ঢাকা ০৩:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসছে আন্দোলনকারীরা, রাজপথেও থাকছে বিক্ষোভ এআই নিয়ে ইলন মাস্কের দুই কূটাভাস ও এক স্ববিরোধী আচরণ বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার হার নিয়ে যত অদ্ভুত ষড়যন্ত্রতত্ত্ব পাবনায় সহকারী খাদ্য পরিদর্শকের ১০ বছরের কারাদণ্ড বিশ্বকাপ শেষে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন নেইমার-নয়্যারসহ একঝাঁক তারকা রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ইস্যুতে যা বললেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন ফতুল্লায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হত্যা মামলার আসামি পলাশ গ্রেপ্তার রাজধানীর কাঁচাবাজারে নিত্যপণ্যের দামে উত্তাপ, দিশেহারা ক্রেতারা নিট প্রশ্নফাঁস: সংকট কাটাতে আজ মুখোমুখি কেন্দ্র ও আরশোলা জনতা পার্টি ইয়েমেনে হুতিদের সহায়তায় আইআরজিসি কমান্ডার ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠাল ইরান

নিট প্রশ্নফাঁস: সংকট কাটাতে আজ মুখোমুখি কেন্দ্র ও আরশোলা জনতা পার্টি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:২০:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও শিক্ষার্থীদের দেশব্যাপী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া অচলাবস্থা কাটাতে অবশেষে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। শুক্রবার দুপুরে নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে আন্দোলনকারী আরশোলা জনতা পার্টির প্রতিনিধি দলের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠককে ঘিরে রাজধানীসহ গোটা ভারতের বিভিন্ন মহলে ব্যাপক কৌতূহল ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সরকারের আশা, এই দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে চলমান সংকটের একটি সমাধান সূত্র বের করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে সরকারের পক্ষে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন। অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিরাও তাদের দাবিদাওয়া নিয়ে মুখোমুখি বসবেন। মূলত নিট প্রশ্নফাঁস, শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলন এবং এর ফলে উদ্ভূত সার্বিক পরিস্থিতি নিয়েই বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হবে। সংসদের আসন্ন বর্ষাকালীন অধিবেশন যাতে কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই নির্বিঘ্নে চলতে পারে, সেজন্যই সরকার দ্রুত এই আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে বলে সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের রাজপথের কর্মসূচি স্থগিত করে আলোচনার টেবিলে আসার আহ্বান জানানো হতে পারে। বৈঠকে শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত বিভিন্ন দাবিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং জানিয়েছিলেন, সংকট নিরসনে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চারবার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সরকার যেকোনো স্থানে এবং যেকোনো সময়ে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত রয়েছে। সরকার তাদের সমস্যা সমাধানে আন্তরিক এবং আলোচনার মাধ্যমেই সংকটের স্থায়ী সমাধান চায়। নিট প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনা করার ক্ষেত্রেও সরকার নমনীয় অবস্থান নিয়েছে এবং এ ব্যাপারে বিরোধী দলগুলোর মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এর ফলে আলোচনার পাশাপাশি সংসদেও এই ইস্যুতে উত্তপ্ত বিতর্কের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও বৃহস্পতিবার সকালে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। প্রশ্নফাঁসের মতো অপরাধে জড়িতদের দ্রুত শাস্তির মুখোমুখি করতে বিশেষ দ্রুত বিচার আদালত গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি। তবে সরকারের এসব আশ্বাসের পরও আন্দোলনকারীদের অবস্থানে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। আরশোলা জনতা পার্টির দাবি, কেবল মৌখিক আশ্বাস নয়, বরং প্রশ্নফাঁস চক্রের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী সংস্কার এনে শিক্ষার্থীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।

বর্তমানে এই আন্দোলনের প্রভাব দিল্লির গণ্ডি পেরিয়ে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন শহরের রাজপথে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও যুবসমাজ নিয়মিত বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলছে। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে জাতীয় বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলেও এই আন্দোলন বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিরোধী দলগুলোও সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলছে, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় লাখ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। অন্যদিকে সরকার দাবি করছে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, শুক্রবারের এই বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠকের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে আন্দোলনের ভবিষ্যৎ গতিপথ এবং দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি। আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হলে উত্তেজনা কমতে পারে, তবে সমঝোতা না হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor

নিউজটি শেয়ার করুন

নিট প্রশ্নফাঁস: সংকট কাটাতে আজ মুখোমুখি কেন্দ্র ও আরশোলা জনতা পার্টি

আপডেট সময় : ০১:২০:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
print news

নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও শিক্ষার্থীদের দেশব্যাপী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া অচলাবস্থা কাটাতে অবশেষে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। শুক্রবার দুপুরে নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে আন্দোলনকারী আরশোলা জনতা পার্টির প্রতিনিধি দলের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠককে ঘিরে রাজধানীসহ গোটা ভারতের বিভিন্ন মহলে ব্যাপক কৌতূহল ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সরকারের আশা, এই দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে চলমান সংকটের একটি সমাধান সূত্র বের করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে সরকারের পক্ষে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন। অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিরাও তাদের দাবিদাওয়া নিয়ে মুখোমুখি বসবেন। মূলত নিট প্রশ্নফাঁস, শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলন এবং এর ফলে উদ্ভূত সার্বিক পরিস্থিতি নিয়েই বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হবে। সংসদের আসন্ন বর্ষাকালীন অধিবেশন যাতে কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই নির্বিঘ্নে চলতে পারে, সেজন্যই সরকার দ্রুত এই আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে বলে সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের রাজপথের কর্মসূচি স্থগিত করে আলোচনার টেবিলে আসার আহ্বান জানানো হতে পারে। বৈঠকে শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত বিভিন্ন দাবিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং জানিয়েছিলেন, সংকট নিরসনে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চারবার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সরকার যেকোনো স্থানে এবং যেকোনো সময়ে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত রয়েছে। সরকার তাদের সমস্যা সমাধানে আন্তরিক এবং আলোচনার মাধ্যমেই সংকটের স্থায়ী সমাধান চায়। নিট প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনা করার ক্ষেত্রেও সরকার নমনীয় অবস্থান নিয়েছে এবং এ ব্যাপারে বিরোধী দলগুলোর মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এর ফলে আলোচনার পাশাপাশি সংসদেও এই ইস্যুতে উত্তপ্ত বিতর্কের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও বৃহস্পতিবার সকালে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। প্রশ্নফাঁসের মতো অপরাধে জড়িতদের দ্রুত শাস্তির মুখোমুখি করতে বিশেষ দ্রুত বিচার আদালত গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি। তবে সরকারের এসব আশ্বাসের পরও আন্দোলনকারীদের অবস্থানে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। আরশোলা জনতা পার্টির দাবি, কেবল মৌখিক আশ্বাস নয়, বরং প্রশ্নফাঁস চক্রের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী সংস্কার এনে শিক্ষার্থীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।

বর্তমানে এই আন্দোলনের প্রভাব দিল্লির গণ্ডি পেরিয়ে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন শহরের রাজপথে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও যুবসমাজ নিয়মিত বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলছে। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে জাতীয় বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলেও এই আন্দোলন বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিরোধী দলগুলোও সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলছে, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় লাখ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। অন্যদিকে সরকার দাবি করছে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, শুক্রবারের এই বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠকের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে আন্দোলনের ভবিষ্যৎ গতিপথ এবং দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি। আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হলে উত্তেজনা কমতে পারে, তবে সমঝোতা না হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor