ঢাকা ০৯:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন আরও ১৭৪ বাংলাদেশি ইরানের সঙ্গে সমঝোতা আর বাড়াতে আগ্রহী নন ট্রাম্প হরমুজ নিয়ে উত্তেজনা: যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াবে না যুক্তরাষ্ট্র সাটুরিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধে সাবেক ইউপি সদস্যের বাড়ি ভাঙচুর দুদকের নতুন চেয়ারম্যান হলেন বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান নারী এশিয়া কাপ ও এশিয়ান গেমসের জন্য বাংলাদেশ দল ঘোষণা দক্ষিণ চীন সাগরে ৪ দিন বিদ্যুৎহীন ছিল মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস বেনফোল্ড মুরাদনগরে মায়ের অজান্তে ৫০ হাজার টাকায় শিশু বিক্রি, ফিরে পাওয়ার আকুতি ডারউইন টেস্টে অসামান্য হাসান মাহমুদ, মনে রাখার মতো এক জয় ঐতিহাসিক জয়ে টাইগারদের অভিনন্দন জানাল মন্ত্রিসভা

দক্ষিণ চীন সাগরে ৪ দিন বিদ্যুৎহীন ছিল মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস বেনফোল্ড

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০৩:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গত মাসে দক্ষিণ চীন সাগরে চরম বিপত্তির মুখে পড়েছিল মার্কিন নৌবাহিনীর একটি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ। গাইড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস বেনফোল্ড টানা চার দিন সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় ছিল। এই সময়ে প্রায় ১০ হাজার টন ওজনের এই যুদ্ধজাহাজটির শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, শৌচাগার ও রান্নাঘরসহ সব ধরনের জরুরি সেবা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে। চরম গরমের মধ্যে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় জাহাজটির কয়েকশ নাবিককে।

মার্কিন ৭ম নৌবহরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৪ জুলাই ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার সময় আরলেই বার্ক শ্রেণীর এই ডেস্ট্রয়ারটির জেনারেটরে ‘প্রকৌশলগত ত্রুটি’ দেখা দেয়। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর জাহাজটি সাগরে নিজে থেকে চলার সক্ষমতাও হারিয়ে ফেলে। একই সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায় খাবার পানি সরবরাহও। তবে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় কোনো নাবিক হতাহত হননি বলে নিশ্চিত করেছেন ৭ম নৌবহরের মুখপাত্র কমান্ডার ম্যাথিউ কোমার। সিএনএনকে তিনি বলেন, চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও নাবিকরা অত্যন্ত পেশাদারত্ব, দৃঢ়তা ও ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ইউএসএনআই নিউজ প্রথম এই ঘটনাটি সামনে আনে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনাটি দক্ষিণ চীন সাগরে ঘটেছিল। জুলাইয়ের শেষ দিকে ওই অঞ্চলে দিনের তাপমাত্রা ছিল গড়ে ৩২ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৮৯ থেকে ৯৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট)। এমন তীব্র গরমে এসি ও বিদ্যুৎ ছাড়া চার দিন পার করা নাবিকদের জন্য কতটা দুঃসহ ছিল, তা উঠে এসেছে সামরিক বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যে।

মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক ক্যাপ্টেন কার্ল শুস্টার নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, সাগরে বিদ্যুৎহীন পরিস্থিতি চরম মানসিক চাপের সৃষ্টি করে। একবার পুয়ের্তো রিকোর কাছে একটি ডেস্ট্রয়ারে মাত্র চার ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকার অভিজ্ঞতাই ছিল অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সে সময় অপারেশন কর্মকর্তারা নাবিকদের মনোবল নিয়ে চিন্তিত থাকেন, প্রকৌশলীরা সমস্যা সমাধানে ব্যস্ত থাকেন এবং নেভিগেটররা জাহাজ কোন দিকে ভেসে যাচ্ছে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন। তাঁর মতে, পুয়ের্তো রিকোর দক্ষিণ-পূর্ব সমুদ্রসীমায় চার ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকার চাপ দক্ষিণ চীন সাগরে চার দিন এমন অবস্থায় থাকার তুলনায় কিছুই নয়।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ওই চার দিন বেনফোল্ডকে সহায়তায় এগিয়ে আসে মার্কিন নৌবাহিনীর অন্য জাহাজগুলো। জাপানে অবস্থানরত ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের জাহাজগুলোর পাশাপাশি ইউএসএস রবার্ট স্মলস নামের আরেকটি যুদ্ধজাহাজ বেনফোল্ডের নাবিকদের জন্য রান্না করা খাবার সরবরাহ করে। পরে বিকল জাহাজটিকে টেনে ফিলিপাইনের সুবিক বে-তে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মেরামত কাজ শেষে গত ৮ আগস্ট জাহাজটি আবার নিজের দায়িত্বে ফিরে যায়।

সাধারণত ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের অংশ হিসেবে কাজ করে ইউএসএস বেনফোল্ড। বর্তমানে জর্জ ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যের দিকে রওনা হয়েছে, যেখানে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন স্ট্রাইক গ্রুপকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে বেনফোল্ডকেও তাদের সঙ্গে ইরানের কাছাকাছি পাঠানো হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করেনি মার্কিন নৌবাহিনী। যদিও জাপানের জাহাজ পর্যবেক্ষকরা বেনফোল্ডকে জাপানে পৌঁছাতে দেখেছেন বলে জানিয়েছে ইউএসএনআই নিউজ।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের এটিই প্রথম ঘটনা নয়। এর আগে গত মে মাসেও ইউএসএস হিগিন্স নামের আরেকটি ডেস্ট্রয়ার কয়েক ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ ও চলাচলের ক্ষমতা হারিয়েছিল। আরলেই বার্ক শ্রেণীর এই ডেস্ট্রয়ারগুলো মার্কিন নৌবাহিনীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধজাহাজ। বর্তমানে এই বহরে এ ধরনের ৭০টিরও বেশি ডেস্ট্রয়ার রয়েছে, যার প্রতিটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৫০০ ফুট এবং ধারণক্ষমতা ৩২৯ থেকে ৩৫৯ জন নাবিক। বিশ্বজুড়ে মার্কিন সামরিক তৎপরতা ও ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মাঝে এ ধরনের কারিগরি ত্রুটি মার্কিন নৌবাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

দক্ষিণ চীন সাগরে ৪ দিন বিদ্যুৎহীন ছিল মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস বেনফোল্ড

আপডেট সময় : ০৯:০৩:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

গত মাসে দক্ষিণ চীন সাগরে চরম বিপত্তির মুখে পড়েছিল মার্কিন নৌবাহিনীর একটি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ। গাইড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস বেনফোল্ড টানা চার দিন সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় ছিল। এই সময়ে প্রায় ১০ হাজার টন ওজনের এই যুদ্ধজাহাজটির শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, শৌচাগার ও রান্নাঘরসহ সব ধরনের জরুরি সেবা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে। চরম গরমের মধ্যে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় জাহাজটির কয়েকশ নাবিককে।

মার্কিন ৭ম নৌবহরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৪ জুলাই ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার সময় আরলেই বার্ক শ্রেণীর এই ডেস্ট্রয়ারটির জেনারেটরে ‘প্রকৌশলগত ত্রুটি’ দেখা দেয়। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর জাহাজটি সাগরে নিজে থেকে চলার সক্ষমতাও হারিয়ে ফেলে। একই সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায় খাবার পানি সরবরাহও। তবে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় কোনো নাবিক হতাহত হননি বলে নিশ্চিত করেছেন ৭ম নৌবহরের মুখপাত্র কমান্ডার ম্যাথিউ কোমার। সিএনএনকে তিনি বলেন, চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও নাবিকরা অত্যন্ত পেশাদারত্ব, দৃঢ়তা ও ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ইউএসএনআই নিউজ প্রথম এই ঘটনাটি সামনে আনে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনাটি দক্ষিণ চীন সাগরে ঘটেছিল। জুলাইয়ের শেষ দিকে ওই অঞ্চলে দিনের তাপমাত্রা ছিল গড়ে ৩২ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৮৯ থেকে ৯৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট)। এমন তীব্র গরমে এসি ও বিদ্যুৎ ছাড়া চার দিন পার করা নাবিকদের জন্য কতটা দুঃসহ ছিল, তা উঠে এসেছে সামরিক বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যে।

মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক ক্যাপ্টেন কার্ল শুস্টার নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, সাগরে বিদ্যুৎহীন পরিস্থিতি চরম মানসিক চাপের সৃষ্টি করে। একবার পুয়ের্তো রিকোর কাছে একটি ডেস্ট্রয়ারে মাত্র চার ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকার অভিজ্ঞতাই ছিল অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সে সময় অপারেশন কর্মকর্তারা নাবিকদের মনোবল নিয়ে চিন্তিত থাকেন, প্রকৌশলীরা সমস্যা সমাধানে ব্যস্ত থাকেন এবং নেভিগেটররা জাহাজ কোন দিকে ভেসে যাচ্ছে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন। তাঁর মতে, পুয়ের্তো রিকোর দক্ষিণ-পূর্ব সমুদ্রসীমায় চার ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকার চাপ দক্ষিণ চীন সাগরে চার দিন এমন অবস্থায় থাকার তুলনায় কিছুই নয়।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ওই চার দিন বেনফোল্ডকে সহায়তায় এগিয়ে আসে মার্কিন নৌবাহিনীর অন্য জাহাজগুলো। জাপানে অবস্থানরত ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের জাহাজগুলোর পাশাপাশি ইউএসএস রবার্ট স্মলস নামের আরেকটি যুদ্ধজাহাজ বেনফোল্ডের নাবিকদের জন্য রান্না করা খাবার সরবরাহ করে। পরে বিকল জাহাজটিকে টেনে ফিলিপাইনের সুবিক বে-তে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মেরামত কাজ শেষে গত ৮ আগস্ট জাহাজটি আবার নিজের দায়িত্বে ফিরে যায়।

সাধারণত ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের অংশ হিসেবে কাজ করে ইউএসএস বেনফোল্ড। বর্তমানে জর্জ ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যের দিকে রওনা হয়েছে, যেখানে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন স্ট্রাইক গ্রুপকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে বেনফোল্ডকেও তাদের সঙ্গে ইরানের কাছাকাছি পাঠানো হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করেনি মার্কিন নৌবাহিনী। যদিও জাপানের জাহাজ পর্যবেক্ষকরা বেনফোল্ডকে জাপানে পৌঁছাতে দেখেছেন বলে জানিয়েছে ইউএসএনআই নিউজ।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের এটিই প্রথম ঘটনা নয়। এর আগে গত মে মাসেও ইউএসএস হিগিন্স নামের আরেকটি ডেস্ট্রয়ার কয়েক ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ ও চলাচলের ক্ষমতা হারিয়েছিল। আরলেই বার্ক শ্রেণীর এই ডেস্ট্রয়ারগুলো মার্কিন নৌবাহিনীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধজাহাজ। বর্তমানে এই বহরে এ ধরনের ৭০টিরও বেশি ডেস্ট্রয়ার রয়েছে, যার প্রতিটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৫০০ ফুট এবং ধারণক্ষমতা ৩২৯ থেকে ৩৫৯ জন নাবিক। বিশ্বজুড়ে মার্কিন সামরিক তৎপরতা ও ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মাঝে এ ধরনের কারিগরি ত্রুটি মার্কিন নৌবাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh