ঢাকা ০৮:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ক্যাডেট কলেজগুলোর ঈর্ষণীয় সাফল্য মক্কা চুক্তির প্রভাবে ভারত-ইসরাইল কৌশলগত সম্পর্কে নতুন মোড় মেঘনায় ঘূর্ণিস্রোতে সিমেন্টবোঝাই ট্রলার ডুবি, কোটি টাকার ক্ষতি ৫ লাখ নতুন সেনা সমাবেশের ছক পুতিনের, সতর্ক করলেন জেলেনস্কি বনানী থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় জামিন পেলেন সাবেক বিচারপতি খায়রুল হক ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক উন্নয়নে সহায়ক পরিবেশ চায় ঢাকা ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় দেশসেরা ডেমরার দারুননাজাত মাদ্রাসা ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় দেশসেরা ডেমরার দারুননাজাত মাদ্রাসা বিদেশে পড়াশোনার খরচ কার্ডের মাধ্যমেই পরিশোধের সুযোগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক কৃত্রিম জিপিএ-৫ এর সংস্কৃতি ভেঙে নিরপেক্ষ মূল্যায়ন হয়েছে: ড. মাহদী আমিন

মক্কা চুক্তির প্রভাবে ভারত-ইসরাইল কৌশলগত সম্পর্কে নতুন মোড়

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:১৯:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

মধ্যপ্রাচ্যের নতুন নিরাপত্তা সমীকরণে ভারত ও ইসরাইলের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরো জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে সাম্প্রতিক পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি, যা ‘মক্কা চুক্তি’ নামে পরিচিতি পেয়েছে, তা দিল্লি ও জেরুজালেমকে নতুন করে কৌশলগত হিসাব-নিকাশে বাধ্য করছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক ফোনালাপের সময়টিও এ কারণে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার ফোনে পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে। একই সঙ্গে দুই নেতা ভারত-ইসরাইল ‘বিশেষ কৌশলগত অংশীদারত্বের’ বিভিন্ন দিকের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছেন বলেও জানান তিনি। মোদি বার্তাটি ইংরেজি ও হিব্রু দুই ভাষায় প্রকাশ করেন এবং নেতানিয়াহুও তা পুনঃপ্রকাশ করেন।

পরদিনই সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক মক্কায় একটি বিস্তৃত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে। চুক্তিটিতে ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের আদলে একটি ধারা রয়েছে বলে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে। অর্থাৎ, জোটের কোনো একটি দেশের ওপর হামলাকে সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

ফলে মোদি-নেতানিয়াহু ফোনালাপের প্রকৃত প্রেক্ষাপট আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় এই নতুন জোটের প্রভাব দুই নেতার আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পেয়েছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর পক্ষে কাজ করেছে, যেখানে ইসরাইল, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অপেক্ষাকৃত বাস্তববাদী আরব দেশগুলোকে একটি অভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। কিন্তু মক্কায় যে সমীকরণ তৈরি হলো, তা সেই পরিকল্পনার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর আস্থায় টানাপোড়েন তৈরি হওয়া এবং ইরান ও তার মিত্রদের সঙ্গে সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব বিকল্প নিরাপত্তা অংশীদার খুঁজছে। সেই হিসাব থেকেই রিয়াদ তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সম্পর্কের দিকে এগিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ইসরাইলের জন্য বিষয়টি স্বস্তিদায়ক নয়। কারণ, সৌদি আরবকে ইসরাইলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ করার যে কৌশলগত প্রত্যাশা ছিল, নতুন ত্রিপক্ষীয় চুক্তি সেটিকে আরো জটিল করে তুলেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

মক্কা চুক্তির প্রভাবে ভারত-ইসরাইল কৌশলগত সম্পর্কে নতুন মোড়

আপডেট সময় : ০৮:১৯:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
print news

মধ্যপ্রাচ্যের নতুন নিরাপত্তা সমীকরণে ভারত ও ইসরাইলের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরো জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে সাম্প্রতিক পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি, যা ‘মক্কা চুক্তি’ নামে পরিচিতি পেয়েছে, তা দিল্লি ও জেরুজালেমকে নতুন করে কৌশলগত হিসাব-নিকাশে বাধ্য করছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক ফোনালাপের সময়টিও এ কারণে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার ফোনে পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে। একই সঙ্গে দুই নেতা ভারত-ইসরাইল ‘বিশেষ কৌশলগত অংশীদারত্বের’ বিভিন্ন দিকের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছেন বলেও জানান তিনি। মোদি বার্তাটি ইংরেজি ও হিব্রু দুই ভাষায় প্রকাশ করেন এবং নেতানিয়াহুও তা পুনঃপ্রকাশ করেন।

পরদিনই সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক মক্কায় একটি বিস্তৃত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে। চুক্তিটিতে ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের আদলে একটি ধারা রয়েছে বলে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে। অর্থাৎ, জোটের কোনো একটি দেশের ওপর হামলাকে সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

ফলে মোদি-নেতানিয়াহু ফোনালাপের প্রকৃত প্রেক্ষাপট আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় এই নতুন জোটের প্রভাব দুই নেতার আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পেয়েছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর পক্ষে কাজ করেছে, যেখানে ইসরাইল, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অপেক্ষাকৃত বাস্তববাদী আরব দেশগুলোকে একটি অভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। কিন্তু মক্কায় যে সমীকরণ তৈরি হলো, তা সেই পরিকল্পনার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর আস্থায় টানাপোড়েন তৈরি হওয়া এবং ইরান ও তার মিত্রদের সঙ্গে সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব বিকল্প নিরাপত্তা অংশীদার খুঁজছে। সেই হিসাব থেকেই রিয়াদ তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সম্পর্কের দিকে এগিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ইসরাইলের জন্য বিষয়টি স্বস্তিদায়ক নয়। কারণ, সৌদি আরবকে ইসরাইলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ করার যে কৌশলগত প্রত্যাশা ছিল, নতুন ত্রিপক্ষীয় চুক্তি সেটিকে আরো জটিল করে তুলেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh