ঢাকা ০৪:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কিশোরগঞ্জ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, জেনে নিন পুরো সূচি আখাউড়ায় মেয়রপ্রার্থী চূড়ান্ত করতে ভোটের আগেই ভোট উৎসব ফলাফল নয়, সেশন ধরে এগোতে চায় বাংলাদেশ: নাজমুল ৩ পাইলটকে আটকে রেখেছে কাতার, রেড ক্রসের হস্তক্ষেপ চায় ইরান ছাগলনাইয়ায় কচুর পাতা কাটা নিয়ে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ডারউইন টেস্টে জয়ের পথে বাংলাদেশ, বাস্তব সম্ভাবনা দেখছেন মার্ক ওয়াহ মক্কা চুক্তি বনাম ইসরাইল-আমিরাত জোট: মধ্যপ্রাচ্যের নতুন নিরাপত্তা সমীকরণ বিচার না হওয়া পর্যন্ত সমঝোতায় যাবে না শিবির-ছাত্রশক্তি মিথ্যা ভান না করে সত্যকে বেছে নেওয়া জরুরি: প্রভা ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা: শেখ হাসিনার সামনে কী পথ খোলা?

মক্কা চুক্তি বনাম ইসরাইল-আমিরাত জোট: মধ্যপ্রাচ্যের নতুন নিরাপত্তা সমীকরণ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৩০:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি মধ্যপ্রাচ্য ও বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা সমীকরণে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরাইলের মধ্যকার ঘনিষ্ঠ সামরিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতাও আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইউএই-ইসরাইল অংশীদারত্ব দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সক্ষমতায় এগিয়ে থাকলেও, মক্কা চুক্তির রয়েছে অধিকতর রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা ও ভবিষ্যতে সম্প্রসারণের সম্ভাবনা।

মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতের এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক ইউরোপের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় ইসরাইলের সঙ্গে দেশটির ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। বৈঠকে অংশ নেওয়া এক ইউরোপীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আমিরাত ইসরাইলের সঙ্গে পুরোপুরি সমন্বিত এবং এই অংশীদারত্বের কার্যত কোনো সীমা নেই। অন্যদিকে, মক্কা চুক্তি নিয়ে পশ্চিমা ও আরব বিশ্বের কর্মকর্তারা এখনো প্রশ্ন তুলছেন যে, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান বাস্তবে একে অপরের পাশে কতটা দাঁড়াবে এবং যুদ্ধের পরিস্থিতিতে তারা কতটা কার্যকর সামরিক সহায়তা প্রদান করতে পারবে।

মক্কা চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই ইয়েমেনের হুথিরা সৌদি আরবের জাজান অঞ্চলে তেল শোধনাগারে হামলা চালালে পাকিস্তান ও তুরস্ক সরাসরি সামরিক প্রতিক্রিয়ায় এগিয়ে আসেনি। বিপরীতে, চলতি বছরের শুরুতে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে ইসরাইল সংযুক্ত আরব আমিরাতকে আয়রন ডোম আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠিয়ে সহায়তা করে। পরবর্তীতে আবুধাবি ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলের সঙ্গে সামরিক হামলাতেও অংশ নেয়। এক মার্কিন কর্মকর্তার মতে, যুদ্ধের সময় ইসরাইলের এই বড় ধরনের সহায়তা আবুধাবি কখনোই ভুলবে না। তবে ইউএই-ইসরাইল সামরিক সহযোগিতা থাকলেও, ২০২০ সালে আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে স্বীকৃতি দেওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের সম্পর্কটি প্রকাশ্যে ছিল না।

মক্কা চুক্তির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর প্রকাশ্য ঘোষণা। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান পবিত্র নগরী মক্কায় একসঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করার সময় চুক্তিটির রাজনৈতিক গুরুত্ব ফুটে ওঠে। বিশ্লেষক আয়হাম কামেলের মতে, ইউএই-ইসরাইল জোট মূলত সামরিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠলেও, মক্কা চুক্তির ভিত্তি সামরিক হলেও এর রাজনৈতিক তাৎপর্য অনেক বেশি। তিনি মনে করেন, মক্কা চুক্তির একটি প্রকাশ্য জনসমর্থনের ভিত্তি রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এতে আরও দেশ যুক্ত হতে পারে।

কাগজে-কলমে মক্কা চুক্তির সামরিক সক্ষমতা বেশ শক্তিশালী। তুরস্কের রয়েছে ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনী, সৌদি আরব আরব বিশ্বের একমাত্র জি-২০ অর্থনীতি এবং পাকিস্তান বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী মুসলিম রাষ্ট্র। সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে কয়েক দশকের পুরোনো সামরিক সম্পর্ক রয়েছে, যেখানে পাকিস্তানি পাইলট ও কর্মকর্তারা সৌদি বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে তিন দেশের নিরাপত্তা হুমকির ধরন ভিন্ন। সৌদি আরব ইরানকে বড় হুমকি হিসেবে দেখলেও, পাকিস্তান ইরানের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে অনেক সময় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। এছাড়া জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ড ও মুসলিম ব্রাদারহুড ইস্যুতে তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল, যদিও সাম্প্রতিক সময়ে তারা কাছাকাছি এসেছে।

চ্যাথাম হাউসের উপসাগরীয় বিশেষজ্ঞ নিল কুইলিয়ামের মতে, তিন দেশের নিরাপত্তা-দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন হওয়ায় কার্যকর সামরিক সমন্বয়ের জন্য বড় ধরনের প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তুরস্ক যৌথ মহড়া ও প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতার কথা বললেও, তিন দেশের সামরিক ব্যবস্থাকে গভীরভাবে একীভূত করা সহজ নয়। পাকিস্তানের সামরিক সরবরাহকারী চীন, অন্যদিকে তুরস্কের যুদ্ধবিমান কিনতে চাইলেও সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ এর দিকে নজর রাখছে। সব মিলিয়ে, তাৎক্ষণিক সক্ষমতায় ইউএই-ইসরাইল জোট এগিয়ে থাকলেও, মক্কা চুক্তি দীর্ঘমেয়াদে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা বাধ্যবাধকতা ও কৌশলগত গভীরতার কারণে আরও বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসির বিশেষজ্ঞ এলিজাবেথ ডেন্ট।

সৌদি আরব ইরানকে বড় আঞ্চলিক হুমকি হিসেবে দেখে। ২০১৫ সালে ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সামরিক অভিযান শুরু করলেও পাকিস্তান সরাসরি এতে অংশ নেয়নি। বরং ইরানের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে সুসম্পর্ক থাকায় পাকিস্তান বিভিন্ন সময়ে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে।

তুরস্ক ও সৌদি আরবের সম্পর্কও সবসময় মসৃণ ছিল না। মুসলিম ব্রাদারহুড ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধ ছিল। ২০১৯ সালে ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যার পর তুরস্ক-সৌদি সম্পর্ক আরও তলানিতে পৌঁছায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিরিয়া ও সুদানের মতো ইস্যুতে দুই দেশ আবার কাছাকাছি এসেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor

নিউজটি শেয়ার করুন

মক্কা চুক্তি বনাম ইসরাইল-আমিরাত জোট: মধ্যপ্রাচ্যের নতুন নিরাপত্তা সমীকরণ

আপডেট সময় : ০৩:৩০:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি মধ্যপ্রাচ্য ও বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা সমীকরণে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরাইলের মধ্যকার ঘনিষ্ঠ সামরিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতাও আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইউএই-ইসরাইল অংশীদারত্ব দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সক্ষমতায় এগিয়ে থাকলেও, মক্কা চুক্তির রয়েছে অধিকতর রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা ও ভবিষ্যতে সম্প্রসারণের সম্ভাবনা।

মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতের এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক ইউরোপের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় ইসরাইলের সঙ্গে দেশটির ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। বৈঠকে অংশ নেওয়া এক ইউরোপীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আমিরাত ইসরাইলের সঙ্গে পুরোপুরি সমন্বিত এবং এই অংশীদারত্বের কার্যত কোনো সীমা নেই। অন্যদিকে, মক্কা চুক্তি নিয়ে পশ্চিমা ও আরব বিশ্বের কর্মকর্তারা এখনো প্রশ্ন তুলছেন যে, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান বাস্তবে একে অপরের পাশে কতটা দাঁড়াবে এবং যুদ্ধের পরিস্থিতিতে তারা কতটা কার্যকর সামরিক সহায়তা প্রদান করতে পারবে।

মক্কা চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই ইয়েমেনের হুথিরা সৌদি আরবের জাজান অঞ্চলে তেল শোধনাগারে হামলা চালালে পাকিস্তান ও তুরস্ক সরাসরি সামরিক প্রতিক্রিয়ায় এগিয়ে আসেনি। বিপরীতে, চলতি বছরের শুরুতে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে ইসরাইল সংযুক্ত আরব আমিরাতকে আয়রন ডোম আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠিয়ে সহায়তা করে। পরবর্তীতে আবুধাবি ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলের সঙ্গে সামরিক হামলাতেও অংশ নেয়। এক মার্কিন কর্মকর্তার মতে, যুদ্ধের সময় ইসরাইলের এই বড় ধরনের সহায়তা আবুধাবি কখনোই ভুলবে না। তবে ইউএই-ইসরাইল সামরিক সহযোগিতা থাকলেও, ২০২০ সালে আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে স্বীকৃতি দেওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের সম্পর্কটি প্রকাশ্যে ছিল না।

মক্কা চুক্তির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর প্রকাশ্য ঘোষণা। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান পবিত্র নগরী মক্কায় একসঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করার সময় চুক্তিটির রাজনৈতিক গুরুত্ব ফুটে ওঠে। বিশ্লেষক আয়হাম কামেলের মতে, ইউএই-ইসরাইল জোট মূলত সামরিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠলেও, মক্কা চুক্তির ভিত্তি সামরিক হলেও এর রাজনৈতিক তাৎপর্য অনেক বেশি। তিনি মনে করেন, মক্কা চুক্তির একটি প্রকাশ্য জনসমর্থনের ভিত্তি রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এতে আরও দেশ যুক্ত হতে পারে।

কাগজে-কলমে মক্কা চুক্তির সামরিক সক্ষমতা বেশ শক্তিশালী। তুরস্কের রয়েছে ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনী, সৌদি আরব আরব বিশ্বের একমাত্র জি-২০ অর্থনীতি এবং পাকিস্তান বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী মুসলিম রাষ্ট্র। সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে কয়েক দশকের পুরোনো সামরিক সম্পর্ক রয়েছে, যেখানে পাকিস্তানি পাইলট ও কর্মকর্তারা সৌদি বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে তিন দেশের নিরাপত্তা হুমকির ধরন ভিন্ন। সৌদি আরব ইরানকে বড় হুমকি হিসেবে দেখলেও, পাকিস্তান ইরানের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে অনেক সময় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। এছাড়া জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ড ও মুসলিম ব্রাদারহুড ইস্যুতে তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল, যদিও সাম্প্রতিক সময়ে তারা কাছাকাছি এসেছে।

চ্যাথাম হাউসের উপসাগরীয় বিশেষজ্ঞ নিল কুইলিয়ামের মতে, তিন দেশের নিরাপত্তা-দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন হওয়ায় কার্যকর সামরিক সমন্বয়ের জন্য বড় ধরনের প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তুরস্ক যৌথ মহড়া ও প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতার কথা বললেও, তিন দেশের সামরিক ব্যবস্থাকে গভীরভাবে একীভূত করা সহজ নয়। পাকিস্তানের সামরিক সরবরাহকারী চীন, অন্যদিকে তুরস্কের যুদ্ধবিমান কিনতে চাইলেও সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ এর দিকে নজর রাখছে। সব মিলিয়ে, তাৎক্ষণিক সক্ষমতায় ইউএই-ইসরাইল জোট এগিয়ে থাকলেও, মক্কা চুক্তি দীর্ঘমেয়াদে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা বাধ্যবাধকতা ও কৌশলগত গভীরতার কারণে আরও বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসির বিশেষজ্ঞ এলিজাবেথ ডেন্ট।

সৌদি আরব ইরানকে বড় আঞ্চলিক হুমকি হিসেবে দেখে। ২০১৫ সালে ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সামরিক অভিযান শুরু করলেও পাকিস্তান সরাসরি এতে অংশ নেয়নি। বরং ইরানের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে সুসম্পর্ক থাকায় পাকিস্তান বিভিন্ন সময়ে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে।

তুরস্ক ও সৌদি আরবের সম্পর্কও সবসময় মসৃণ ছিল না। মুসলিম ব্রাদারহুড ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধ ছিল। ২০১৯ সালে ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যার পর তুরস্ক-সৌদি সম্পর্ক আরও তলানিতে পৌঁছায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিরিয়া ও সুদানের মতো ইস্যুতে দুই দেশ আবার কাছাকাছি এসেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor