরাধী সংগঠন ছিল।

উল্লেখ্য যে, হাশিম থাচি কসোভোর স্বাধীনতার পর প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। ২০২০ সালে আন্তর্জাতিক আদালত তাঁকে অভিযুক্ত করার পর তিনি পদত্যাগ করে হেগে আত্মসমর্পণ করেছিলেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

যুদ্ধাপরাধের দায়ে কসোভোর সাবেক প্রেসিডেন্ট হাশিম থাচির ২৫ বছরের কারাদণ্ডাদেশ

আপডেট সময় : ০৬:৪৫:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কসোভোর সাবেক প্রেসিডেন্ট হাশিম থাচিকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত বিশেষ আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল ‘কসোভো স্পেশালিস্ট চেম্বার্স’ (কেএসসি)। ১৯৯০-এর দশকের শেষভাগে সার্বিয়ার কাছ থেকে স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় যুদ্ধাপরাধ, নির্যাতন ও বেআইনি আটকের অভিযোগে তাঁকে এই দণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় ৫৮ বছর বয়সী হাশিম থাচিকে আদালতে শান্ত অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেলেও, তিনি শুরু থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯৮-৯৯ সালের সংঘাতের সময় কসোভো লিবারেশন আর্মির (কেএলএ) শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক কমান্ডার হিসেবে থাচি নিজস্ব রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী এবং সার্বীয় বাহিনীর সহযোগীদের ওপর নির্যাতন, বেআইনি আটক ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিলেন। যুদ্ধ চলাকালে অন্তত ৯৬ জন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও বেসামরিক নাগরিক হত্যার জন্য তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

এই মামলায় থাচির পাশাপাশি কেএলএ-এর আরও তিন শীর্ষ অধিনায়ককে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইয়াকুপ ক্রাসনিকিকে ২৫ বছর, কাদ্রি ভেসেলিকে ১৮ বছর এবং রেঝেপ সেলিমিকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে মানবতাবিরোধী অপরাধের অন্য ছয়টি অভিযোগ প্রসিকিউশন পক্ষ প্রমাণ করতে না পারায় বিচারকেরা তাঁদের সেসব অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ পাবেন।

এই রায়কে কেন্দ্র করে কসোভো ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। কসোভোর আলবেনীয় জনগোষ্ঠীর কাছে থাচি ও কেএলএ স্বাধীনতার বীর হিসেবে পরিচিত, তাই রাজধানী প্রিস্টিনায় হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে এই রায় প্রত্যাখ্যান করেছে। কসোভোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী গ্লাউক কোনজুফকা এই রায়কে কসোভোর জন্য চরম ক্ষতিকর বলে বর্ণনা করেছেন। আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এদি রামা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, সার্বিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী ইভিকা দাচিচ এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি প্রমাণ করে যে কেএলএ একটি অপরাধী সংগঠন ছিল।

উল্লেখ্য যে, হাশিম থাচি কসোভোর স্বাধীনতার পর প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। ২০২০ সালে আন্তর্জাতিক আদালত তাঁকে অভিযুক্ত করার পর তিনি পদত্যাগ করে হেগে আত্মসমর্পণ করেছিলেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo