ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা প্রশমিত হলেও নতুন অঞ্চলে ছড়াচ্ছে যুদ্ধের আঁচ

- আপডেট সময় : ০৮:৩১:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

ইরানের ওপর সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। টানা ১৩ রাত হামলার পর গত শনিবার মার্কিন সামরিক বাহিনী নতুন কোনো অভিযান চালায়নি। যদিও মার্কিন নৌ অবরোধ এখনো বহাল রয়েছে, তবে কেন হঠাৎ সামরিক কার্যক্রম থামিয়ে দেওয়া হলো, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। একই দিনে ইরানও প্রতিবেশী দেশগুলোতে মার্কিন ঘাঁটি বা স্থাপনায় পাল্টা কোনো হামলা চালায়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, ট্রাম্প কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিলেও ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনার জন্য সামরিক শক্তির প্রদর্শন করেছেন। সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের সঙ্গে বৈঠকে অস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতেই আপাতত সামরিক অভিযান স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
একদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সংঘাত কিছুটা স্তিমিত হলেও, মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অঞ্চলে যুদ্ধের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছে। গত শনিবার সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হুতি বিদ্রোহীদের হামলার ঘটনায় নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতির ফলে হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেব নৌপথও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, শনিবার তারা সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর জিজান ও ইয়ানবুর স্থাপনায় হামলা চালিয়েছেন। রয়টার্সের যাচাই করা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফুটেজে জিজানে আরামকোর শোধনাগারের দিক থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে। এছাড়া ইয়ানবুতে তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি বাহিনী প্রতিহত করেছে। অন্যদিকে, ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকারের বিমানবাহিনী মারিব ও আল-জাওফ প্রদেশে হুতিদের অবস্থানে পাল্টা হামলা চালিয়েছে এবং উভয় পক্ষই রণাঙ্গনে সেনা মোতায়েন বৃদ্ধি করেছে।
ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা গত সপ্তাহে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করেছে। গোষ্ঠীটির নেতা আবদুল মালিক আল-হুতি সতর্ক করে বলেছেন, সৌদি আরবের সব তেল স্থাপনা এখন তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু। এছাড়া, কাস্পিয়ান সাগরে নিজেদের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেন হামলা চালিয়েছে বলেও ইরান অভিযোগ করেছে, যা সামগ্রিক সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ইরান–সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর সংঘাত অনেকটা কমে গেলেও চলতি মাসে সেই সমঝোতা ভেঙে যায়। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধে হুতিরাও সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়ে।



























