ঢাকা ১২:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইবির সাদ্দাম হলের একই কক্ষের তিন বন্ধু হলেন সিভিল জজ যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না ইরান: পেজেশকিয়ান নিউইয়র্কে গেটস ফাউন্ডেশনের সিইও মার্ক সুজম্যানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক মাদারগঞ্জে অনিয়মের দায়ে দুই ফার্মেসিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা নেত্রকোনা-১ আসনের সাবেক এমপি মোশতাক আহমেদ রুহী গ্রেপ্তার নিউ ইয়র্কে নামছে না নেতানিয়াহুর উড়োজাহাজ মূল্যস্ফীতির চাপে নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখল কেন্দ্রীয় ব্যাংক টাকায় আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ করতে নতুন নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের পাকিস্তান–চীন নতুন সীমান্ত চুক্তি নিয়ে ভারতের তীব্র প্রতিক্রিয়া গুলশানে ককটেল বিস্ফোরণ মামলায় ১৫ আসামির ৩ দিনের রিমান্ড

একই নামের বিড়ম্বনা: নিরপরাধ নারীকে আত্মঘাতী হামলাকারী বানিয়ে অপপ্রচার

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:১৭:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



পাকিস্তানে একই নামের কারণে এক নিরপরাধ নারীকে আত্মঘাতী হামলাকারী হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মুহূর্তের মধ্যে হাজারো মানুষের কাছে ছড়িয়ে পড়া এই মিথ্যা তথ্যের কারণে ওই নারী ও তার পরিবারের জীবন ও নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

২০২৪ সালের আগস্টে ‘মাহাল বালোচ’ নামের এক নারীর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তাকে ‘সন্ত্রাসী আত্মঘাতী হামলাকারী’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে দাবি করা হয় যে, তিনি ওই বছরের শুরুর দিকে বেলুচিস্তানের লাসবেলায় সংঘটিত আত্মঘাতী হামলার পেছনে ছিলেন। তবে ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান আইভেরিফাই পাকিস্তানের অনুসন্ধানে এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হয়। বেলুচিস্তান পুলিশের কাউন্টার টেররিজম বিভাগের উপমহাপরিদর্শকের তথ্য অনুযায়ী, প্রকৃত হামলাকারী ছিলেন ২৩ বছর বয়সী এক আইন বিভাগের শিক্ষার্থী, যিনি বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মির (বিএলএ) সদস্য এবং ‘জিলান কুর্দ’ নামে পরিচিত ছিলেন। ছবির মাহাল বালোচ তার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা একজন নারী।

ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর ওই নারী ও তার পরিবারের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তার আইনজীবী ইমরান বালোচ জানান, পরিচয় প্রকাশ্যে আসার পর কোয়েটায় বসবাসরত ওই পরিবারটির নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে। তিন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে ও দুই প্রবীণ নারীসহ পরিবারটি চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতে থাকে। এমনকি বাড়ির মালিকের ওপরও তাদের উচ্ছেদের চাপ দেওয়া হয়েছিল। আইনজীবী অভিযোগ করেন, সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের একটি অংশ যথাযথ যাচাই ছাড়াই ওই নারীকে হামলার সঙ্গে যুক্ত করে, যার ফলে অপরাধ না করেও ছয়জন নারীকে এর পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে।

আইভেরিফাই পাকিস্তানের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ২৬টি সম্ভাব্য বিভ্রান্তিকর দাবি নথিভুক্ত হয়েছে, যার অর্ধেকই মিথ্যা। বেলুচিস্তানে নির্ভরযোগ্য তথ্যের ঘাটতি, ইন্টারনেট সীমাবদ্ধতা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের তথ্য প্রদানে অনীহার কারণে যাচাইহীন তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

একই নামের আরেক ভুক্তভোগী মাহাল বালোচ একজন শিল্পী। লাসবেলা হামলার পর তার পুরোনো ছবি ও পডকাস্টের ভিডিও কেটে তাকে হামলাকারী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। তার শিক্ষক ও সহপাঠীরা তাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে তাকে এই ভিত্তিহীন অভিযোগের মুখোমুখি হতে হয়েছে এবং তার ছবি এখনো কিছু অনলাইন পোস্টে অপরাধীর সঙ্গে জুড়ে রাখা হয়েছে।

ডিজিটাল রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা নিঘাত দাদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম মিথ্যা তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে দিতে ভূমিকা রাখে। শুধু মূল পোস্ট সরিয়ে ফেলাই যথেষ্ট নয়, বরং কঠোর যাচাইব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। মাহাল বালোচের ঘটনায় সত্য প্রকাশ পেলেও এর ক্ষত এখনো রয়ে গেছে; তার সন্তানরা এখনো স্কুলে ফিরতে পারেনি এবং শিল্পীর ছবি এখনো অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ইন্টারনেটে রয়ে গেছে।

প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪: ০৭আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪: ০৯

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

একই নামের বিড়ম্বনা: নিরপরাধ নারীকে আত্মঘাতী হামলাকারী বানিয়ে অপপ্রচার

আপডেট সময় : ০২:১৭:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাকিস্তানে একই নামের কারণে এক নিরপরাধ নারীকে আত্মঘাতী হামলাকারী হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মুহূর্তের মধ্যে হাজারো মানুষের কাছে ছড়িয়ে পড়া এই মিথ্যা তথ্যের কারণে ওই নারী ও তার পরিবারের জীবন ও নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

২০২৪ সালের আগস্টে ‘মাহাল বালোচ’ নামের এক নারীর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তাকে ‘সন্ত্রাসী আত্মঘাতী হামলাকারী’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে দাবি করা হয় যে, তিনি ওই বছরের শুরুর দিকে বেলুচিস্তানের লাসবেলায় সংঘটিত আত্মঘাতী হামলার পেছনে ছিলেন। তবে ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান আইভেরিফাই পাকিস্তানের অনুসন্ধানে এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হয়। বেলুচিস্তান পুলিশের কাউন্টার টেররিজম বিভাগের উপমহাপরিদর্শকের তথ্য অনুযায়ী, প্রকৃত হামলাকারী ছিলেন ২৩ বছর বয়সী এক আইন বিভাগের শিক্ষার্থী, যিনি বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মির (বিএলএ) সদস্য এবং ‘জিলান কুর্দ’ নামে পরিচিত ছিলেন। ছবির মাহাল বালোচ তার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা একজন নারী।

ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর ওই নারী ও তার পরিবারের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তার আইনজীবী ইমরান বালোচ জানান, পরিচয় প্রকাশ্যে আসার পর কোয়েটায় বসবাসরত ওই পরিবারটির নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে। তিন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে ও দুই প্রবীণ নারীসহ পরিবারটি চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতে থাকে। এমনকি বাড়ির মালিকের ওপরও তাদের উচ্ছেদের চাপ দেওয়া হয়েছিল। আইনজীবী অভিযোগ করেন, সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের একটি অংশ যথাযথ যাচাই ছাড়াই ওই নারীকে হামলার সঙ্গে যুক্ত করে, যার ফলে অপরাধ না করেও ছয়জন নারীকে এর পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে।

আইভেরিফাই পাকিস্তানের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ২৬টি সম্ভাব্য বিভ্রান্তিকর দাবি নথিভুক্ত হয়েছে, যার অর্ধেকই মিথ্যা। বেলুচিস্তানে নির্ভরযোগ্য তথ্যের ঘাটতি, ইন্টারনেট সীমাবদ্ধতা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের তথ্য প্রদানে অনীহার কারণে যাচাইহীন তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

একই নামের আরেক ভুক্তভোগী মাহাল বালোচ একজন শিল্পী। লাসবেলা হামলার পর তার পুরোনো ছবি ও পডকাস্টের ভিডিও কেটে তাকে হামলাকারী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। তার শিক্ষক ও সহপাঠীরা তাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে তাকে এই ভিত্তিহীন অভিযোগের মুখোমুখি হতে হয়েছে এবং তার ছবি এখনো কিছু অনলাইন পোস্টে অপরাধীর সঙ্গে জুড়ে রাখা হয়েছে।

ডিজিটাল রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা নিঘাত দাদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম মিথ্যা তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে দিতে ভূমিকা রাখে। শুধু মূল পোস্ট সরিয়ে ফেলাই যথেষ্ট নয়, বরং কঠোর যাচাইব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। মাহাল বালোচের ঘটনায় সত্য প্রকাশ পেলেও এর ক্ষত এখনো রয়ে গেছে; তার সন্তানরা এখনো স্কুলে ফিরতে পারেনি এবং শিল্পীর ছবি এখনো অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ইন্টারনেটে রয়ে গেছে।

প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪: ০৭আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪: ০৯

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh