কিংবদন্তি অভিনেতা জসিমের জন্মদিনে ফিরে দেখা তার বর্ণাঢ্য জীবন
- আপডেট সময় : ০২:৪২:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

ঢালিউড ইন্ডাস্ট্রির ইতিহাসে অ্যাকশনধর্মী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা আবুল খায়ের জসিম উদ্দিন, যিনি জসিম নামেই সমধিক পরিচিত, আজ তার জন্মদিন। ১৯৪৫ সালের ১৪ আগস্ট ঢাকার নবাবগঞ্জে জন্মগ্রহণ করা এই কিংবদন্তি অভিনেতা কেবল রুপালি পর্দায়ই নয়, ব্যক্তিজীবনেও ছিলেন অসামান্য। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি ২ নম্বর সেক্টরে মেজর হায়দারের নেতৃত্বে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সাহসিকতার সাথে লড়াই করেছিলেন।
সিনেমা জগতে জসিমের পথচলা শুরু হয় সত্তরের দশকের শুরুতে। ১৯৭২ সালে ‘দেবর’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়ে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। এর পরের বছর ‘রংবাজ’ সিনেমায় অ্যাকশন পরিচালক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি দেওয়ান নজরুল পরিচালিত ‘দোস্ত দুশমন’ সিনেমায় খলনায়ক চরিত্রে অভিনয় করে তিনি ব্যাপক পরিচিতি পান। ভারতের জনপ্রিয় সিনেমা ‘শোলে’র আদলে নির্মিত এই ছবিতে গাফফার চরিত্রে তার অনবদ্য অভিনয় এতটাই প্রশংসিত হয়েছিল যে, মূল ছবির গব্বর সিং চরিত্রে অভিনয় করা আমজাদ খানও তার অভিনয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
খলনায়ক হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও পরবর্তী সময়ে ‘সবুজ সাথী’ সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। এরপর অ্যাকশনধর্মী সিনেমায় তার জয়যাত্রা অব্যাহত থাকে। আশির দশকে শাবানা ও রোজিনার সঙ্গে তার জুটি বিশেষ জনপ্রিয়তা পায়। শোষিত-বঞ্চিত মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন সিনেমায় তার চরিত্র দর্শকদের মনে গভীর দাগ কাটে। দুই দশকের ক্যারিয়ারে তিনি ‘রংবাজ’, ‘এক মুঠো ভাত’, ‘প্রতিজ্ঞা’, ‘লাইলী মজনু’, ‘জনি’, ‘সারেন্ডার’, ‘লালু মাস্তান’, ‘মাস্তান রাজা’, ‘কালিয়া’ এবং ‘স্বামী কেন আসামি’সহ দুই শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন।
অভিনয়ের পাশাপাশি নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে জসিমের ছিল আলাদা নজর। তার জীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য সাফল্য ছিল রিয়াজকে খুঁজে পাওয়া। একজন কিংবদন্তির চোখে সেদিন ধরা পড়া সেই তরুণ রিয়াজ পরবর্তীতে ঢালিউডের একজন আলোচিত নায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। এই আবিষ্কারের গল্পটি আজও সিনেমাপ্রেমীদের কাছে বেশ আগ্রহের বিষয়।
ব্যক্তিজীবনে জসিম অভিনেত্রী সুচরিতাকে বিয়ে করেছিলেন, পরবর্তীতে তিনি নাসরিনকে বিয়ে করেন। তাদের তিন ছেলে রাতুল, রাহুল ও সামি সংগীতের সাথে যুক্ত। ১৯৯৮ সালের ৮ অক্টোবর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে মাত্র ৫৩ বছর বয়সে এই কিংবদন্তি অভিনেতা পরপারে পাড়ি জমান। তার মৃত্যুর পরও চলচ্চিত্রাঙ্গনে স্মৃতি ধরে রাখা হয়েছে এবং এফডিসির একটি ফ্লোর ‘জসিম ফ্লোর’ নামে পরিচিত।


























