ঢাকা ১১:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাঞ্জাবের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি বিজেপির, মুখোমুখি আপ ও বিরোধীরা ন্যাশনাল ফাইন্যান্স পিএলসি-এর নতুন চেয়ারম্যান কাজী আহসান, ভাইস চেয়ারম্যান রিজওয়ান ‘শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নির্দেশ কে দিয়েছিল?’ অমিত শাহের কাছে জবাব চাইলেন ফেরদৌস-শাওনসহ ২৮ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ ইসরায়েলের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তির চেষ্টা করছে সিরিয়া নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কুর্মিটোলা হাসপাতালের দেওয়ালে বাস, নিহত ১ ফুলহ্যামের মূল দলে অভিষেক, বাংলাদেশ দলে খেলার অপেক্ষায় ফারহান জাতীয় বৃক্ষমেলা ২০২৬: দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে আলী-জাহান অ্যাগ্রো বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়ন নীতিমালা ২০২৬ জারি সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে নিয়ে আলাদা তদন্ত করবে না বাংলাদেশ ব্যাংক

‘শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নির্দেশ কে দিয়েছিল?’ অমিত শাহের কাছে জবাব চাইলেন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২৬:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

ভারতে প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি নিয়ে দেশজুড়ে চলমান ছাত্র আন্দোলন দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস এবং কথিত পেলেট গান ব্যবহারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে জবাবদিহি চেয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, "শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নির্দেশ কে দিয়েছিল?"

প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দেশব্যাপী তীব্র সমালোচনার মুখে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করার ঠিক একদিন পর রাহুল গান্ধী এই চিঠিটি প্রকাশ করেন। দিল্লি পুলিশ ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF) সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন থাকায় তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছ থেকে এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছেন। চিঠিতে রাহুল গান্ধী উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালের ২০ জুলাই দিল্লিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর যে নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে, তার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

বিরোধীদলীয় নেতার অভিযোগ, ওই দিন আন্দোলনকারীদের ওপর কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী নির্মমভাবে লাঠিচার্জ করে এবং টিয়ার গ্যাসের পাশাপাশি পেলেট গান ব্যবহার করে। এমনকি পেরেক বসানো লাঠি দিয়েও শিক্ষার্থীদের পেটানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। রাহুল গান্ধীর মতে, শিক্ষার্থীরা একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক শিক্ষাব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছিল। কিন্তু তাদের দাবি শোনার পরিবর্তে নিরাপত্তা বাহিনী নির্বিচারে বলপ্রয়োগ করেছে, যার ফলে শত শত আন্দোলনকারী গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে নারী শিক্ষার্থীদের নির্যাতন এবং তাদের শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করার গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন তিনি।

চিঠিতে পেলেট গান ব্যবহারের বিষয়টিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে বর্ণনা করে কংগ্রেসের এই শীর্ষ নেতা জানান, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুরুতর আহত বহু মানুষের ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, যার মধ্যে একজন সাংবাদিকও রয়েছেন। তিনি নিজে ১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থী সাহিল লোচাবের সঙ্গে দেখা করেছেন, যিনি পেলেট গানের আঘাতে একটি চোখ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে গত ২৪ জুলাই সাহিল লোচাবকে সঙ্গে নিয়ে একটি সংবাদ সম্মেলনও করেন রাহুল গান্ধী। তবে দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। যদিও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে আহতদের শরীরে পেলেট গানের ক্ষতের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

এদিকে দিল্লির কনট প্লেস এলাকার পালিকা বাজারের ওপরের অংশ থেকে র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (RAF) এক সদস্যকে নিচে থাকা শেখ ইরশাদ মনসুরি নামের এক বিক্ষোভকারীর দিকে পেলেট গানের মতো দেখতে একটি অস্ত্র তাক করে গুলি করতে দেখা গেছে, যা একটি ভিডিও ফুটেজে ধরা পড়েছে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর (CRPF) মহাপরিচালক জ্ঞানেন্দ্র প্রতাপ সিং টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, আন্দোলন শেষ হওয়ার পর এবং জনতা ছত্রভঙ্গ হয়ে যাওয়ার পর তারা প্রতিটি বড় অভিযানের মতো এবারও পেশাদারভাবে পুরো ঘটনার মূল্যায়ন করবেন। এরপর বাহিনীর সদর দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানানো হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে রাহুল গান্ধী তার চিঠিতে বেশ কিছু প্রশ্ন রেখে বলেন, দিল্লিতে মোতায়েন নিরাপত্তা বাহিনী যেহেতু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে, তাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শিক্ষার্থীদের ওপর পেলেট গান ও প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের অনুমোদন তিনি নিজে দিয়েছিলেন কি না, তা স্পষ্ট করতে হবে। যদি তিনি না দিয়ে থাকেন, তবে এই নির্দেশ কার ছিল? এছাড়া সাধারণ পোশাকে লাঠি হাতে শিক্ষার্থীদের মারধর করা ব্যক্তিরা পুলিশ সদস্য নাকি বহিরাগত স্বেচ্ছাসেবক এবং তাদের সেখানে মোতায়েনের অনুমতি কে দিয়েছিল, সেই প্রশ্নও তোলেন রাহুল। চিঠির শেষাংশে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করা একটি গণতান্ত্রিক দেশের মৌলিক অধিকার এবং বিক্ষোভকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা সরকারের দায়িত্ব। তরুণ ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন নৃশংস আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

‘শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নির্দেশ কে দিয়েছিল?’ অমিত শাহের কাছে জবাব চাইলেন

আপডেট সময় : ১১:২৬:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
print news

ভারতে প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি নিয়ে দেশজুড়ে চলমান ছাত্র আন্দোলন দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস এবং কথিত পেলেট গান ব্যবহারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে জবাবদিহি চেয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, "শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নির্দেশ কে দিয়েছিল?"

প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দেশব্যাপী তীব্র সমালোচনার মুখে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করার ঠিক একদিন পর রাহুল গান্ধী এই চিঠিটি প্রকাশ করেন। দিল্লি পুলিশ ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF) সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন থাকায় তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছ থেকে এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছেন। চিঠিতে রাহুল গান্ধী উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালের ২০ জুলাই দিল্লিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর যে নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে, তার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

বিরোধীদলীয় নেতার অভিযোগ, ওই দিন আন্দোলনকারীদের ওপর কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী নির্মমভাবে লাঠিচার্জ করে এবং টিয়ার গ্যাসের পাশাপাশি পেলেট গান ব্যবহার করে। এমনকি পেরেক বসানো লাঠি দিয়েও শিক্ষার্থীদের পেটানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। রাহুল গান্ধীর মতে, শিক্ষার্থীরা একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক শিক্ষাব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছিল। কিন্তু তাদের দাবি শোনার পরিবর্তে নিরাপত্তা বাহিনী নির্বিচারে বলপ্রয়োগ করেছে, যার ফলে শত শত আন্দোলনকারী গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে নারী শিক্ষার্থীদের নির্যাতন এবং তাদের শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করার গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন তিনি।

চিঠিতে পেলেট গান ব্যবহারের বিষয়টিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে বর্ণনা করে কংগ্রেসের এই শীর্ষ নেতা জানান, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুরুতর আহত বহু মানুষের ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, যার মধ্যে একজন সাংবাদিকও রয়েছেন। তিনি নিজে ১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থী সাহিল লোচাবের সঙ্গে দেখা করেছেন, যিনি পেলেট গানের আঘাতে একটি চোখ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে গত ২৪ জুলাই সাহিল লোচাবকে সঙ্গে নিয়ে একটি সংবাদ সম্মেলনও করেন রাহুল গান্ধী। তবে দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। যদিও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে আহতদের শরীরে পেলেট গানের ক্ষতের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

এদিকে দিল্লির কনট প্লেস এলাকার পালিকা বাজারের ওপরের অংশ থেকে র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (RAF) এক সদস্যকে নিচে থাকা শেখ ইরশাদ মনসুরি নামের এক বিক্ষোভকারীর দিকে পেলেট গানের মতো দেখতে একটি অস্ত্র তাক করে গুলি করতে দেখা গেছে, যা একটি ভিডিও ফুটেজে ধরা পড়েছে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর (CRPF) মহাপরিচালক জ্ঞানেন্দ্র প্রতাপ সিং টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, আন্দোলন শেষ হওয়ার পর এবং জনতা ছত্রভঙ্গ হয়ে যাওয়ার পর তারা প্রতিটি বড় অভিযানের মতো এবারও পেশাদারভাবে পুরো ঘটনার মূল্যায়ন করবেন। এরপর বাহিনীর সদর দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানানো হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে রাহুল গান্ধী তার চিঠিতে বেশ কিছু প্রশ্ন রেখে বলেন, দিল্লিতে মোতায়েন নিরাপত্তা বাহিনী যেহেতু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে, তাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শিক্ষার্থীদের ওপর পেলেট গান ও প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের অনুমোদন তিনি নিজে দিয়েছিলেন কি না, তা স্পষ্ট করতে হবে। যদি তিনি না দিয়ে থাকেন, তবে এই নির্দেশ কার ছিল? এছাড়া সাধারণ পোশাকে লাঠি হাতে শিক্ষার্থীদের মারধর করা ব্যক্তিরা পুলিশ সদস্য নাকি বহিরাগত স্বেচ্ছাসেবক এবং তাদের সেখানে মোতায়েনের অনুমতি কে দিয়েছিল, সেই প্রশ্নও তোলেন রাহুল। চিঠির শেষাংশে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করা একটি গণতান্ত্রিক দেশের মৌলিক অধিকার এবং বিক্ষোভকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা সরকারের দায়িত্ব। তরুণ ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন নৃশংস আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin