‘আগে জমি চেয়েও মিলত না, এখন চিঠির আগেই অনুমোদন’: অমিত শাহ
- আপডেট সময় : ১০:৫৫:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র সমালোচনা করেছেন। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের সহযোগিতার অভাবের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, আগের সরকারের কাছে জমি চেয়ে বারবার অনুরোধ করলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর এই পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) শিলিগুড়ির রাণিডাঙায় সশস্ত্র সীমা বলের (এসএসবি) সীমান্ত সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অমিত শাহ এসব কথা বলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার মতো স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রাজ্য সরকারের সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। আগে যেখানে সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য জমি চেয়ে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হতো, এখন কেন্দ্র থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানোর আগেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অনুমোদন চলে আসে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে আসে। ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর যোগাযোগের এই প্রধান করিডরকে আরও শক্তিশালী করতে ৫৬০ একর জমির প্রয়োজন ছিল। অমিত শাহ অভিযোগ করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন পূর্ববর্তী সরকার দীর্ঘ সময় ধরে এই প্রয়োজনীয় জমি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। তবে সরকার পরিবর্তনের পর এই জমি হস্তান্তরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এই সহযোগিতার জন্য বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানান অমিত শাহ। একই সঙ্গে শুক্রবারের ওই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর সশরীরে উপস্থিত থাকাকেও তিনি অত্যন্ত ইতিবাচক ও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করেন। শাহ উল্লেখ করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনামলে সরকারি ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়মিত আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি কখনই উপস্থিত থাকতেন না। সেই তুলনায় বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর নিজে উপস্থিত থাকাটা বিশেষভাবে উল্লেখ করার মতো বিষয়।
সীমান্ত নিরাপত্তার আলোচনার পাশাপাশি অমিত শাহের বক্তব্যে জাতীয়তাবাদ এবং দেশের ঐতিহ্যের প্রসঙ্গও স্থান পায়। এ সময় তিনি ‘বন্দেমাতরম’ গানটির পূর্ণাঙ্গ পরিবেশন নিয়ে কথা বলেন। শাহ দাবি করেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ধরে এই গানটি সম্পূর্ণভাবে পরিবেশন করা হয়নি। ভারতের সংসদে গানটি গাওয়া হলেও তা পূর্ণাঙ্গ রূপ না পাওয়ায় তার মতো অনেকের মনেই আক্ষেপ ছিল। তবে দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো ‘বন্দেমাতরম’ গানটি সম্পূর্ণভাবে পরিবেশন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে গানটির যথাযথ মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।




























