বয়সের বড় ব্যবধান ঘুচিয়ে লেনা-কিয়েটিলের ভালোবাসার গল্প
- আপডেট সময় : ০৪:৫৩:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

ডেটিং অ্যাপে পরিচয়ের পর কয়েক সপ্তাহ ধরে দেখাসাক্ষাৎ করেছিলেন লেনা ও কিয়েটিল। তবে ৪৫ বছর বয়সী লেনার মনে সারাক্ষণই একটি ভয় কাজ করছিল। তিনি ভাবছিলেন, ৩০ বছর বয়সী কিয়েটিল যখন তার আসল বয়স জানতে পারবেন, তখন হয়তো সম্পর্কটি ভেঙে যাবে। প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয়ে লেনা নিজের অনলাইন প্রোফাইলে বয়স উল্লেখ করেননি।
কিন্তু সম্পর্ক যখন গভীর হতে শুরু করে, তখন তার দুশ্চিন্তাও বাড়তে থাকে। কিয়েটিল অবশ্য শুরুতেই পরিষ্কার করে দিয়েছিলেন যে তিনি কোনো ক্ষণস্থায়ী সম্পর্ক নয়, বরং সত্যিকারের ভালোবাসার সন্ধান করছেন।
প্রথম দেখাতেই লেনা জানিয়েছিলেন যে তার একটি কিশোরী মেয়ে রয়েছে। এতে কিয়েটিলের আগ্রহ কমেনি, যদিও তিনি ভেবেছিলেন লেনা হয়তো তার চেয়ে বড়জোর কয়েক বছরের বড় হবেন। পরে যখন লেনা তার আসল বয়স প্রকাশ করেন, তখন কিয়েটিল মোটেও বিচলিত হননি।
উল্টো তিনি লেনার মেয়ের সঙ্গে দেখা করেন, যে বয়সে তার চেয়ে ১১ বছরের ছোট। কিয়েটিল লেনার মেয়ের কাছে জানতে চান, তার মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিলে মেয়ের কোনো আপত্তি আছে কি না।
লেনার মেয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়ে তার মাকে বলেছিল, তারা দুজনেই প্রাপ্তব্যস্ক এবং কিয়েটিল ভালো ব্যবহার করলে কোনো সমস্যা নেই। এমনকি কিয়েটিল ও তার বন্ধুদের ব্যবহৃত আধুনিক চলতি ভাষার শব্দগুলোর অর্থ নিজের মাকে বুঝিয়ে দিয়ে সে তাদের প্রজন্মের দূরত্ব কমাতেও সাহায্য করেছে।
লেনা ও কিয়েটিলের সম্পর্ক এখন দুই বছর পেরিয়ে গেছে। সম্প্রতি তারা নরওয়ের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় শহর স্টাভানগারের কাছে একটি বাড়িও কিনেছেন। কিয়েটিলের পরিবার ও বন্ধুরা এই সম্পর্ককে সহজভাবে গ্রহণ করেছে। লেনা অবশ্য শুরুতে ভয় পাচ্ছিলেন যে কিয়েটিলের পরিবার হয়তো বয়স্ক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি ভালোভাবে নেবে না।
তবে কিয়েটিলের বন্ধুরা বিষয়টি বুঝতে পেরেছে এবং তার বাবা-মা লেনা ও তার মেয়েকে পরিবারে স্বাগত জানিয়েছেন। কিয়েটিল স্পষ্ট জানান, কেউ যদি তাদের সম্পর্ক নিয়ে উপহাস বা সমালোচনা করত, তবে তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব ছিন্ন করতেও তিনি দ্বিধা করতেন না।
লেনার মতে, কিয়েটিলের শান্ত স্বভাব ও স্থির মানসিকতা তার নিজের আবেগপ্রবণতা ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে দারুণ ভূমিকা রাখে। লেনা কিছুটা কর্তৃত্বপরায়ণ হলেও কখনো কখনো মনে হয় কিয়েটিলই তার চেয়ে বেশি পরিপক্ব, আর তিনি নিজে কিছুটা শিশুসুলভ।
তবে বয়সের এই ১৫ বছরের ব্যবধানের কারণে শুধু সামাজিক কুসংস্কারই নয়, আরো কিছু বাস্তবমুখী বিষয় নিয়েও এই দম্পতিকে ভাবতে হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে দুজনের ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা, সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং ভবিষ্যতে বার্ধক্যজনিত কারণে দ্রুত সেবা-যত্নের প্রয়োজন হলে তার প্রভাব কী হতে পারে।
নেটফ্লিক্সে ‘এইজ অব অ্যাট্রাকশন’ নামের একটি রিয়ালিটি শো প্রিমিয়ারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিষয়গুলো নতুন করে আলোচনায় আসে। ওই অনুষ্ঠানে ৪০ জন অবিবাহিত ব্যক্তি একে অপরের প্রেমে পড়ার পর জানতে পারেন যে তাদের মধ্যে বয়সের বড় ব্যবধান রয়েছে।
লেনা ও কিয়েটিল তাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে যে বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন, তা হলো আর্থিক পরিকল্পনা।
নতুন বাড়ি কেনার সময় তারা সিদ্ধান্ত নেন যে স্বল্পমেয়াদে লেনা সম্পত্তিতে বেশি অর্থ দেবেন, কারণ তিনি কিয়েটিলের আগে অবসরে যাবেন। কিয়েটিল শুরুতে গৃহঋণে কম অবদান রাখলেও, তিনি যখন অবসরে পৌঁছাবেন, ততক্ষণে সম্পত্তিতে দুজনের অবদান সমান হয়ে যাবে。
সম্পর্ক বিষয়ক মনোরোগ-চিকিৎসক সারা লুইস রায়ান জানান, বয়সের ব্যবধান থাকা দম্পতিদের ক্ষেত্রে এমন আর্থিক ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করা কঠিন হলেও এটি অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, সম্পর্কের শুরুর দিকে অনেক বেশি আবেগ, উত্তেজনা ও প্রাণবন্ততা থাকে।
কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জীবনের বিভিন্ন ধাপের পার্থক্যগুলো আর এড়িয়ে যাওয়া যায় না, যা সম্পর্কে বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে।
তাই রায়ান পরামর্শ দেন, এই ধরনের দম্পতিদের অর্থ ও সময়—উভয় দিক থেকেই যৌক্তিক একটি অবসর পরিকল্পনা থাকা উচিত, যেখানে বয়স বাড়ার পর একে অপরের যত্ন নেওয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এ প্রসঙ্গে লেনা আশা প্রকাশ করেন যে তিনি দীর্ঘকাল সুস্বাস্থ্যের অধিকারী থাকবেন এবং কিয়েটিলকে তাকে দেখতে দীর্ঘ সময় নার্সিং হোমে যেতে হবে না।
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬: ১০আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬: ১২





























