ঢাকা ০৬:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কাজের মাধ্যমে ‘ছায়া সিটি করপোরেশন’ গড়ার ঘোষণা সেলিম উদ্দিনের নাটোর ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসার অভিযোগ আ.লীগকে ফেরাতে জামায়াত রাজনীতি ঘোলাটে করছে: ডিএসসিসি প্রশাসক নকলায় শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল কিশোরীর জবি সাংবাদিকতা অ্যালামনাইয়ের নেতৃত্বে নজরুল-রাজু মহেশপুর সীমান্তে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের সময় ৪ বাংলাদেশী আটক নেপালে হিমবাহ ধসে নিহত বেড়ে ৫৪৭, নিখোঁজ ৫১৭ বিদেশি শুটিং শুরুর ঠিক আগে প্রিয়াঙ্কার ‘রিসেট’ সিনেমা ছাড়লেন অরল্যান্ডো ব্লুম ৬ মাস ধরে জনসমক্ষে নেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি, বাড়ছে সংশয় শিশুর যত্নে সবচেয়ে পিছিয়ে বাবারা, অংশ নেন মাত্র ৭ শতাংশ

উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র নিয়ে সিউল ও ওয়াশিংটনের তথ্যে বড় অমিল

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:০১:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা নিয়ে ওয়াশিংটন ও সিউলের তথ্যের মধ্যে বড় ধরনের অমিল দেখা গেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার অনুমান অনুযায়ী, পিয়ংইয়ংয়ের কাছে বর্তমানে ৮০ থেকে ১২০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-বেক গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) পার্লামেন্টারি কমিটিতে এই তথ্য জানিয়েছেন বলে আল আরাবিয়ার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার দেওয়া এই সংখ্যাটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবির চেয়ে অনেক বেশি। সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে এক আলোচনায় ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, উত্তর কোরিয়ার কাছে ৫৭টি ‘অত্যন্ত শক্তিশালী পারমাণবিক অস্ত্র’ রয়েছে। গত বুধবার (১৯ আগস্ট) কিম জং উনের সঙ্গে চলতি বছরের শেষের দিকে সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে আলোচনার সময় ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন দাবির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সংক্ষেপে বলেন, ‘সংখ্যায় কিছুটা ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে।’ তবে তিনি এ বিষয়ে অতিরিক্ত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অবশ্য প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-বেক পরে স্পষ্ট করেছেন যে, সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন এবং তাদের এই হিসাবটি মূলত বিভিন্ন বেসরকারি গবেষণা সংস্থার অনুমানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে এই সংখ্যার সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, সিউল উত্তর কোরিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। দীর্ঘদিনের পরমাণুমুক্তকরণ নীতির অংশ হিসেবেই এই অবস্থান বজায় রাখা হয়েছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও জানান, দক্ষিণ কোরিয়া নিরাপত্তার জন্য মার্কিন পারমাণবিক ছাতার ওপরই নির্ভর করে যাবে। তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেরা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারি না এবং মার্কিন কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র পুনঃমোতায়েন গ্রহণ করাও আমাদের উচিত হবে না।’

এমন এক সময়ে এই তথ্য সামনে এলো যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে পুনরায় কূটনৈতিক যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করছেন। এর অংশ হিসেবে তিনি যৌথ মার্কিন-দক্ষিণ কোরিয়া সামরিক মহড়ার পরিধি কমিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন, যেটিকে তিনি নিজে উত্তর কোরিয়ার প্রতি ‘শত্রুতামূলক’ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তবে ওয়াশিংটনের এই উদ্যোগে পিয়ংইয়ং তেমন একটা উৎসাহ দেখায়নি। কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং মন্তব্য করেছেন যে, মহড়ার পরিধি কমানো হলেও এটি মূলত উসকানিমূলক এবং আক্রমণাত্মকই রয়ে গেছে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ ও ২০১৯ সালে ট্রাম্প ও কিমের মধ্যে একাধিক ঐতিহাসিক শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে উত্তর কোরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং তাদের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করার বিষয়ে দুই দেশের দ্বিমতের কারণে কূটনৈতিক আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ে। ট্রাম্প চলতি বছরের শেষের দিকে সেই আলোচনা আবারও শুরু করতে আগ্রহী।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor

নিউজটি শেয়ার করুন

উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র নিয়ে সিউল ও ওয়াশিংটনের তথ্যে বড় অমিল

আপডেট সময় : ০৭:০১:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা নিয়ে ওয়াশিংটন ও সিউলের তথ্যের মধ্যে বড় ধরনের অমিল দেখা গেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার অনুমান অনুযায়ী, পিয়ংইয়ংয়ের কাছে বর্তমানে ৮০ থেকে ১২০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-বেক গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) পার্লামেন্টারি কমিটিতে এই তথ্য জানিয়েছেন বলে আল আরাবিয়ার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার দেওয়া এই সংখ্যাটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবির চেয়ে অনেক বেশি। সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে এক আলোচনায় ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, উত্তর কোরিয়ার কাছে ৫৭টি ‘অত্যন্ত শক্তিশালী পারমাণবিক অস্ত্র’ রয়েছে। গত বুধবার (১৯ আগস্ট) কিম জং উনের সঙ্গে চলতি বছরের শেষের দিকে সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে আলোচনার সময় ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন দাবির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সংক্ষেপে বলেন, ‘সংখ্যায় কিছুটা ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে।’ তবে তিনি এ বিষয়ে অতিরিক্ত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অবশ্য প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-বেক পরে স্পষ্ট করেছেন যে, সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন এবং তাদের এই হিসাবটি মূলত বিভিন্ন বেসরকারি গবেষণা সংস্থার অনুমানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে এই সংখ্যার সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, সিউল উত্তর কোরিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। দীর্ঘদিনের পরমাণুমুক্তকরণ নীতির অংশ হিসেবেই এই অবস্থান বজায় রাখা হয়েছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও জানান, দক্ষিণ কোরিয়া নিরাপত্তার জন্য মার্কিন পারমাণবিক ছাতার ওপরই নির্ভর করে যাবে। তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেরা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারি না এবং মার্কিন কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র পুনঃমোতায়েন গ্রহণ করাও আমাদের উচিত হবে না।’

এমন এক সময়ে এই তথ্য সামনে এলো যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে পুনরায় কূটনৈতিক যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করছেন। এর অংশ হিসেবে তিনি যৌথ মার্কিন-দক্ষিণ কোরিয়া সামরিক মহড়ার পরিধি কমিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন, যেটিকে তিনি নিজে উত্তর কোরিয়ার প্রতি ‘শত্রুতামূলক’ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তবে ওয়াশিংটনের এই উদ্যোগে পিয়ংইয়ং তেমন একটা উৎসাহ দেখায়নি। কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং মন্তব্য করেছেন যে, মহড়ার পরিধি কমানো হলেও এটি মূলত উসকানিমূলক এবং আক্রমণাত্মকই রয়ে গেছে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ ও ২০১৯ সালে ট্রাম্প ও কিমের মধ্যে একাধিক ঐতিহাসিক শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে উত্তর কোরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং তাদের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করার বিষয়ে দুই দেশের দ্বিমতের কারণে কূটনৈতিক আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ে। ট্রাম্প চলতি বছরের শেষের দিকে সেই আলোচনা আবারও শুরু করতে আগ্রহী।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor