ইরান যুদ্ধের উত্তাপের মধ্যে মিশরে পা রাখলেন শি জিনপিং
- আপডেট সময় : ১০:২৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা সমীকরণ যখন নতুন রূপ নিচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে মিশর সফরে গেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। গত এক দশকের মধ্যে এটিই তার প্রথম মিশর সফর। আঞ্চলিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নির্ভরতা নিয়ে যখন নানা প্রশ্ন উঠছে, তখনই বেইজিংয়ের শীর্ষ নেতার এই সফর অনুষ্ঠিত হলো।
মঙ্গলবার কায়রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চীনের প্রেসিডেন্টকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দিয়ে স্বাগত জানান মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। এটি শি জিনপিংয়ের চলতি বছরের দ্বিতীয় বিদেশ সফরের দ্বিতীয় পর্ব। এর আগে কিরগিজস্তানে অনুষ্ঠিত সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলনে যোগ দিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
মিশরের রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র আল-আহরামে প্রকাশিত এক নিবন্ধে প্রেসিডেন্ট সিসি উল্লেখ করেছেন যে, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় গ্লোবাল সাউথের ভূমিকাকে শক্তিশালী করতে মিশর ও চীন একযোগে কাজ করছে। অন্যদিকে, চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ায় প্রকাশিত নিবন্ধে শি জিনপিং দুই দেশকে সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে পরস্পরের পাশে দাঁড়ানো ঘনিষ্ঠ ভাই হিসেবে অভিহিত করেছেন।
কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে কায়রো এখন ওয়াশিংটনের পাশাপাশি বেইজিং, মস্কো ও ইউরোপের সঙ্গে বহুমুখী সম্পর্ক স্থাপনের দিকে ঝুঁকছে। বিশেষ করে গাজা ও ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সংশয় দেখা দেওয়ায় মিশর এই নীতি গ্রহণ করেছে। উল্লেখ্য, মিশর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বছরে প্রায় ১৩০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা পেয়ে থাকে। তবে গত মাসেই তারা চীনের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া পরিচালনা করেছে। সেই মহড়ায় প্রথমবারের মতো আফ্রিকায় চীনের তৈরি জে-১৬ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছিল, যা ফরাসি রাফায়েল যুদ্ধবিমানের সঙ্গে ডগফাইট মহড়ায় অংশ নেয়।
ইসরাইল, সুদান ও লিবিয়ার সঙ্গে সীমান্ত এবং সুয়েজ খালের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথের নিয়ন্ত্রক হওয়ায় মিশরকে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান কৌশলগত কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেইজিং মিশরের উৎপাদন খাত, বন্দর, সৌরশক্তি ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তিতে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফিলিস্তিন-ইসরাইল সংকট এবং আফ্রিকা ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ইস্যুগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে থাকায় বেইজিং সফরের জন্য মিশরকে বেছে নিয়েছে। চলতি মাসের শেষ দিকে শি জিনপিংয়ের ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে।





























