মার্কিন আন্ডারওয়াটার ড্রোন আটক করে রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পথে ইরান
- আপডেট সময় : ১২:৩৩:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

ইরান যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক আন্ডারওয়াটার ড্রোন আটক করেছে। এই ডুবোযানটি হাতে পাওয়ায় ইরান এখন তা গবেষণা ও রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে নকল করার সুযোগ পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ড্রোন আটকের এই ঘটনা মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এবং ড্রোনটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিলের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মার্কিন নৌবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স অবশ্য দাবি করেছেন, এটি একটি পুরোনো মডেলের ত্রুটিপূর্ণ ড্রোন ছিল। নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, ড্রোনটি বিকল হয়ে পানিতে পড়ে থাকার পর ইরানি বাহিনী সেটি উদ্ধার করে। তাদের দাবি, এতে কোনো সংবেদনশীল তথ্য বা ক্লাসিফায়েড সনার ও রাডার সরঞ্জাম ছিল না।
ডাইভ-এলডি মডেলের এই স্বয়ংক্রিয় আন্ডারওয়াটার ড্রোনটি দীর্ঘ পাল্লার নজরদারি এবং বিভিন্ন সামুদ্রিক মিশনের জন্য তৈরি করা নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তি। এটি মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই টানা কয়েকদিন চলতে সক্ষম। বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তিগতভাবে এটি থেকে ইরান বড় কোনো সামরিক সুবিধা না পেলেও, এটি তেহরানের জন্য একটি বড় প্রচারণামূলক বিজয়।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বিভিন্ন দেশে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে উপহাস করেছে। ঘানার ইরানি দূতাবাস লিখেছে, তাদের কর্মীরা মাছ ধরার জালে প্লাস্টিকের বোতল তোলার মতো করে ড্রোনটি তুলে এনেছে। হায়দ্রাবাদের ইরানি দূতাবাস জানিয়েছে, তারা ড্রোনটির রিভার্স-ইঞ্জিনিয়ারিং বা আনবক্সিং অনুষ্ঠান করবে।
হাডসন ইনস্টিটিউটের সেন্টার ফর ডিফেন্স কনসেপ্টস অ্যান্ড টেকনোলজির পরিচালক ব্রায়ান ক্লার্কের মতে, ড্রোনটির সফটওয়্যারে নিজস্ব প্রতিরক্ষাব্যবস্থা থাকলেও ইরানি প্রকৌশলীরা এর যান্ত্রিক বা মেকানিক্যাল দিকগুলো নিশ্চিতভাবেই রিভার্স-ইঞ্জিনিয়ারিং করতে পারবেন। অতীতে ২০১১ সালে মার্কিন আরকিউ-১৭০ সেন্টিনেল ড্রোন আটকের পর ইরান সেটি রিভার্স-ইঞ্জিনিয়ারিং করে নিজস্ব মডেল তৈরি করেছিল।



























