জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতায় নেপালে বিপর্যয়, আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান
- আপডেট সময় : ০১:২০:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

গত সপ্তাহে হিমালয় অঞ্চলে সংঘটিত ভয়াবহ বন্যাকে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ কেবল একটি সাধারণ প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব হিসেবে অভিহিত করেছেন। চীন-নেপাল সীমান্তে একটি হিমবাহ ধসে পড়ার ফলে বরফশীতল পানি ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল ঢল নেমে আসে, যা পুরো অঞ্চলে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি বয়ে আনে। এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯৩৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছে।
সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বলেন, রাসুয়া এলাকার ভোতে কোশি নদীর এই বন্যা ছিল হিমালয় অঞ্চলের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। তিনি ব্যাখ্যা করেন, হিমালয় অঞ্চলে তুষার ও বরফের বিশাল স্তর ধসে পড়ার কারণেই এই বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। যদিও হিমবাহ ধসের সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে, তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হিমালয়ের বরফ আগের চেয়ে দ্রুত গলছে, যা এ ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ঘটনাটি হিমালয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির একটি সতর্কবার্তা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নেপালের মতো দেশ, যারা বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে নগণ্য ভূমিকা রাখে, তারা আজ জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের বড় মাশুল গুনছে। পুনর্গঠন কাজের জন্য দেশটিকে কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হতে পারে বলে জানিয়েছে কাঠমান্ডু। এই পরিস্থিতিতে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার এবং নেপালের দাবিগুলো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জোরালোভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন।
এর আগে ২০২৩ সালে নেপাল সফরের সময় জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করেছিলেন যে হিমালয় অঞ্চলের হিমবাহ দ্রুত গলে যাচ্ছে এবং ‘পৃথিবীর ছাদ ধসে পড়ছে’। বুধবারের এই ভয়াবহ দুর্যোগের পর জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক প্রধান সাইমন স্টিয়েল মন্তব্য করেছেন, এই ঘটনা পাহাড়ি পরিবেশ কতটা নাজুক হতে পারে, তার একটি ভয়াবহ স্মারক।



























