নেপালে নিখোঁজ ৫ হাজার, মরদেহ শনাক্তে শুরু ডিএনএ পরীক্ষা
- আপডেট সময় : ০১:২৯:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

নেপালে ভয়াবহ বন্যার ১১ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো প্রায় ৫ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার হওয়া মরদেহের অনেকগুলো শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়ায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ শুরু করেছে নেপাল পুলিশ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্যায় এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৩৪৪ জনে দাঁড়িয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা এখন পর্যন্ত ১৩ হাজার ১০০ জনেরও বেশি মানুষকে নিরাপদে উদ্ধার করেছেন এবং শনিবারও নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত ছিল।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে মাত্র ৯৮টি এখন পর্যন্ত শনাক্ত করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হয়েছে। অনেক মরদেহ পানির তীব্র স্রোতে ভেসে গেছে। এছাড়া উদ্ধার হওয়া বাকি মরদেহগুলোর একটি বড় অংশ পানি ও কাদায় দীর্ঘসময় আটকে থাকায় পচে গেছে বা খণ্ডিত অবস্থায় পাওয়া গেছে, যার ফলে পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। নেপালের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটির তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে অন্তত ৮৫টি শিশুর। প্রায় ৫০০ মরদেহের বিভিন্ন অংশ অনুপস্থিত থাকায় সেগুলো শনাক্ত করা আরও জটিল হয়ে পড়েছে।
সবচেয়ে বেশি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে চিতওয়ান জেলায়, যার সংখ্যা ৩৬২টি। এছাড়া নাওয়ালপরাসি ইস্ট, নাওয়ালপরাসি ওয়েস্ট, নুওয়াকোট, রাসুওয়া, গোরখা, ধাদিং ও তানাহুন জেলাতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মরদেহ পাওয়া গেছে। অজ্ঞাত মরদেহ ও মানবদেহের অংশ শনাক্ত করার লক্ষ্যে নেপাল পুলিশ নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা নিচ্ছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর এখন পর্যন্ত এক হাজারের বেশি অজ্ঞাত মরদেহ দাফন করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে বৈজ্ঞানিক উপায়ে পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
এদিকে দুর্যোগের মধ্যেই নতুন করে প্রাকৃতিক দুর্যোগের খবর পাওয়া গেছে। রবিবার সকালে গোরখা জেলার চুমনুব্রি রুরাল মিউনিসিপ্যালিটির ৪ নম্বর ওয়ার্ডে নামরুং খোলা নদীর পানি উপচে চারটি বাড়ি ও একটি ঝুলন্ত সেতু ভেসে গেছে। তবে এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। নেপালের তথ্য ও যোগাযোগমন্ত্রী বিক্রম তিমসিলিনা জানিয়েছেন, বন্যাকবলিতদের জন্য ত্রাণসামগ্রীর কোনো ঘাটতি হতে দেওয়া হবে না এবং ত্রাণ বিতরণে যেকোনো ধরনের অব্যবস্থাপনা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।



























