ঢাকা ০৭:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নেত্রকোনা-১ আসনের সাবেক এমপি মোশতাক আহমেদ রুহী গ্রেপ্তার নিউ ইয়র্কে নামছে না নেতানিয়াহুর উড়োজাহাজ মূল্যস্ফীতির চাপে নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখল কেন্দ্রীয় ব্যাংক টাকায় আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ করতে নতুন নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের পাকিস্তান–চীন নতুন সীমান্ত চুক্তি নিয়ে ভারতের তীব্র প্রতিক্রিয়া গুলশানে ককটেল বিস্ফোরণ মামলায় ১৫ আসামির ৩ দিনের রিমান্ড ক্ষমতার পাঁচ মাসে কেন হতাশ পশ্চিমবঙ্গের মানুষ, কী বলছে পরিস্থিতি মাদরাসা প্রধানদের ইআইআইএনভিত্তিক সিম কার্ড সচল রাখার নির্দেশ পাংশায় প্রবাসীর স্ত্রী রুনা হত্যায় প্রধান আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত

দাজ্জালের ফেতনা থেকে বাঁচার উপায় ও সুরা কাহাফের ফজিলত

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৪:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



পবিত্র কোরআনের প্রতিটি সুরা মানবজাতির জন্য হেদায়েত ও রহমতের আধার। তবে কিছু বিশেষ সুরা ও আয়াতের ফজিলত সম্পর্কে আল্লাহর রাসুল (সা.) আমাদের বিশেষভাবে সতর্ক ও উদ্বুদ্ধ করেছেন। এর মধ্যে সুরা কাহাফের শেষ দশ আয়াত মুখস্থ করা জীবন পরিবর্তনের এক গভীর দিকনির্দেশনা। সহিহ মুসলিমের একটি হাদিসে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি সুরা কাহাফের শেষ দশ আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবে। এই হাদিসটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ঈমানি দৃঢ়তা এবং কোরআনের শিক্ষার সঙ্গে গভীর সম্পর্কই দাজ্জালের মতো ভয়াবহ ফিতনা থেকে বাঁচার অন্যতম ঢাল।

সুরাটির ১০১ থেকে ১০৯ নম্বর আয়াত পর্যন্ত আল্লাহ তায়ালা মানুষের গাফিলতি, তাওহিদ, ইখলাস ও আখেরাতের বিষয়টি অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী ভাষায় তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে ১০৩ ও ১০৪ নম্বর আয়াতে এমন একশ্রেণির মানুষের কথা বলা হয়েছে, যারা মনে করে তারা অনেক ভালো কাজ করছে, অথচ বাস্তবে তাদের সব পরিশ্রম ব্যর্থ। কারণ তাদের আমল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ছিল না অথবা তা রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী ছিল না। এতে স্পষ্ট হয় যে, ইসলামে আমলের পরিমাণের চেয়ে আমলের বিশুদ্ধতা ও ইখলাস অধিক গুরুত্বপূর্ণ। পরবর্তী আয়াতগুলোতে যারা আল্লাহর নিদর্শন ও রাসুলদের নিয়ে উপহাস করে, তাদের কঠোর পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। বর্তমান সময়ে দ্বীনের বিভিন্ন প্রতীক নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপকে অনেকেই হালকাভাবে দেখেন, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যদিকে যারা মুমিন ও সৎকর্মশীল, তাদের জন্য আল্লাহ জান্নাতুল ফেরদাউসের সুসংবাদ দিয়েছেন।

১০৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাঁর অসীম জ্ঞানের মহিমা প্রকাশ করেছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন, সমুদ্র যদি তাঁর বাণী লেখার কালি হয়, তবু তাঁর বাণী শেষ হবে না। এই আয়াত আমাদের নিজের সীমাবদ্ধতা উপলব্ধি করতে এবং মহান রবের সামনে বিনম্র হতে শেখায়। সবশেষে সুরাটির শেষ আয়াতটি ইসলামের মূল ভিত্তি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। এখানে নাজাতের তিনটি শর্ত স্পষ্ট করা হয়েছে—বিশুদ্ধ তাওহিদ, রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহর অনুসরণ এবং ইবাদতে একনিষ্ঠতা।

আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যখন চারদিকে নানা বিভ্রান্তি ও ফিতনা ছড়িয়ে পড়েছে। দাজ্জালের আবির্ভাব না ঘটলেও তার পূর্ববর্তী বহু ফিতনা আজ দৃশ্যমান। তাই নিয়মিত সুরা কাহাফের শেষ দশ আয়াত তেলাওয়াত করা, এর অর্থ ও শিক্ষা অনুধাবন করা এবং তা ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে বাস্তবায়ন করা জরুরি। কোরআনের নুর যত বেশি আমাদের জীবনকে আলোকিত করবে, আমরা ততই ফেতনা থেকে নিরাপদ থাকতে পারব ইনশাআল্লাহ।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

দাজ্জালের ফেতনা থেকে বাঁচার উপায় ও সুরা কাহাফের ফজিলত

আপডেট সময় : ০৮:৩৪:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

পবিত্র কোরআনের প্রতিটি সুরা মানবজাতির জন্য হেদায়েত ও রহমতের আধার। তবে কিছু বিশেষ সুরা ও আয়াতের ফজিলত সম্পর্কে আল্লাহর রাসুল (সা.) আমাদের বিশেষভাবে সতর্ক ও উদ্বুদ্ধ করেছেন। এর মধ্যে সুরা কাহাফের শেষ দশ আয়াত মুখস্থ করা জীবন পরিবর্তনের এক গভীর দিকনির্দেশনা। সহিহ মুসলিমের একটি হাদিসে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি সুরা কাহাফের শেষ দশ আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবে। এই হাদিসটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ঈমানি দৃঢ়তা এবং কোরআনের শিক্ষার সঙ্গে গভীর সম্পর্কই দাজ্জালের মতো ভয়াবহ ফিতনা থেকে বাঁচার অন্যতম ঢাল।

সুরাটির ১০১ থেকে ১০৯ নম্বর আয়াত পর্যন্ত আল্লাহ তায়ালা মানুষের গাফিলতি, তাওহিদ, ইখলাস ও আখেরাতের বিষয়টি অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী ভাষায় তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে ১০৩ ও ১০৪ নম্বর আয়াতে এমন একশ্রেণির মানুষের কথা বলা হয়েছে, যারা মনে করে তারা অনেক ভালো কাজ করছে, অথচ বাস্তবে তাদের সব পরিশ্রম ব্যর্থ। কারণ তাদের আমল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ছিল না অথবা তা রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী ছিল না। এতে স্পষ্ট হয় যে, ইসলামে আমলের পরিমাণের চেয়ে আমলের বিশুদ্ধতা ও ইখলাস অধিক গুরুত্বপূর্ণ। পরবর্তী আয়াতগুলোতে যারা আল্লাহর নিদর্শন ও রাসুলদের নিয়ে উপহাস করে, তাদের কঠোর পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। বর্তমান সময়ে দ্বীনের বিভিন্ন প্রতীক নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপকে অনেকেই হালকাভাবে দেখেন, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যদিকে যারা মুমিন ও সৎকর্মশীল, তাদের জন্য আল্লাহ জান্নাতুল ফেরদাউসের সুসংবাদ দিয়েছেন।

১০৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাঁর অসীম জ্ঞানের মহিমা প্রকাশ করেছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন, সমুদ্র যদি তাঁর বাণী লেখার কালি হয়, তবু তাঁর বাণী শেষ হবে না। এই আয়াত আমাদের নিজের সীমাবদ্ধতা উপলব্ধি করতে এবং মহান রবের সামনে বিনম্র হতে শেখায়। সবশেষে সুরাটির শেষ আয়াতটি ইসলামের মূল ভিত্তি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। এখানে নাজাতের তিনটি শর্ত স্পষ্ট করা হয়েছে—বিশুদ্ধ তাওহিদ, রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহর অনুসরণ এবং ইবাদতে একনিষ্ঠতা।

আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যখন চারদিকে নানা বিভ্রান্তি ও ফিতনা ছড়িয়ে পড়েছে। দাজ্জালের আবির্ভাব না ঘটলেও তার পূর্ববর্তী বহু ফিতনা আজ দৃশ্যমান। তাই নিয়মিত সুরা কাহাফের শেষ দশ আয়াত তেলাওয়াত করা, এর অর্থ ও শিক্ষা অনুধাবন করা এবং তা ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে বাস্তবায়ন করা জরুরি। কোরআনের নুর যত বেশি আমাদের জীবনকে আলোকিত করবে, আমরা ততই ফেতনা থেকে নিরাপদ থাকতে পারব ইনশাআল্লাহ।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh