ঢাকা ০৪:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রণবীরের জন্মদিনে আলিয়ার বিশেষ পোস্ট, নেটদুনিয়ায় মুগ্ধতা ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা সংসার সাজানোর আগেই ডেঙ্গুতে প্রাণ হারালেন চিকিৎসক আঁচল রায় জয়পুরহাটে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ধ্বংসস্তূপের মাঝেও টিকে আছে গাজার মানুষের জীবন ও স্বপ্ন উগান্ডায় নতুন রাজা হিসেবে অভিষিক্ত হচ্ছেন সাংবাদিক এডওয়ার্ড রুকিদি স্কুল পর্যায়ে ফুটবলের প্রসারে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়-ফিফার যৌথ উদ্যোগ সালমান শাহ হত্যা মামলা: প্রতিবেদন জমার নতুন তারিখ ৫ নভেম্বর ইরাক থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধে সরকারকে আইনি নোটিশ

লিবিয়ার জাওয়িয়ায় তেল শোধনাগারে হামলা, পেট্রোল ট্যাংকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:৪২:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির পশ্চিমে জাওয়িয়া শহরে অবস্থিত একটি বড় পেট্রোল সংরক্ষণ ট্যাংকে হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাতে চালানো এই হামলার পর ট্যাংকটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে সেটি সম্পূর্ণ ধসে পড়ে। দেশটির কর্তৃপক্ষ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি যে এই হামলার পেছনে কারা জড়িত।

লিবিয়ার ন্যাশনাল অয়েল করপোরেশন (এনওসি) জানিয়েছে, ব্রেগা অয়েল কোম্পানির মালিকানাধীন ওই ট্যাংকটিতে প্রায় ৪৫ লাখ লিটার পেট্রোল মজুত ছিল। জাওয়িয়া শহরের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই তেল শোধনাগারটির দৈনিক তেল পরিশোধনের সক্ষমতা ১ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল।

ঘটনার পর ব্রেগা অয়েল কোম্পানি জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য দমকলকর্মীরা নিরলস কাজ করছেন। পাশাপাশি, আগুন যাতে পার্শ্ববর্তী অন্য ট্যাংকগুলোতে ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য পানি দিয়ে সেগুলোকে ঠান্ডা রাখার চেষ্টা চলছে। লিবিয়ার জরুরি সেবা সংস্থা জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে উদ্ধারকর্মীরা ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা প্রদান করছেন।

এনওসি এই ঘটনায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে এবং হামলার কারণ ও দায়ীদের শনাক্ত করতে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়া লিবিয়ার পার্লামেন্টের একটি কমিটিও হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের দাবি তুলেছে।

গত কয়েক দিন ধরেই জাওয়িয়ায় তেল স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে। সপ্তাহান্তের দিকে একটি ন্যাফথা সংরক্ষণ ট্যাংক এবং একটি পানি লবণমুক্তকরণ প্ল্যান্টে দুটি ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকেই লিবিয়া রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে বিভক্ত। বর্তমানে দেশটিতে দুটি সরকার ক্ষমতার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। একদিকে জাতিসংঘ-স্বীকৃত প্রধানমন্ত্রী আবদুলহামিদ দবেইবাহর নেতৃত্বাধীন ত্রিপোলিভিত্তিক সরকার, অন্যদিকে পূর্বাঞ্চলে সামরিক কমান্ডার খলিফা হাফতার-সমর্থিত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রশাসন। সর্বশেষ এই নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য সোমবার প্রধানমন্ত্রী দবেইবাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং রাজধানীর সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রধানদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছেন। বৈঠকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও অবকাঠামোর ক্ষতি করে—এমন যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

লিবিয়ার জাওয়িয়ায় তেল শোধনাগারে হামলা, পেট্রোল ট্যাংকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

আপডেট সময় : ১০:৪২:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির পশ্চিমে জাওয়িয়া শহরে অবস্থিত একটি বড় পেট্রোল সংরক্ষণ ট্যাংকে হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাতে চালানো এই হামলার পর ট্যাংকটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে সেটি সম্পূর্ণ ধসে পড়ে। দেশটির কর্তৃপক্ষ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি যে এই হামলার পেছনে কারা জড়িত।

লিবিয়ার ন্যাশনাল অয়েল করপোরেশন (এনওসি) জানিয়েছে, ব্রেগা অয়েল কোম্পানির মালিকানাধীন ওই ট্যাংকটিতে প্রায় ৪৫ লাখ লিটার পেট্রোল মজুত ছিল। জাওয়িয়া শহরের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই তেল শোধনাগারটির দৈনিক তেল পরিশোধনের সক্ষমতা ১ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল।

ঘটনার পর ব্রেগা অয়েল কোম্পানি জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য দমকলকর্মীরা নিরলস কাজ করছেন। পাশাপাশি, আগুন যাতে পার্শ্ববর্তী অন্য ট্যাংকগুলোতে ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য পানি দিয়ে সেগুলোকে ঠান্ডা রাখার চেষ্টা চলছে। লিবিয়ার জরুরি সেবা সংস্থা জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে উদ্ধারকর্মীরা ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা প্রদান করছেন।

এনওসি এই ঘটনায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে এবং হামলার কারণ ও দায়ীদের শনাক্ত করতে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়া লিবিয়ার পার্লামেন্টের একটি কমিটিও হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের দাবি তুলেছে।

গত কয়েক দিন ধরেই জাওয়িয়ায় তেল স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে। সপ্তাহান্তের দিকে একটি ন্যাফথা সংরক্ষণ ট্যাংক এবং একটি পানি লবণমুক্তকরণ প্ল্যান্টে দুটি ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকেই লিবিয়া রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে বিভক্ত। বর্তমানে দেশটিতে দুটি সরকার ক্ষমতার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। একদিকে জাতিসংঘ-স্বীকৃত প্রধানমন্ত্রী আবদুলহামিদ দবেইবাহর নেতৃত্বাধীন ত্রিপোলিভিত্তিক সরকার, অন্যদিকে পূর্বাঞ্চলে সামরিক কমান্ডার খলিফা হাফতার-সমর্থিত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রশাসন। সর্বশেষ এই নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য সোমবার প্রধানমন্ত্রী দবেইবাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং রাজধানীর সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রধানদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছেন। বৈঠকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও অবকাঠামোর ক্ষতি করে—এমন যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin