গাড়ি থামিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে প্রতিকার চাইলেন বঞ্চিত টিসিবি ডিলাররা
- আপডেট সময় : ১২:১৪:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় সাবেক ও বঞ্চিত পরিবেশকদের তোপের মুখে পড়েন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। চুক্তি বাতিল ও নবায়ন না করার প্রতিবাদে আন্দোলনরত ডিলাররা কারওয়ান বাজারে টিসিবি ভবনের সামনে মন্ত্রীর গাড়ি থামিয়ে নিজেদের বঞ্চনার প্রতিকার দাবি করেন। পরে পুলিশি পাহারায় মন্ত্রী নিরাপদে ঘটনাস্থল ত্যাগ করলেও, গাড়ি থামিয়ে জানালা নামিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের সচিবালয়ে আসার আমন্ত্রণ জানিয়ে নিজের ভিজিটিং কার্ড দেন। এই ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
চুক্তি নবায়নের দাবিতে বেশ কয়েক দিন ধরে কারওয়ান বাজারে টিসিবি কার্যালয়ের সামনে অনশন কর্মসূচি পালন করছেন এই ডিলাররা। গতকাল বৃহস্পতিবার টিসিবির নতুন সেবা 'উপকারী' মোবাইল অ্যাপ উদ্বোধন শেষে মন্ত্রী যখন বের হচ্ছিলেন, তখনই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আগামী রোববার সচিবালয়ে আন্দোলনকারী ডিলারদের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বৈঠক করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানান, আন্দোলনকারীদের সচিবালয়ে আসার জন্য বলা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য শোনা হবে এবং দাবির যৌক্তিকতা থাকলে অবশ্যই প্রতিকার পাবেন।
টিসিবি ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফরিদ উদ্দিন আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, সংস্থাটি বর্তমানে মনগড়াভাবে নতুন ডিলার নিয়োগ দিচ্ছে। অথচ যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও অনেক পুরোনো ডিলারের চুক্তি বাতিল করা হয়েছে এবং কাউকে নবায়নের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। তাঁরা এই অন্যায়ের প্রতিকার চান এবং আগামী রোববারের বৈঠকে মন্ত্রীর কাছ থেকে ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা করছেন। টিসিবির নীতিমালা অনুযায়ী ডিলারশিপ প্রতি দুই বছর পর পর নবায়নযোগ্য, যার সর্বশেষ সংস্করণ প্রকাশ করা হয় ২০২৫ সালের মার্চে। ক্ষুব্ধ ডিলারদের দাবি, ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত আসন বা ভোক্তার প্রাপ্যতা নেই—এমন অজুহাতে গত ৩ মে ৬৪ জন এবং ১১ মে ৯৯ জন ডিলারের চুক্তি নবায়ন করা হয়নি। অথচ একই ধরনের ওয়ার্ডে নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ৩ মে ৫৮ জন এবং ১১ মে ৫১ জন ডিলারের চুক্তি নবায়ন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ জানান, আগের ডিলারশিপ নীতিমালাটি পরিপূর্ণ ছিল না, যার ফলে এক এলাকায় প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি ডিলার ছিল। নতুন নীতিমালার মাধ্যমে এই খাতে সংস্কার আনা হয়েছে।
এদিকে, টিসিবির 'উপকারী' মোবাইল অ্যাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী দেশের সরবরাহ ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, উৎপাদক পর্যায় থেকে পণ্য খুচরা বাজারে আসার পর দামের মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয় এবং সাময়িক ঘাটতির কারণে বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। নতুন এই অ্যাপের মাধ্যমে উপকারভোগীরা ডিজিটাল কার্ডের নিরাপদ কিউআর কোড ব্যবহার করে পণ্য নিতে পারবেন, যার ফলে কার্ড হারিয়ে গেলেও আসল উপকারভোগীরা বঞ্চিত হবেন না।
অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, ডিজিটাল রূপান্তরের ফলে চলতি অর্থবছরে টিসিবির ৩০০ থেকে ৩৫০ কোটি টাকার ভর্তুকি সাশ্রয় হতে পারে। অ্যাপের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) তদারকি ব্যবস্থার মাধ্যমে পণ্যের বিতরণ ও কোনো অনিয়ম হচ্ছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর যাচাইয়ের মাধ্যমে ইতিমধ্যে ৫৯ লাখ অযোগ্য আবেদনকারীকে তালিকা থেকে বাদ দিয়ে একটি নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে টিসিবির সেবার আওতায় ৭৯ লাখ উপকারভোগী রয়েছেন, যা ভবিষ্যতে এক কোটিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।





























