পোল্যান্ড সীমান্তে রুশ ড্রোন হামলা, অল্পের জন্য বাঁচলেন বরিস জনসন
- আপডেট সময় : ০৮:৪৮:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮: ২১
ইউক্রেন ও পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে রাশিয়ার একটি ড্রোন হামলার কবল থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও ইউরোপের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। হামলার মাত্র কিছুক্ষণ আগে তাদের বহনকারী কূটনৈতিক ট্রেনটি ওই এলাকা পেরিয়ে গিয়েছিল। হামলায় একটি ট্রেনের ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ইউক্রেনের ইয়াহোদিন এলাকায় এই হামলাটি চালানো হয়। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার শিকার হওয়া ট্রেনটির সব যাত্রীকে আগেই নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে সংস্থা ‘উকরজালিজনিৎসিয়া’ জানিয়েছে, রুশ বাহিনী এই হামলায় জেটচালিত ড্রোন ব্যবহার করেছে।
কিয়েভে আয়োজিত একটি সম্মেলন শেষে বরিস জনসন এবং যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জোনাথন পাওয়েলসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ওই রেলপথ দিয়ে ফিরছিলেন। তবে তারা হামলার শিকার হওয়া ট্রেনটিতে ছিলেন না; তাদের বহন করছিল অন্য একটি কূটনৈতিক ট্রেন। উকরজালিজনিৎসিয়ার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সময়সূচির পরিবর্তন এবং রুশ হামলার ধারাবাহিক হুমকির কারণে জনসন ও অন্য কর্মকর্তাদের বহনকারী ট্রেনটি প্রত্যাশিত সময়ের আগেই স্টেশন ছেড়ে যায়। এর ফলে হামলার সময় তারা ওই এলাকায় অবস্থান করলেও সরাসরি হামলার শিকার হননি।
রেল কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, ড্রোনটি আঘাত হানার ঠিক ১৫ মিনিট আগে আক্রান্ত ট্রেনের যাত্রীদের নিরাপদে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। পরে ড্রোনটি সরাসরি ট্রেনের ইঞ্জিনে আঘাত হানে। হামলার সময় ইয়াহোদিন স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা অন্য একটি ট্রেনে সাবেক সিআইএ প্রধান ডেভিড পেট্রাউসও অবস্থান করছিলেন বলে রেলওয়ে সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে।
ইউক্রেন ও পোল্যান্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রুশ ড্রোনটি পোল্যান্ড সীমান্ত থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরে আঘাত হেনেছে। তবে রাশিয়ার দাবি, তারা কেবল পশ্চিম ইউক্রেনের রেল অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে। বিপরীতে, ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে সংস্থার দাবি—বরিস জনসন ও ইউরোপের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বহনকারী ট্রেনটিকে লক্ষ্য করেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছিল।
কিয়েভ সম্মেলনে অংশ নেওয়া সুইডেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কার্ল বিল্ট জানান, তিনি যে ট্রেনে ছিলেন সেটির যাত্রীদের প্রথমে ট্রেন থেকে নেমে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছিল। বিল্ট বলেন, ‘আমাদের ট্রেনটি থামার পর সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়। তবে কয়েক মিনিট পরই জানানো হয় যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আমরা ওই ট্রেনেই যাত্রা অব্যাহত রাখতে পারব।’ পরে বিল্টের ট্রেনটি নিরাপদে পোল্যান্ড সীমান্তের দোরোহুস্ক স্টেশনে পৌঁছায়। কিছু প্রতিবেদনে কার্ল বিল্ট ও বরিস জনসন একই ট্রেনে ছিলেন বলে উল্লেখ করা হলেও, জনসন এ বিষয়ে কোনো তথ্য নিশ্চিত করেননি।
হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) বরিস জনসন ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘আজ সকালে পোল্যান্ড সীমান্তে ইউক্রেনের একটি দাঁড়িয়ে থাকা লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) উড়িয়ে দেওয়ার পেছনে পুতিনের কী বিকৃত যুক্তি কাজ করেছে, তা আমার জানা নেই।’ এই হামলাকে ইউক্রেনীয়দের ওপর প্রতিদিন ঘটে চলা অর্থহীন আগ্রাসনের সঙ্গে তুলনা করে জনসন ইউক্রেনের মিত্রদের দ্রুত প্রয়োজনীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের আহ্বান জানান।
রাশিয়ার দৈনিক হামলা ঠেকাতে আরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক ব্যবস্থার জন্য ইউক্রেন তার মিত্রদের, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বারবার তাগিদ দিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে দ্রুতগতির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও জেটচালিত ড্রোনের ব্যবহার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিকা এই হামলাকে ‘বর্বরোচিত’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এর মাধ্যমে পুতিনের সন্ত্রাস সরাসরি ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ন্যাটোর দরজায় কড়া নাড়ছে। তিনি মস্কোর ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানান।
এই ঘটনার পর পরিস্থিতি পর্যালোচনায় জরুরি বৈঠক ডেকেছেন পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক। তিনি সতর্ক করে বলেন, রুশ বাহিনীর উসকানি এখন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে এবং তারা পোল্যান্ডের সীমান্তের খুব কাছাকাছি চলে আসছে। উল্লেখ্য, ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের আকাশপথ পুরোপুরি বন্ধ থাকায় দেশটির কোটি কোটি মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে রেল নেটওয়ার্ক। আর এ কারণেই সম্প্রতি রাশিয়া পরিকল্পিতভাবে ইউক্রেনের ট্রেন, রেল ডিপো এবং সীমান্ত পারাপারের স্থানগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে।





























