গোপনীয়তা মামলায় হার, হ্যারিসহ ৭ তারকার ওপর ৫৭৫ কোটি টাকার বোঝা
- আপডেট সময় : ১০:৫৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

গোপনীয়তা লঙ্ঘন সংক্রান্ত একটি মামলায় বড় অঙ্কের আইনি খরচের মুখে পড়েছেন প্রিন্স হ্যারিসহ সাত তারকা। ডেইলি মেইলের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অ্যাসোসিয়েটেড নিউজপেপার্স লিমিটেডের (এএনএল) বিরুদ্ধে দায়ের করা এই মামলায় হেরে যাওয়ার পর, এখন তাঁদের প্রতিপক্ষের আইনি খরচ বাবদ সর্বোচ্চ ৩ কোটি ৪৫ লাখ পাউন্ড বিল পরিশোধ করতে হতে পারে। ১ পাউন্ড সমান ১৬৬ টাকা হিসাবে এই অর্থের পরিমাণ ৫৭৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকার বেশি।
শুক্রবার যুক্তরাজ্যের হাইকোর্টের একজন বিচারপতি আইনি ব্যয় নিয়ে এই ব্যতিক্রমী আদেশ দেন। এই মামলার সাত বাদীর মধ্যে প্রিন্স হ্যারি ছাড়াও রয়েছেন গায়ক এলটন জন, এলটনের স্বামী ডেভিড ফার্নিশ, অভিনেত্রী লিজ হার্লি ও স্যাডি ফ্রস্ট, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সাবেক উপনেতা সাইমন হিউজেস এবং অধিকারকর্মী ব্যারনেস লরেন্স। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তাঁদের আগামী শুক্রবারের মধ্যে প্রাথমিকভাবে এএনএল-কে ৯৫ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ড পরিশোধ করতে হবে।
বিচারপতি নিকলিন গত ৭ জুলাই ডেইলি মেইলের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে তথ্য সংগ্রহের অভিযোগসংক্রান্ত বাদীদের দাবিগুলো খারিজ করে দিয়েছিলেন। যদিও এএনএল শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিল। মামলার রায়ে বিচারপতি বাদীদের দাবি উপস্থাপনের পদ্ধতির সমালোচনা করে সেটিকে ‘অত্যন্ত মাত্রায় অযৌক্তিক’ বলে অভিহিত করেন। এটি এমন একটি বিরল ঘটনা যেখানে বাদীদের সম্মত হওয়া খরচের চেয়ে অনেক বেশি অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে।
আদালত প্রিন্স হ্যারি ও অন্য ছয় বাদীকে আপিল করার জন্য আগামী ২ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দিয়েছেন। মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, হারলে আইনি খরচ বাবদ সর্বোচ্চ ১ কোটি ৬২ লাখ পাউন্ড পরিশোধের জন্য তাঁদের বিমা করা ছিল। তবে এএনএল জানিয়েছে, নিজেদের পক্ষে মামলা লড়তে তাদের ৩ কোটি ৪৫ লাখ পাউন্ড খরচ হয়েছে। শুক্রবারের রায়ের ফলে তারা পুরো অর্থই আদায়ের চেষ্টা করতে পারে, যার অর্থ প্রিন্স হ্যারি ও অন্যদের পকেট থেকে বিমার অর্থের বাইরে আরও প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড গুনতে হতে পারে।
বিচারপতি এ বিষয়ে মন্তব্য করেন যে, ৩ কোটি ৪০ লাখ পাউন্ডের বেশি আইনি খরচের দাবিটি আপাতদৃষ্টিতে অতিরিক্ত মনে হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, দাবিকৃত সব অর্থ সত্যিই যুক্তিসঙ্গতভাবে খরচ হয়েছে কি না। তবে তিনি এএনএল-এর আইনি খরচের ওপর কোনো সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, কারণ তাঁর মতে, এমন সীমা নির্ধারণ করলে তা ‘অতিরিক্ত সাধারণীকরণ’ হয়ে যেত এবং অন্যায়ের ঝুঁকি থাকত।



























