ন্যাটো ও মক্কা চুক্তির পর এবার এসসিওর পথে তুরস্ক
- আপডেট সময় : ০৩:৫৭:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫: ২১ (08-09-2026, 15:21)
পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হওয়া সত্ত্বেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তুরস্কের পররাষ্ট্রনীতিতে এক বড় ধরনের পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দেশটি আর কেবল পশ্চিমা বলয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে চীন, রাশিয়া, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করছে। প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ানের নেতৃত্বে আঙ্কারা মূলত একটি বহুমুখী কূটনীতি ও কৌশলগত ভারসাম্যের নীতি নিয়ে এগিয়ে চলেছে, যা তাদের বৈশ্বিক ভূরাজনীতির একটি নতুন কেন্দ্রে পরিণত করছে।
তুরস্কের এই নতুন কৌশলের অন্যতম সাম্প্রতিক উদাহরণ হলো ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’। ২০২৬ সালের ৭ আগস্ট সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান এই ঐতিহাসিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির মূল সিদ্ধান্ত হলো—জোটভুক্ত যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা তিন দেশের ওপরই হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। পরবর্তীতে ৩১ আগস্ট ইস্তাম্বুলে তিন দেশের কর্মকর্তাদের বৈঠকে এই চুক্তির অধীনে গঠিত কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয় এবং জোটটির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি সামনে আসে।
অনেকেই এই নতুন জোটকে ‘ইসলামিক ন্যাটো’ হিসেবে আখ্যা দিলেও কাঠামোগত দিক থেকে এটি এখনো ন্যাটোর মতো কোনো পূর্ণাঙ্গ সামরিক জোট হিসেবে গড়ে ওঠেনি। এর যৌথ কমান্ড পরিচালন পদ্ধতি বা কোন পরিস্থিতিতে কীভাবে পারস্পরিক সামরিক সহায়তা দেওয়া হবে, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে এই জোটের কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম; কারণ সৌদি আরবের রয়েছে বিপুল অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সম্পদ, তুরস্কের রয়েছে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্প ও সামরিক সক্ষমতা এবং পাকিস্তানের রয়েছে পারমাণবিক শক্তি ও বিশাল সামরিক বাহিনী। উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর মার্কিন নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতির অনিশ্চয়তা এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই চুক্তিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তবে তুরস্কের যোগাযোগ অধিদপ্তর স্পষ্ট করেছে যে, মক্কা চুক্তি ন্যাটোর বিকল্প নয়, বরং এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তার একটি পরিপূরক ব্যবস্থা মাত্র।
বহুমুখী কূটনীতির অংশ হিসেবে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সঙ্গেও সম্পর্ক জোরদার করছে তুরস্ক। বর্তমানে সংস্থাটির ‘ডায়ালগ পার্টনার’ হিসেবে থাকলেও ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের শুরুতে এসসিও সম্মেলন থেকে ফেরার পথে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান জানান, তুরস্ক এই জোটের পূর্ণ সদস্য হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। চীন, রাশিয়া, ভারত, ইরান ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সমন্বয়ে গঠিত এই জোটে তুরস্ক যুক্ত হলে তা পশ্চিমা ও অ-পশ্চিমা কাঠামোর মধ্যে আঙ্কারার প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে। এরদোয়ান জোর দিয়ে বলেছেন, পূর্বের দেশগুলোর সঙ্গে এই ঘনিষ্ঠতা কোনোভাবেই পশ্চিমা জোট থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া নয়।
ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, কৃষ্ণসাগর, ককেশাস, মধ্য এশিয়া ও ভূমধ্যসাগরের সংযোগস্থলে তুরস্কের ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে এরদোয়ান সরকার নিজেকে বিভিন্ন শক্তিকেন্দ্রের যোগাযোগের সেতু হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। একই সময়ে ন্যাটো, এসসিও এবং মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্সের মতো ভিন্ন ভিন্ন মেরুর সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষা করা আঙ্কারার জন্য বড় পরীক্ষা হলেও, এর মাধ্যমে তারা বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘মিডল পাওয়ার’ বা মধ্যম শক্তি হিসেবে নিজেদের দর-কষাকষির ক্ষমতা বাড়াতে সক্ষম হচ্ছে।





























