সৌদি পাঠ্যবই থেকে বাদ গেল ‘মুসলমানরা কখনো জেরুজালেম ছাড়বে না’
- আপডেট সময় : ০৮:২৩:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ ৫৫ বার পড়া হয়েছে

সৌদি আরবের স্কুলের পাঠ্যক্রম থেকে ‘মুসলমানরা কখনো জেরুজালেম ছাড়বে না’ বাক্যটি বাদ দেওয়া হয়েছে। দেশটির শিক্ষাব্যবস্থায় সাম্প্রতিক সময়ে ইসরাইল, ইহুদি এবং জেরুজালেম সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে যে পরিবর্তন আনা হচ্ছে, তারই ধারাবাহিকতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ইসরাইলভিত্তিক পাঠ্যক্রম পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘ইমপ্যাক্ট-সী’ সৌদি আরবের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইগুলো পর্যালোচনা করে এই পরিবর্তনের তথ্য সামনে এনেছে। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একাদশ শ্রেণির আরবি ভাষার বইয়ের ২০২৩-২৪ সংস্করণে ‘মুসলমানরা কখনো জেরুজালেম ছাড়বে না’ বাক্যটি অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে পরবর্তী সংস্করণ অর্থাৎ ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের বই থেকে এই বাক্যটি পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে।
শুধু জেরুজালেমকেন্দ্রিক বক্তব্যই নয়, সৌদি পাঠ্যবইয়ে ইসরাইল ও ইহুদিদের নির্দেশ করতে ব্যবহৃত কিছু শব্দ ও পরিভাষাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। যেমন, কিছু জায়গায় ‘জায়নবাদী শত্রু’ শব্দগুচ্ছের পরিবর্তে ‘ইসরাইলি দখলদারত্ব’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া বেশ কিছু মানচিত্র থেকে ফিলিস্তিনের নাম সরিয়ে দেওয়া হয়েছে অথবা নির্দিষ্ট কিছু এলাকাকে নামহীন রাখা হয়েছে।
একই সঙ্গে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় ও সংখ্যালঘু গোষ্ঠী সম্পর্কে আগের সংস্করণে থাকা কিছু কঠোর ভাষাও বাদ বা পরিবর্তন করা হয়েছে। ইমপ্যাক্ট-সী দাবি করেছে, এসব পরিমার্জনের মাধ্যমে সৌদি আরবের পাঠ্যক্রমে মূলত সহাবস্থান, সহনশীলতা ও মধ্যপন্থার ওপর বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি এটিও উল্লেখ করেছে যে, এখনো কিছু বিতর্কিত বিষয় পাঠ্যবইয়ে রয়ে গেছে।
সৌদি আরবের পাঠ্যবইয়ের এই পরিবর্তনগুলো নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে, ইসরাইলের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার যে কূটনৈতিক গুঞ্জন চলছে, তার সঙ্গে এই পরিবর্তনের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে পর্যবেক্ষকরা বিশ্লেষণ করছেন।
অবশ্য রিয়াদের পক্ষ থেকে এখনো প্রকাশ্যে বলা হচ্ছে যে, একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং পূর্ব জেরুজালেমকে তার রাজধানী করার নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত তারা ইসরাইলের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করবে না। ফলে পাঠ্যবইয়ের এই পরিবর্তনকে সরাসরি সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন না অনেক বিশ্লেষক। তবে দীর্ঘদিনের কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসে পাঠ্যবইয়ের এই পরিমার্জন রাজনৈতিকভাবে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলে দেবে।




























