ঢাকা ০১:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে টাইগারদের মন্ত্রিসভার অভিনন্দন নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে নতুন বন্যার আশঙ্কায় বিশেষজ্ঞরা বড় পর্দায় ফিরছেন ‘স্কুইড গেম’ নির্মাতা, নতুন সিনেমার নাম ‘কে.ও. ক্লাব’ বিএনপিকে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন সারজিস আলম উদ্যোক্তাদের দ্রুত ভ্যাট নিবন্ধন সম্পন্ন করার আহ্বান এনবিআরের ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে উয়েফা নেপালের বন্যায় নিশ্চিহ্ন গ্রাম, স্বজন হারালেন সাংবাদিক জিপিএ-৫ চূড়ান্ত অর্জন নয়, সামনে কঠিন পথ: ডাকসু জিএস ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন যুক্তরাজ্যের ৩ বিমানবন্দরে সাইবার হামলা, হ্যাকারদের হাতে ৮৭ লাখ গ্রাহকের তথ্য

ক্যানসারের সঙ্গে সামিয়া আফরিনের নতুন লড়াই, চুল কেটে নিলেন নতুন লুক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:১১:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে মরণব্যাধি ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়ে যাচ্ছেন দেশের পরিচিত টেলিভিশন উপস্থাপক সামিয়া আফরিন। দীর্ঘ চিকিৎসার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছিল, ফিরেছিলেন স্বাভাবিক জীবনেও। তবে সেই স্বস্তির মেয়াদ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। মাত্র তিন মাস আগে তাঁর শরীরে দ্বিতীয়বারের মতো ম্যালিগন্যান্ট টিউমার ধরা পড়েছে। এবারের রোগটি হলো ওভারিয়ান ক্যানসার। পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। পরীক্ষায় এটি ‘হাই-গ্রেড কার্সিনোমা’ হিসেবে শনাক্ত হওয়ায় বর্তমানে তাঁকে কেমোথেরাপি নিতে হচ্ছে। আজ রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে ক্যানসারের বিরুদ্ধে তাঁর এই নতুন যুদ্ধের কথা জানিয়েছেন সামিয়া নিজেই।

চিকিৎসকেরা আগেই সতর্ক করেছিলেন যে কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় তাঁর মাথার চুল পড়ে যেতে পারে। এই আশঙ্কায় ভেঙে না পড়ে ইতিবাচক মানসিকতা দেখিয়েছেন সামিয়া। চুল পড়ে যাওয়ার আগেই নিজে চুল ছোট করে একটি নতুন লুক নিয়েছেন তিনি। চুল কাটার সেই বিশেষ মুহূর্তের একটি ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশ করে তিনি জানিয়েছেন, এই কঠিন সময়কে তিনি নিজের মতো করে হাসিমুখে মেনে নিতে চান। সামিয়া লিখেছেন, মাত্র তিন মাস আগে তাঁর শরীরে দ্বিতীয় ম্যালিগন্যান্ট ধরা পড়ে। দুর্ভাগ্যবশত এটি হাই-গ্রেড কার্সিনোমা হওয়ায় তাঁকে কেমোথেরাপির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এবারই প্রথম তিনি কেমোর অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, কারণ এর আগে প্রথমবার ক্যানসার আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁর চিকিৎসা হয়েছিল ইমিউনোথেরাপির মাধ্যমে।

কেমোর কারণে চুল পড়ে যাওয়ার বিষয়টিকে বেশ সহজভাবেই গ্রহণ করেছেন এই উপস্থাপক। তাঁর ভাষায়, চিকিৎসকেরা চুল পড়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথা জানানোর পর তিনি মন খারাপ না করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিষয়টি মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সবকিছু নিয়ে মন খারাপ করে কোনো লাভ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারাটাই আসল বিষয়। ক্যানসার চিকিৎসার এই কঠিন পথচলার কষ্ট কেবল ভুক্তভোগীরাই বুঝবেন বলে মনে করেন তিনি। সামিয়া লিখেছেন, যাঁরা এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছেন, তাঁরাই জানেন এই লড়াই কতটা যন্ত্রণাদায়ক। তিনি চান না তাঁর কোনো প্রিয় মানুষকে কখনো এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হোক। সবশেষে তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন, যেন আগেরবারের মতো এবারও শক্তি ধরে রেখে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।

সামিয়া আফরিনের এই কঠিন লড়াই শুরু হয়েছিল ২০২২ সালের এপ্রিলে। সে সময় শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করলে ঢাকার একটি হাসপাতালে পরীক্ষা করান তিনি। পরীক্ষায় ক্যানসারের জীবাণুবাহী টিউমার ধরা পড়লে স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত সিঙ্গাপুরে যান। প্রথম আলোকে দেওয়া আগের এক সাক্ষাৎকারে সামিয়া জানিয়েছিলেন, নিয়মিত শরীরচর্চা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের পরও ক্যানসার হওয়ার বিষয়টি শুরুতে তিনি বিশ্বাসই করতে পারেননি। তবে সিঙ্গাপুরে বিস্তারিত পরীক্ষার পর জানা যায়, তিনি চতুর্থ ধাপের কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত এবং তা ফুসফুস ও লিম্ফ নোডে ছড়িয়ে পড়েছে। এই খবরটি তাঁর জন্য বড় ধাক্কা ছিল এবং একপর্যায়ে তিনি চিকিৎসাও নিতে চাননি। পরবর্তীতে সিঙ্গাপুরের একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের পরামর্শে ২১ দিন পর পর ব্যয়বহুল ইমিউনোথেরাপি নেওয়া শুরু করেন তিনি।

ইমিউনোথেরাপির শুরুর দিনগুলো সামিয়ার জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক ছিল। থেরাপির পর শরীর এতটাই দুর্বল হয়ে পড়ত যে সামান্য হাঁটার শক্তিও থাকত না। শরীর কাঁপা ও ত্বকের নানা সমস্যা দেখা দিলেও তিনি নিজেকে মানসিকভাবে অসুস্থ ভাবতে চাননি। এই অসুস্থতার মধ্যেও তিনি নিয়মিত অফিস করেছেন, কাজ করেছেন এবং বন্ধুদের আড্ডায় মেতে থেকেছেন। ক্যানসারের খবরটি দীর্ঘদিন কেবল পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন, কারণ তিনি কারও সহানুভূতি পেতে চাননি। দুই বছরের চিকিৎসা শেষে তাঁর শরীর স্থিতিশীল হয়েছিল এবং চিকিৎসকেরাও আশাবাদী ছিলেন যে ক্যানসার আর ছড়াচ্ছে না। তবে সেই স্বস্তির দিন পেরিয়ে এখন আবার নতুন করে কেমোথেরাপির লড়াইয়ে নেমেছেন সামিয়া, যেখানে তাঁর একমাত্র হাতিয়ার আগের মতোই অদম্য মানসিক শক্তি।

চিকিৎসার পর এতটাই দুর্বল হয়ে পড়তেন যে কখনো ১০ কদম হাঁটার শক্তিও থাকত না।

এমনও হয়েছে, চিকিৎসার ডোজ নিয়ে বাসায় ফিরে ৩০ মিনিট বিশ্রাম নিয়ে বন্ধুদের আড্ডায় যোগ দিয়েছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

ক্যানসারের সঙ্গে সামিয়া আফরিনের নতুন লড়াই, চুল কেটে নিলেন নতুন লুক

আপডেট সময় : ০৪:১১:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে মরণব্যাধি ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়ে যাচ্ছেন দেশের পরিচিত টেলিভিশন উপস্থাপক সামিয়া আফরিন। দীর্ঘ চিকিৎসার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছিল, ফিরেছিলেন স্বাভাবিক জীবনেও। তবে সেই স্বস্তির মেয়াদ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। মাত্র তিন মাস আগে তাঁর শরীরে দ্বিতীয়বারের মতো ম্যালিগন্যান্ট টিউমার ধরা পড়েছে। এবারের রোগটি হলো ওভারিয়ান ক্যানসার। পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। পরীক্ষায় এটি ‘হাই-গ্রেড কার্সিনোমা’ হিসেবে শনাক্ত হওয়ায় বর্তমানে তাঁকে কেমোথেরাপি নিতে হচ্ছে। আজ রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে ক্যানসারের বিরুদ্ধে তাঁর এই নতুন যুদ্ধের কথা জানিয়েছেন সামিয়া নিজেই।

চিকিৎসকেরা আগেই সতর্ক করেছিলেন যে কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় তাঁর মাথার চুল পড়ে যেতে পারে। এই আশঙ্কায় ভেঙে না পড়ে ইতিবাচক মানসিকতা দেখিয়েছেন সামিয়া। চুল পড়ে যাওয়ার আগেই নিজে চুল ছোট করে একটি নতুন লুক নিয়েছেন তিনি। চুল কাটার সেই বিশেষ মুহূর্তের একটি ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশ করে তিনি জানিয়েছেন, এই কঠিন সময়কে তিনি নিজের মতো করে হাসিমুখে মেনে নিতে চান। সামিয়া লিখেছেন, মাত্র তিন মাস আগে তাঁর শরীরে দ্বিতীয় ম্যালিগন্যান্ট ধরা পড়ে। দুর্ভাগ্যবশত এটি হাই-গ্রেড কার্সিনোমা হওয়ায় তাঁকে কেমোথেরাপির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এবারই প্রথম তিনি কেমোর অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, কারণ এর আগে প্রথমবার ক্যানসার আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁর চিকিৎসা হয়েছিল ইমিউনোথেরাপির মাধ্যমে।

কেমোর কারণে চুল পড়ে যাওয়ার বিষয়টিকে বেশ সহজভাবেই গ্রহণ করেছেন এই উপস্থাপক। তাঁর ভাষায়, চিকিৎসকেরা চুল পড়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথা জানানোর পর তিনি মন খারাপ না করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিষয়টি মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সবকিছু নিয়ে মন খারাপ করে কোনো লাভ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারাটাই আসল বিষয়। ক্যানসার চিকিৎসার এই কঠিন পথচলার কষ্ট কেবল ভুক্তভোগীরাই বুঝবেন বলে মনে করেন তিনি। সামিয়া লিখেছেন, যাঁরা এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছেন, তাঁরাই জানেন এই লড়াই কতটা যন্ত্রণাদায়ক। তিনি চান না তাঁর কোনো প্রিয় মানুষকে কখনো এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হোক। সবশেষে তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন, যেন আগেরবারের মতো এবারও শক্তি ধরে রেখে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।

সামিয়া আফরিনের এই কঠিন লড়াই শুরু হয়েছিল ২০২২ সালের এপ্রিলে। সে সময় শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করলে ঢাকার একটি হাসপাতালে পরীক্ষা করান তিনি। পরীক্ষায় ক্যানসারের জীবাণুবাহী টিউমার ধরা পড়লে স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত সিঙ্গাপুরে যান। প্রথম আলোকে দেওয়া আগের এক সাক্ষাৎকারে সামিয়া জানিয়েছিলেন, নিয়মিত শরীরচর্চা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের পরও ক্যানসার হওয়ার বিষয়টি শুরুতে তিনি বিশ্বাসই করতে পারেননি। তবে সিঙ্গাপুরে বিস্তারিত পরীক্ষার পর জানা যায়, তিনি চতুর্থ ধাপের কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত এবং তা ফুসফুস ও লিম্ফ নোডে ছড়িয়ে পড়েছে। এই খবরটি তাঁর জন্য বড় ধাক্কা ছিল এবং একপর্যায়ে তিনি চিকিৎসাও নিতে চাননি। পরবর্তীতে সিঙ্গাপুরের একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের পরামর্শে ২১ দিন পর পর ব্যয়বহুল ইমিউনোথেরাপি নেওয়া শুরু করেন তিনি।

ইমিউনোথেরাপির শুরুর দিনগুলো সামিয়ার জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক ছিল। থেরাপির পর শরীর এতটাই দুর্বল হয়ে পড়ত যে সামান্য হাঁটার শক্তিও থাকত না। শরীর কাঁপা ও ত্বকের নানা সমস্যা দেখা দিলেও তিনি নিজেকে মানসিকভাবে অসুস্থ ভাবতে চাননি। এই অসুস্থতার মধ্যেও তিনি নিয়মিত অফিস করেছেন, কাজ করেছেন এবং বন্ধুদের আড্ডায় মেতে থেকেছেন। ক্যানসারের খবরটি দীর্ঘদিন কেবল পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন, কারণ তিনি কারও সহানুভূতি পেতে চাননি। দুই বছরের চিকিৎসা শেষে তাঁর শরীর স্থিতিশীল হয়েছিল এবং চিকিৎসকেরাও আশাবাদী ছিলেন যে ক্যানসার আর ছড়াচ্ছে না। তবে সেই স্বস্তির দিন পেরিয়ে এখন আবার নতুন করে কেমোথেরাপির লড়াইয়ে নেমেছেন সামিয়া, যেখানে তাঁর একমাত্র হাতিয়ার আগের মতোই অদম্য মানসিক শক্তি।

চিকিৎসার পর এতটাই দুর্বল হয়ে পড়তেন যে কখনো ১০ কদম হাঁটার শক্তিও থাকত না।

এমনও হয়েছে, চিকিৎসার ডোজ নিয়ে বাসায় ফিরে ৩০ মিনিট বিশ্রাম নিয়ে বন্ধুদের আড্ডায় যোগ দিয়েছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo