ঢাকা ১২:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আর আস্থা নেই ইরানের: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান মুনাফা ছাড়ার অঙ্গীকার দিয়ে টাকা পাচ্ছেন আমানতকারীরা রাড্ডা ক্লিনিকে হামলার ঘটনায় শাহ আলী থানার ওসি প্রত্যাহার ডিসেম্বরেই ফিরছেন শেখ হাসিনা? গোয়েন্দা প্রতিবেদনে সম্ভাব্য সব রুট শেয়ারবাজারে লেনদেনের শুরুতে মিশ্র প্রবণতা, ডিএসইতে সূচক বৃদ্ধি রাবিতে ঘুমন্ত শিক্ষার্থীর পায়ে বিষধর কালাচ সাপের দংশন শুধু জিপিএ-৫ পাওয়ার প্রতিযোগিতায় শিক্ষার উদ্দেশ্য সীমাবদ্ধ নয় সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা: জমি নিয়ে বিরোধে আটক ৩ টেনেসিতে ২০০ বছর পর নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রস্তুতি খুলনায় ২৭ বছর পর গ্রেফতার এরশাদ শিকদারের সহযোগী জয়নাল

অবসর ও কল্যাণসুবিধার আংশিক টাকা পাচ্ছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:৫১:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে তাঁদের অবসর ও কল্যাণসুবিধার আংশিক টাকা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মূলত চাকরিকালীন সময়ে তাঁদের বেতন থেকে কেটে রাখা চাঁদার অংশটি আপাতত ফেরত দেওয়া হবে। বাকি টাকা পরবর্তীতে আবেদনের ক্রমানুযায়ী পরিশোধ করা হবে। আগামী ১৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই বিশেষ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এই প্রক্রিয়ায় অবসরসুবিধার জন্য ৭০ হাজার ১১৯টি আবেদনের বিপরীতে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা এবং কল্যাণসুবিধার জন্য ৫৩ হাজার ৪৭৭টি আবেদনের বিপরীতে প্রায় ৫৬৫ কোটি টাকা বিতরণ করা হবে। একজন শিক্ষক-কর্মচারী সাধারণত উভয় সুবিধাই পেয়ে থাকেন। ফলে দুটি খাতে মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৯৬টি আবেদনের বিপরীতে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হলেও, প্রকৃত সুবিধাভোগী শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা এর চেয়ে কম। কল্যাণসুবিধার জন্য গত ৩০ জুন পর্যন্ত এবং অবসরসুবিধার জন্য ৩১ জুলাই পর্যন্ত যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁরাই এই আংশিক সুবিধা পাবেন।

নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গ্রেডভেদে একেকজন শিক্ষক অবসরসুবিধার জন্য সর্বোচ্চ সাড়ে ৪ লাখ টাকা এবং কল্যাণসুবিধার জন্য সর্বোচ্চ ২ লাখ ৩৯ হাজার টাকা পর্যন্ত পাবেন। উদাহরণস্বরূপ, সর্বোচ্চ গ্রেডে থাকা একজন অধ্যক্ষ অবসরসুবিধা হিসেবে মোট প্রায় ৩৮ লাখ টাকা পান, যার মধ্যে তাঁর নিজস্ব চাঁদার পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা। কল্যাণসুবিধা হিসেবে তিনি পান ২০ লাখ টাকার বেশি। অন্যদিকে, মাধ্যমিকের একজন সহকারী শিক্ষক মোট প্রায় ১৭ লাখ টাকা অবসরসুবিধা পান, যার মধ্যে চাঁদার অংশ প্রায় ২ লাখ টাকা। কল্যাণসুবিধা হিসেবে তিনি পান পৌনে ৭ লাখ টাকা, যেখানে তাঁর চাঁদার পরিমাণ প্রায় ৭৭ হাজার টাকা। কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এই টাকার পরিমাণ আরও কম হবে।

বর্তমানে সারা দেশে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীর সংখ্যা ছয় লাখের বেশি। তাঁদের অবসর ও কল্যাণসুবিধা দুটি পৃথক ট্রাস্ট ও বোর্ডের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট কল্যাণসুবিধার অর্থ দেয় এবং অবসরসুবিধার অর্থ দেয় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসরসুবিধা বোর্ড। দীর্ঘদিন ধরে হাজার হাজার শিক্ষক অবসরের পর বছরের পর বছর নিজেদের প্রাপ্য টাকার জন্য অপেক্ষা করছেন। অনেকে টাকা পাওয়ার আগেই মারা যান। এ নিয়ে শিক্ষকসমাজে তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ ছিল। এই পরিস্থিতিতে আংশিক টাকা পাওয়ার সিদ্ধান্তকে শিক্ষকেরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, তবে বাকি টাকাও যেন দ্রুত দেওয়া হয় সেই প্রত্যাশা জানিয়েছেন তাঁরা।

শিক্ষকদের অবসর ও কল্যাণ তহবিলের অর্থ মূলত তাঁদের চাঁদা, ব্যাংকে জমা রাখা টাকার সুদ, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া বার্ষিক ফি এবং মাঝে মাঝে সরকারের থোক বরাদ্দ বা বন্ড থেকে আসে। ২০১৯ সাল থেকে অবসরসুবিধার জন্য মূল বেতনের ৬ শতাংশ এবং কল্যাণসুবিধার জন্য ৪ শতাংশ হারে চাঁদা কাটা হচ্ছে। এর আগে এই হার ছিল যথাক্রমে ৪ শতাংশ ও ২ শতাংশ। এ ছাড়া প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বছরে ১০০ টাকা নেওয়া হয়, যার ৭০ টাকা অবসরসুবিধা এবং ৩০ টাকা কল্যাণসুবিধা তহবিলে জমা হয়। অবসরসুবিধা বোর্ডের সচিব মো. মোশাররফ হোসেন জানান, বর্তমানে দুই প্রতিষ্ঠানে জমা থাকা অর্থ দিয়েই এই আংশিক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। আবেদনকারী প্রায় সব শিক্ষকই তাঁদের চাঁদার অংশ পাবেন এবং বাকি টাকা তহবিল আসা মাত্রই দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষকদের ভোগান্তি দূর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। কল্যাণ ট্রাস্টের একজন কর্মকর্তাও আশা প্রকাশ করেছেন যে, পরবর্তীতে সরকার হয়তো এ খাতে নতুন তহবিল দেবে, যা দিয়ে বাকি অর্থ পরিশোধ করা সম্ভব হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

অবসর ও কল্যাণসুবিধার আংশিক টাকা পাচ্ছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা

আপডেট সময় : ০৯:৫১:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে তাঁদের অবসর ও কল্যাণসুবিধার আংশিক টাকা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মূলত চাকরিকালীন সময়ে তাঁদের বেতন থেকে কেটে রাখা চাঁদার অংশটি আপাতত ফেরত দেওয়া হবে। বাকি টাকা পরবর্তীতে আবেদনের ক্রমানুযায়ী পরিশোধ করা হবে। আগামী ১৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই বিশেষ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এই প্রক্রিয়ায় অবসরসুবিধার জন্য ৭০ হাজার ১১৯টি আবেদনের বিপরীতে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা এবং কল্যাণসুবিধার জন্য ৫৩ হাজার ৪৭৭টি আবেদনের বিপরীতে প্রায় ৫৬৫ কোটি টাকা বিতরণ করা হবে। একজন শিক্ষক-কর্মচারী সাধারণত উভয় সুবিধাই পেয়ে থাকেন। ফলে দুটি খাতে মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৯৬টি আবেদনের বিপরীতে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হলেও, প্রকৃত সুবিধাভোগী শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা এর চেয়ে কম। কল্যাণসুবিধার জন্য গত ৩০ জুন পর্যন্ত এবং অবসরসুবিধার জন্য ৩১ জুলাই পর্যন্ত যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁরাই এই আংশিক সুবিধা পাবেন।

নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গ্রেডভেদে একেকজন শিক্ষক অবসরসুবিধার জন্য সর্বোচ্চ সাড়ে ৪ লাখ টাকা এবং কল্যাণসুবিধার জন্য সর্বোচ্চ ২ লাখ ৩৯ হাজার টাকা পর্যন্ত পাবেন। উদাহরণস্বরূপ, সর্বোচ্চ গ্রেডে থাকা একজন অধ্যক্ষ অবসরসুবিধা হিসেবে মোট প্রায় ৩৮ লাখ টাকা পান, যার মধ্যে তাঁর নিজস্ব চাঁদার পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা। কল্যাণসুবিধা হিসেবে তিনি পান ২০ লাখ টাকার বেশি। অন্যদিকে, মাধ্যমিকের একজন সহকারী শিক্ষক মোট প্রায় ১৭ লাখ টাকা অবসরসুবিধা পান, যার মধ্যে চাঁদার অংশ প্রায় ২ লাখ টাকা। কল্যাণসুবিধা হিসেবে তিনি পান পৌনে ৭ লাখ টাকা, যেখানে তাঁর চাঁদার পরিমাণ প্রায় ৭৭ হাজার টাকা। কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এই টাকার পরিমাণ আরও কম হবে।

বর্তমানে সারা দেশে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীর সংখ্যা ছয় লাখের বেশি। তাঁদের অবসর ও কল্যাণসুবিধা দুটি পৃথক ট্রাস্ট ও বোর্ডের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট কল্যাণসুবিধার অর্থ দেয় এবং অবসরসুবিধার অর্থ দেয় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসরসুবিধা বোর্ড। দীর্ঘদিন ধরে হাজার হাজার শিক্ষক অবসরের পর বছরের পর বছর নিজেদের প্রাপ্য টাকার জন্য অপেক্ষা করছেন। অনেকে টাকা পাওয়ার আগেই মারা যান। এ নিয়ে শিক্ষকসমাজে তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ ছিল। এই পরিস্থিতিতে আংশিক টাকা পাওয়ার সিদ্ধান্তকে শিক্ষকেরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, তবে বাকি টাকাও যেন দ্রুত দেওয়া হয় সেই প্রত্যাশা জানিয়েছেন তাঁরা।

শিক্ষকদের অবসর ও কল্যাণ তহবিলের অর্থ মূলত তাঁদের চাঁদা, ব্যাংকে জমা রাখা টাকার সুদ, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া বার্ষিক ফি এবং মাঝে মাঝে সরকারের থোক বরাদ্দ বা বন্ড থেকে আসে। ২০১৯ সাল থেকে অবসরসুবিধার জন্য মূল বেতনের ৬ শতাংশ এবং কল্যাণসুবিধার জন্য ৪ শতাংশ হারে চাঁদা কাটা হচ্ছে। এর আগে এই হার ছিল যথাক্রমে ৪ শতাংশ ও ২ শতাংশ। এ ছাড়া প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বছরে ১০০ টাকা নেওয়া হয়, যার ৭০ টাকা অবসরসুবিধা এবং ৩০ টাকা কল্যাণসুবিধা তহবিলে জমা হয়। অবসরসুবিধা বোর্ডের সচিব মো. মোশাররফ হোসেন জানান, বর্তমানে দুই প্রতিষ্ঠানে জমা থাকা অর্থ দিয়েই এই আংশিক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। আবেদনকারী প্রায় সব শিক্ষকই তাঁদের চাঁদার অংশ পাবেন এবং বাকি টাকা তহবিল আসা মাত্রই দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষকদের ভোগান্তি দূর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। কল্যাণ ট্রাস্টের একজন কর্মকর্তাও আশা প্রকাশ করেছেন যে, পরবর্তীতে সরকার হয়তো এ খাতে নতুন তহবিল দেবে, যা দিয়ে বাকি অর্থ পরিশোধ করা সম্ভব হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo