ঢাকা ০৩:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১০ বছরের পথচলা শেষে আলাদা হচ্ছেন প্রীতম ও শেহতাজ পুলিশের সহায়তায় মাদক কারবারি ‘পিচ্চি রাজা’র পলায়ন, এএসআইসহ গ্রেপ্তার ৩ মিরপুরে ভাসানটেক থানার এসআই মাহমুদুল হাসানের মরদেহ উদ্ধার মালয়েশিয়ায় পাহাড়ধসে নিখোঁজ বাংলাদেশি শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার বাকেরগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবাহী ঐতিহাসিক কলসকাঠী শিবমন্দির সংরক্ষণের দাবি সৈয়দপুরে উর্দুভাষীদের লংমার্চ, স্থায়ী পুনর্বাসনসহ ৪ দফা দাবি ২৬ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম সমাবর্তন, থাকবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: রশিদুজ্জামান মিল্লাত বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ১০০ শিক্ষককে জাতীয় সম্মাননা দিলেন প্রধানমন্ত্রী দেশের ৪০ লাখ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বাংলা কিউআর সেবা চালু

আবারও বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট, দাম বাড়াতে চায় কোম্পানিগুলো

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৭:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ আবারও কমেছে। খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, কোম্পানিগুলো বাজারে পর্যাপ্ত তেল ছাড়ছে না, যার ফলে ডিলারদের কাছ থেকেও তারা চাহিদামতো পণ্য পাচ্ছেন না। বিক্রেতাদের ধারণা, কোম্পানিগুলো তেলের দাম বাড়াতে চায় বলেই সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ও কল্যাণপুর নতুন বাজারের চিত্র ঘুরে দেখা গেছে, দোকানগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী এক, দুই ও পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল পাওয়া যাচ্ছে না। টাউন হল বাজারের অন্তত ছয়টি দোকানে মাত্র চার-পাঁচটি করে বোতল দেখা গেছে, অনেক দোকানে নির্দিষ্ট মাপের বোতল একেবারেই নেই।

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের মুদি বিক্রেতা ইমাম পাটোয়ারি জানান, দৈনিক প্রায় ১০ কার্টন তেলের প্রয়োজন হলেও ডিলারের কাছ থেকে পাচ্ছেন মাত্র ৪ কার্টন। নিয়মিত গ্রাহকদের চাহিদার কথা ভেবে তিনি কিছু বোতল আলাদাভাবে সংরক্ষণ করছেন। বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ একেবারে বন্ধ না হলেও তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম, আর যতটুকু তেল বাজারে আসছে, তার সবটুকু প্রকাশ্যে রাখা হচ্ছে না।

বোতলজাত সয়াবিনের এই সংকটের প্রভাব পড়েছে খোলা তেলের বাজারে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহে খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে ১৯০-১৯৫ টাকা এবং খোলা পাম তেলের দাম শূন্য দশমিক ৮৮ শতাংশ বেড়ে ১৭০-১৭৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, খোলা বাজারে লিটারপ্রতি দাম ২ থেকে ৪ টাকা বেড়েছে।

চলতি বছরে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট দেখা দিল। এর আগে ফেব্রুয়ারি ও জুলাই মাসে একই ধরনের সংকটের পর দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। সর্বশেষ ৩ সেপ্টেম্বর দাম বাড়িয়ে লিটারপ্রতি ২০৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এবারও দাম বাড়ানোর লক্ষ্যে গত ২০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড ভেজিটেবল ফ্যাট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন বাণিজ্যসচিবকে চিঠি দিয়েছে। তবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার যাচাই-বাছাই ছাড়া দাম বাড়াবে না।

এদিকে নিত্যপণ্যের বাজারে মুরগি, ডিম ও মাছের উচ্চমূল্য সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়েছে। গত দুই মাস ধরে ব্রয়লার মুরগির কেজি ২০০ টাকার কাছাকাছি রয়েছে। গত এক সপ্তাহে ডিমের দাম ডজনে ১০ টাকা বেড়ে ১৫৫-১৬০ টাকায় পৌঁছেছে, আর খুচরা দোকানগুলোতে এক হালি ডিম কিনতে লাগছে ৫৫ টাকা। শেখেরটেকের নিরাপত্তারক্ষী আনসার হোসেন বলেন, সীমিত আয়ের মানুষের জন্য এই বাড়তি দামের সাথে তাল মিলিয়ে চলা কঠিন হয়ে পড়েছে। এছাড়া বাজারে রুই মাছ ৩৮০-৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০-৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০-২৬০ টাকা এবং পাঙাশ ২৫০-২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

আর ডিমের দাম ১৬০ টাকা ডজন হয়ে গেছে।আনসার হোসেন, নিরাপত্তারক্ষী, শেখেরটেক.বিক্রেতারা বলছেন, বোতলজাত সয়াবিনের সরবরাহ একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি, তবে তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম।

এরপর এপ্রিলের শেষ দিকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৪ টাকা বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা করা হয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

আবারও বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট, দাম বাড়াতে চায় কোম্পানিগুলো

আপডেট সময় : ০৭:৩৭:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ আবারও কমেছে। খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, কোম্পানিগুলো বাজারে পর্যাপ্ত তেল ছাড়ছে না, যার ফলে ডিলারদের কাছ থেকেও তারা চাহিদামতো পণ্য পাচ্ছেন না। বিক্রেতাদের ধারণা, কোম্পানিগুলো তেলের দাম বাড়াতে চায় বলেই সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ও কল্যাণপুর নতুন বাজারের চিত্র ঘুরে দেখা গেছে, দোকানগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী এক, দুই ও পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল পাওয়া যাচ্ছে না। টাউন হল বাজারের অন্তত ছয়টি দোকানে মাত্র চার-পাঁচটি করে বোতল দেখা গেছে, অনেক দোকানে নির্দিষ্ট মাপের বোতল একেবারেই নেই।

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের মুদি বিক্রেতা ইমাম পাটোয়ারি জানান, দৈনিক প্রায় ১০ কার্টন তেলের প্রয়োজন হলেও ডিলারের কাছ থেকে পাচ্ছেন মাত্র ৪ কার্টন। নিয়মিত গ্রাহকদের চাহিদার কথা ভেবে তিনি কিছু বোতল আলাদাভাবে সংরক্ষণ করছেন। বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ একেবারে বন্ধ না হলেও তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম, আর যতটুকু তেল বাজারে আসছে, তার সবটুকু প্রকাশ্যে রাখা হচ্ছে না।

বোতলজাত সয়াবিনের এই সংকটের প্রভাব পড়েছে খোলা তেলের বাজারে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহে খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে ১৯০-১৯৫ টাকা এবং খোলা পাম তেলের দাম শূন্য দশমিক ৮৮ শতাংশ বেড়ে ১৭০-১৭৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, খোলা বাজারে লিটারপ্রতি দাম ২ থেকে ৪ টাকা বেড়েছে।

চলতি বছরে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট দেখা দিল। এর আগে ফেব্রুয়ারি ও জুলাই মাসে একই ধরনের সংকটের পর দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। সর্বশেষ ৩ সেপ্টেম্বর দাম বাড়িয়ে লিটারপ্রতি ২০৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এবারও দাম বাড়ানোর লক্ষ্যে গত ২০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড ভেজিটেবল ফ্যাট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন বাণিজ্যসচিবকে চিঠি দিয়েছে। তবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার যাচাই-বাছাই ছাড়া দাম বাড়াবে না।

এদিকে নিত্যপণ্যের বাজারে মুরগি, ডিম ও মাছের উচ্চমূল্য সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়েছে। গত দুই মাস ধরে ব্রয়লার মুরগির কেজি ২০০ টাকার কাছাকাছি রয়েছে। গত এক সপ্তাহে ডিমের দাম ডজনে ১০ টাকা বেড়ে ১৫৫-১৬০ টাকায় পৌঁছেছে, আর খুচরা দোকানগুলোতে এক হালি ডিম কিনতে লাগছে ৫৫ টাকা। শেখেরটেকের নিরাপত্তারক্ষী আনসার হোসেন বলেন, সীমিত আয়ের মানুষের জন্য এই বাড়তি দামের সাথে তাল মিলিয়ে চলা কঠিন হয়ে পড়েছে। এছাড়া বাজারে রুই মাছ ৩৮০-৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০-৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০-২৬০ টাকা এবং পাঙাশ ২৫০-২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

আর ডিমের দাম ১৬০ টাকা ডজন হয়ে গেছে।আনসার হোসেন, নিরাপত্তারক্ষী, শেখেরটেক.বিক্রেতারা বলছেন, বোতলজাত সয়াবিনের সরবরাহ একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি, তবে তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম।

এরপর এপ্রিলের শেষ দিকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৪ টাকা বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা করা হয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo