পাকিস্তানের সঙ্গে ব্যবসা ও শিক্ষা খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান প্রেসিডেন্টের
- আপডেট সময় : ০৫:৩৯:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এই সাক্ষাতে প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বিমান যোগাযোগ, শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানান।
সাক্ষাতের সময় পাকিস্তানের হাইকমিশনার দেশটির প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রেসিডেন্ট এই আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টকেও সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, পাকিস্তান বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তিনি ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, পাকিস্তানে তৈরি পোশাক, বিশেষ করে নারীদের পোশাক বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয়। তিনি কটন ইয়ার্নসহ পাকিস্তানি পণ্যের বাংলাদেশে রপ্তানি এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করার ওপর জোর দেন।
পাকিস্তানের হাইকমিশনার জানান, আগামী অক্টোবরে ঢাকায় পাকিস্তানি পণ্য নিয়ে একটি বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হবে এবং তিনি বাংলাদেশের তৈরি পণ্য দিয়ে পাকিস্তানে অনুরূপ মেলা আয়োজনের আহ্বান জানান। এছাড়া তিনি ফুটবলসহ ক্রীড়া সরঞ্জাম তৈরিতে যৌথ উদ্যোগের বিষয়ে তার দেশের উদ্যোক্তাদের আগ্রহের কথা জানান। হাইকমিশনার চলতি বছর ঢাকা ও করাচির মধ্যে পুনরায় সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুর ইতিবাচক ভূমিকার কথা তুলে ধরেন এবং ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
বাংলাদেশের চায়ের গুণগত মানের প্রশংসা করে হাইকমিশনার পাকিস্তানের বিদ্যমান শুল্কমুক্ত সুবিধা কাজে লাগিয়ে আরও বেশি চা রপ্তানির আহ্বান জানান। জবাবে প্রেসিডেন্ট বলেন, বাংলাদেশের সিরামিক পণ্য, ওষুধ, পান ও অন্যান্য কৃষি পণ্য পাকিস্তানে রপ্তানির বড় সুযোগ রয়েছে। এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ প্রয়োজন।
পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার জানান, পাকিস্তান বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে কাজ করছে। প্রেসিডেন্ট দুই দেশের সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের সদস্যদের প্রশিক্ষণ বিনিময় এবং বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি হাইকমিশনারকে তার দায়িত্ব পালনে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও ফলপ্রসূ ও বহুমাত্রিক হওয়ার আশা প্রকাশ করেন। সাক্ষাতে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।





























