ঢাকা ১২:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: রাষ্ট্রপতি সৌদি বিমানবন্দরে ১০৭ ফ্লাইট বাতিল, আটকা সাড়ে ১৬ হাজার যাত্রী তরুণদের বিক্ষোভে মোদির ভাবমূর্তি চ্যালেঞ্জের মুখে, বাড়ছে রাজনৈতিক আলোচনা টিআইবি: ক্ষমতার রাজনীতি ও আমলাতান্ত্রিক দুষ্টচক্রে জিম্মি রাষ্ট্রসংস্কার দিল্লিতে জাতীয় পতাকা মিছিলের আগে অভিজিৎ ও নেহা আটক দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা: ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার গোয়ালঘর নিয়ে বিরোধ: বড় ভাইয়ের পিটুনিতে ছোট ভাইয়ের মৃত্যু, গাইবান্ধায় চাঞ্চল্য ‘তেরঙ্গা ওড়াও’ কর্মসূচির আগে অভিজিৎ দীপকে ও নেহা বোরা আটক ক্রিকেটের নতুন ফরম্যাট টেস্ট টুয়েন্টি: এক দিনে ৮০ ওভারের লড়াই শ্রীপুরে পরিত্যক্ত বোতল বিস্ফোরণে ব্যবসায়ীর হাতের আঙুল ঝলসে গেল

পারস্পরিক স্বার্থ ও গঙ্গা চুক্তি নবায়ন নিয়ে ভারতের নতুন বার্তা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:৪১:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে পারস্পরিক স্বার্থ ও সমঝোতার ওপর জোর দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। একই সঙ্গে, চলতি বছরের ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া ঐতিহাসিক গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের ক্ষেত্রে বিহার রাজ্যের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ ও স্বার্থ বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

ইকোনমিক টাইমস ওয়ার্ল্ড লিডার্স ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে জয়শঙ্কর বলেন, একটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক তখনই সফল হয় যখন উভয় পক্ষের স্বার্থের সমন্বয় ঘটিয়ে একটি ‘অভিন্ন জায়গা’ বা সমঝোতার ক্ষেত্র তৈরি করা যায়। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন, কোনো পক্ষই কেবল নিজের স্বার্থ অনুযায়ী অন্য দেশের কাছ থেকে সবকিছু আশা করতে পারে না। বাংলাদেশ থেকে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের দাবি এবং বিএনপি নেতা তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও, তিনি পারস্পরিক স্বার্থকে সম্মান জানানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জয়শঙ্কর বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বর্তমান বিশ্বের অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও সংঘাতের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কোনো একক উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না থেকে বহুমুখী সম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে ঝুঁকি কমানো (ডি-রিস্কিং) জরুরি। বিশেষ করে জ্বালানি ও সারের বাজারে সাম্প্রতিক অস্থিরতার উদাহরণ দিয়ে তিনি দূরদর্শী সিদ্ধান্তের আহ্বান জানান। এছাড়া, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে চীনের সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনা এবং পরবর্তীতে সীমান্তে শান্তি বজায় রেখে অর্থনৈতিক সহযোগিতার সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

এদিকে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার ১৯৯৬ সালের গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের সময় ঘনিয়ে আসায় নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় কুমার চৌধুরী জানিয়েছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ফারাক্কা ব্যারাজ ও গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের সময় বিহারের স্বার্থ ও উদ্বেগের বিষয়গুলো বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন। গত শুক্রবার নয়াদিল্লিতে জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী, উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় কুমার এবং জেডিইউর রাজ্যসভা সদস্য সঞ্জয় কুমার ঝা। বৈঠকে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনসহ পররাষ্ট্র ও জলশক্তি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে নেপালে কোশী ও অন্যান্য নদীর ওপর প্রস্তাবিত উচ্চস্তরের জলাধার ও বাঁধ নির্মাণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। এ সময় ২০০৪ (2004) সালে নেপালের বিরাটনগরে প্রতিষ্ঠিত জয়েন্ট প্রজেক্ট অফিসে (জেপিও) বিহারের প্রতিনিধি রাখারও আশ্বাস দেন জয়শঙ্কর।

১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদি এই গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। চুক্তির নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ফারাক্কার পানি দুই দেশের মধ্যে ভাগ করা হয়। ফরাক্কায় পানির প্রবাহ ৭০ হাজার কিউসেক বা তার কম হলে উভয় দেশ সমান ভাগ পায়। প্রবাহ ৭৫ হাজার কিউসেক বা তার বেশি হলে ভারত পায় ৪০ হাজার কিউসেক এবং বাকিটা পায় বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে থাকা ৫৪টি অভিন্ন নদীর মধ্যে কেবল গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়েই আনুষ্ঠানিক চুক্তি রয়েছে। তিস্তা চুক্তিটি পশ্চিমবঙ্গের বিরোধিতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে।

বিহারের ক্ষমতাসীন দল জেডিইউর সংসদ সদস্য সঞ্জয় ঝা এই চুক্তি নবায়নের তীব্র বিরোধিতা করে দাবি করেছেন, ১৯৯৬ সালে চুক্তি সইয়ের সময় বিহারের স্বার্থ সম্পূর্ণ উপেক্ষিত হয়েছিল। তার মতে, ফারাক্কা ব্যারেজের কারণে গঙ্গার ধারণক্ষমতা কমে যাওয়ায় বিহারে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশকে ১,৫০০ কিউসেক পানি দেওয়ার শর্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ওই সময়ে বিহারে গঙ্গার প্রবাহ থাকে মাত্র ৪০০ কিউসেক, যার ফলে অভ্যন্তরীণ নদীগুলো থেকে বাকি পানি টেনে নেওয়া হয়। ২০৫০ সালের জনসংখ্যা মাথায় রেখে বিহারের কৃষি ও খাবার পানির চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

পারস্পরিক স্বার্থ ও গঙ্গা চুক্তি নবায়ন নিয়ে ভারতের নতুন বার্তা

আপডেট সময় : ১১:৪১:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে পারস্পরিক স্বার্থ ও সমঝোতার ওপর জোর দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। একই সঙ্গে, চলতি বছরের ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া ঐতিহাসিক গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের ক্ষেত্রে বিহার রাজ্যের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ ও স্বার্থ বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

ইকোনমিক টাইমস ওয়ার্ল্ড লিডার্স ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে জয়শঙ্কর বলেন, একটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক তখনই সফল হয় যখন উভয় পক্ষের স্বার্থের সমন্বয় ঘটিয়ে একটি ‘অভিন্ন জায়গা’ বা সমঝোতার ক্ষেত্র তৈরি করা যায়। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন, কোনো পক্ষই কেবল নিজের স্বার্থ অনুযায়ী অন্য দেশের কাছ থেকে সবকিছু আশা করতে পারে না। বাংলাদেশ থেকে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের দাবি এবং বিএনপি নেতা তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও, তিনি পারস্পরিক স্বার্থকে সম্মান জানানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জয়শঙ্কর বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বর্তমান বিশ্বের অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও সংঘাতের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কোনো একক উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না থেকে বহুমুখী সম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে ঝুঁকি কমানো (ডি-রিস্কিং) জরুরি। বিশেষ করে জ্বালানি ও সারের বাজারে সাম্প্রতিক অস্থিরতার উদাহরণ দিয়ে তিনি দূরদর্শী সিদ্ধান্তের আহ্বান জানান। এছাড়া, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে চীনের সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনা এবং পরবর্তীতে সীমান্তে শান্তি বজায় রেখে অর্থনৈতিক সহযোগিতার সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

এদিকে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার ১৯৯৬ সালের গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের সময় ঘনিয়ে আসায় নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় কুমার চৌধুরী জানিয়েছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ফারাক্কা ব্যারাজ ও গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের সময় বিহারের স্বার্থ ও উদ্বেগের বিষয়গুলো বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন। গত শুক্রবার নয়াদিল্লিতে জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী, উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় কুমার এবং জেডিইউর রাজ্যসভা সদস্য সঞ্জয় কুমার ঝা। বৈঠকে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনসহ পররাষ্ট্র ও জলশক্তি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে নেপালে কোশী ও অন্যান্য নদীর ওপর প্রস্তাবিত উচ্চস্তরের জলাধার ও বাঁধ নির্মাণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। এ সময় ২০০৪ (2004) সালে নেপালের বিরাটনগরে প্রতিষ্ঠিত জয়েন্ট প্রজেক্ট অফিসে (জেপিও) বিহারের প্রতিনিধি রাখারও আশ্বাস দেন জয়শঙ্কর।

১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদি এই গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। চুক্তির নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ফারাক্কার পানি দুই দেশের মধ্যে ভাগ করা হয়। ফরাক্কায় পানির প্রবাহ ৭০ হাজার কিউসেক বা তার কম হলে উভয় দেশ সমান ভাগ পায়। প্রবাহ ৭৫ হাজার কিউসেক বা তার বেশি হলে ভারত পায় ৪০ হাজার কিউসেক এবং বাকিটা পায় বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে থাকা ৫৪টি অভিন্ন নদীর মধ্যে কেবল গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়েই আনুষ্ঠানিক চুক্তি রয়েছে। তিস্তা চুক্তিটি পশ্চিমবঙ্গের বিরোধিতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে।

বিহারের ক্ষমতাসীন দল জেডিইউর সংসদ সদস্য সঞ্জয় ঝা এই চুক্তি নবায়নের তীব্র বিরোধিতা করে দাবি করেছেন, ১৯৯৬ সালে চুক্তি সইয়ের সময় বিহারের স্বার্থ সম্পূর্ণ উপেক্ষিত হয়েছিল। তার মতে, ফারাক্কা ব্যারেজের কারণে গঙ্গার ধারণক্ষমতা কমে যাওয়ায় বিহারে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশকে ১,৫০০ কিউসেক পানি দেওয়ার শর্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ওই সময়ে বিহারে গঙ্গার প্রবাহ থাকে মাত্র ৪০০ কিউসেক, যার ফলে অভ্যন্তরীণ নদীগুলো থেকে বাকি পানি টেনে নেওয়া হয়। ২০৫০ সালের জনসংখ্যা মাথায় রেখে বিহারের কৃষি ও খাবার পানির চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin