ইবির হল ডাইনিংয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার পরিবেশন নিয়ে ক্ষোভ
- আপডেট সময় : ০২:০৩:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য কম খরচে খাবারের অন্যতম প্রধান উৎস হলো হলের ডাইনিংগুলো। তবে সম্প্রতি এসব ডাইনিংয়ে খাবার প্রস্তুত, সংরক্ষণ ও পরিবেশনের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি না মানার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে একাধিক হলের ডাইনিংয়ে অপরিচ্ছন্ন রান্নাঘর, মেঝেতে মাছ-মাংস কাটাকাটি, এবং খোলা অবস্থায় রান্না করা খাবার রাখার মতো উদ্বেগজনক চিত্র দেখা গেছে।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ডাইনিংয়ে খাবার খেলেও সেখানে কার্যকর কোনো তদারকি নেই। রান্না করা খাবার ঢেকে না রাখায় ধুলাবালি ও মাছি পড়ে তা দূষিত হচ্ছে। এছাড়া খাবারে পোকামাকড়সহ অনাকাঙ্ক্ষিত উপাদান পাওয়ার ঘটনাও নিয়মিত অভিযোগের তালিকায় রয়েছে। সাদ্দাম হোসেন হলের ক্ষেত্রে আগের রাতের অবশিষ্ট ভাত ধুয়ে পরদিন দুপুরে পরিবেশনের অভিযোগও রয়েছে।
রান্নাঘরের পরিবেশ নিয়ে রয়েছে ব্যাপক অসন্তোষ। ওয়াশরুম ব্যবহারের জন্য আলাদা জুতা বা স্যান্ডেলের ব্যবস্থা না থাকায় একই জুতা পরে যাতায়াত ও খাবার তৈরির কাজ চলছে। শহীদ জিয়াউর রহমান হল, লালন শাহ হল এবং মেয়েদের তিনটি হলসহ বিভিন্ন স্থানে একই চিত্র দেখা গেছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, ওয়াশরুম ব্যবহারের পর হাত পরিষ্কার না করেই খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে, আবার ডাইনিংয়ের ময়লা পরিষ্কারের পর একই হাতে পরিবেশন করা হয় খাবার।
খাবারের মান ও বৈচিত্র্য নিয়েও শিক্ষার্থীদের হতাশা প্রবল। নিয়মিত একই ধরনের তরকারি পরিবেশন করা হয় এবং প্রায়ই খাবারে দুর্গন্ধ বা পোকামাকড় পাওয়ার অভিযোগ ওঠে। একাধিকবার সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি। অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে হলের বাইরে থেকে খাবার কিনছেন। লালন শাহ হলের রাশেদ ইসলাম বলেন, নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীরা হলের খাবারের ওপর নির্ভরশীল হলেও সেখানে পুষ্টিমান নিশ্চিত হচ্ছে না। খালেদা জিয়া হলের এক শিক্ষার্থী জানান, প্রশাসনকে জানালে সাময়িক উন্নতি হলেও কদিন পর পুনরায় একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে লালন শাহ হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে এবং হল বডির কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শহীদ আনাস হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আব্দুল কাদের স্বীকার করেছেন যে, রান্নাঘরের জন্য আলাদা জুতা কিনে দেওয়া হলেও তা সবসময় ব্যবহার করা হয় না। তিনি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কথা উল্লেখ করে জানান, বর্তমান ভর্তুকি পর্যাপ্ত নয়। মিল রেট ৩০ টাকা থেকে ৩৫ টাকায় উন্নীত করা এবং প্রশাসনের সাথে আলোচনার মাধ্যমে খাবারের মানোন্নয়নের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।





























