বাংলাদেশে প্রথম রোবোটিক সার্জারি: চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক নতুন মাইলফলক
- আপডেট সময় : ০৪:৪৪:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে

ঢাকার মাদানী এভিনিউয়ের ইউনাইটেড সিটিতে অবস্থিত ইউনাইটেড হেলথকেয়ার বাংলাদেশের প্রথম রোবোটিক সার্জারি সফলভাবে সম্পন্ন করে দেশের চিকিৎসাক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক তৈরি করেছে। এআই-নির্ভর এই অত্যাধুনিক রোবোটিক সার্জিক্যাল প্রযুক্তির প্রবর্তনের ফলে এখন থেকে বড় ধরনের কাটাছেঁড়া ছাড়াই অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে রোগীর রক্তক্ষরণ কম হবে, অস্ত্রোপচার-পরবর্তী ব্যথা হ্রাস পাবে এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
গত ৩১ আগস্ট, সোমবার এই ঐতিহাসিক কার্যক্রমের আওতায় দুটি সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। অধ্যাপক ডা. রফিকুস সালেহীন ৫৭ বছর বয়সী এক পুরুষ রোগীর পিত্তথলিতে পাথরের সমস্যার জন্য সফলভাবে রোবোটিক কোলেসিস্টেকটমি সম্পন্ন করেন। একই দিনে অধ্যাপক ডা. সামছাদ জাহান (শেলী) জরায়ুর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে আক্রান্ত ৪৫ বছর বয়সী এক নারীর ওপর সফল রোবোটিক হিস্টেরেকটমি করেন।
অত্যাধুনিক 'Medbot Toumai Endoscopic Surgical Robot'-এর সহায়তায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি মাল্টিডিসিপ্লিনারি মেডিকেল টিম এই অস্ত্রোপচার দুটি পরিচালনা করে। রোবোটিক সিস্টেমের মাধ্যমে চিকিৎসকরা থ্রিডি (3D) প্রযুক্তিতে শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ স্পষ্টভাবে দেখার সুযোগ পান। এছাড়া রোবোটিক আর্ম ৩৬০ ডিগ্রি পর্যন্ত ঘুরতে সক্ষম হওয়ায় সংকীর্ণ ও জটিল স্থানেও অত্যন্ত নিখুঁতভাবে কাজ করা সম্ভব হয়, যা আশপাশের টিস্যুর ক্ষতি কমিয়ে রোগীর দ্রুত আরোগ্য লাভে সহায়তা করে।
এই অর্জন সম্পর্কে অধ্যাপক ডা. রফিকুস সালেহীন বলেন, রোবোটিক সার্জারি আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের এমন একটি প্রযুক্তি যেখানে চিকিৎসকরা মানুষের হাতের স্বাভাবিক নড়াচড়ার চেয়েও বেশি নিখুঁতভাবে কাজ করতে পারেন। এতে রক্তনালি ও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ নিরাপদ রাখা সহজ হয়। অন্যদিকে, অধ্যাপক ডা. সামছাদ জাহান (শেলী) জানান, অদূর ভবিষ্যতে কার্ডিয়াক সার্জারি, নিউরোসার্জারি, ইউরোলজি, জেনারেল সার্জারি, গাইনোকোলজি ও থোরাসিক সার্জারিতেও এই সেবা বিস্তৃত করা হবে। তাদের লক্ষ্য হলো, যেসব চিকিৎসার জন্য রোগীদের বিদেশে যেতে হয়, সেগুলোর বিশ্বমানের সেবা দেশেই নিশ্চিত করা এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা।
ইউনাইটেড হেলথকেয়ার তাদের জরুরি ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার, রোগ নির্ণয় এবং বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার মান উন্নত করতে আধুনিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের মানুষের ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্য চাহিদাপূরণ এবং চিকিৎসার জন্য বিদেশ-নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।




























