অর্থনৈতিক সংকটের কথা স্বীকার করলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান
- আপডেট সময় : ১১:৩১:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্বীকার করেছেন যে, তার দেশের জনগণ বর্তমানে ‘অনেক সমস্যার’ মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। রোববার (২৩ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে এক ‘পূর্ণমাত্রার অর্থনৈতিক, সামরিক ও নিরাপত্তা যুদ্ধে’ ঠেলে দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের একের পর এক নিষেধাজ্ঞার কারণে তেহরানের অর্থনীতি বর্তমানে বড় চাপের মুখে রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, তিনি দেশের বর্তমান পরিস্থিতির গভীরতা সম্পর্কে সচেতন। তার সরকার মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং বেকারত্বের মতো সমস্যাগুলো মোকাবিলার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে, যাতে ইরানের জনগণ মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানে অর্থনৈতিক সংকট ও মুদ্রার মান পড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে একাধিক বড় বিক্ষোভ হয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিরুদ্ধে শুরু হওয়া আন্দোলন একপর্যায়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়। সেই অস্থিরতার সময় ৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তারা এই সহিংসতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করে আসছে। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এনজিওর দাবি, কর্তৃপক্ষের দমন-পীড়নে নিহতের সংখ্যা হাজারো।
এদিকে গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্যের একদিন পরই মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে ইতিহাসের ‘সবচেয়ে কঠোর’ নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিতে পারেন। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের কট্টরপন্থী নেতা মোহসেন রেজাই সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো দেশ যদি যুক্তরাষ্ট্রের এই ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধে’ সহযোগিতা করে, তবে তাদের শত্রু হিসেবে গণ্য করা হবে। রেজাই আরও হুমকি দেন যে, হরমুজ প্রণালির বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত তেল পরিবহন রুটগুলোতে হামলা চালানো হতে পারে এবং এসব দেশের স্বার্থে আঘাত করা হবে।


























