ঢাকা ০৬:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আপা আর ফিরে আসবে না, খুনিদের ছাড় নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী বারিধারায় গাড়িচাপা: কিশোর চালক আজান আলী শরীফ অবশেষে গ্রেপ্তার সম্ভাবনা থেকে সংকটে গণঅধিকার পরিষদ: রাজনীতির মাঠে টিকে থাকার লড়াই মাস্টার্স পরীক্ষার আগেই বিচারক হলেন ইবির রাজু আহমেদ শাল্লায় বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত সিলেটে সওজের সরকারি জমিতে গোরস্থান নির্মাণের চেষ্টা, কাজ বন্ধ সরকারের অনুমোদন: দেড় লাখ টন সার ও মসুর ডাল কেনা হবে কাউকে ভয় পেতে আসিনি, আসিয়ান কাপ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হামজা চৌধুরী ফুডপান্ডার এমডিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি বেসিস নির্বাচন সামনে রেখে ৭ সদস্যের সহায়ক কমিটি গঠন

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের জন্য বিদেশি কৌশলগত অংশীদার খুঁজছে সরকার

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৫:১৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসিতে স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম ফিরিয়ে আনা এবং এর দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিদেশি কৌশলগত অংশীদার খুঁজছে সরকার। ব্যাংকটির মূলধন শক্তিশালীকরণ, খেলাপি ঋণ আদায়, তারল্য পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে এই আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে কাতারের পক্ষ থেকে ব্যাংকটিতে বিনিয়োগের একটি প্রস্তাব পাওয়া গেছে এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনাও হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকটি মুসলিম দেশের সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, গত ১৭ ও ১৮ আগস্ট তার কাতার সফরের সময় সে দেশের সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিনিয়োগের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ড. তিতুমীর বলেন, ব্যাংকটিকে পুরোপুরি কার্যকর করতে সরকারের সামনে দুটি বিকল্প রয়েছে—সরকার নিজে অর্থ জোগানো অথবা কৌশলগত অংশীদার যুক্ত করা। সরকার বর্তমানে দ্বিতীয় বিকল্পটি বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। কাতার ছাড়াও সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আরও কয়েকটি দেশের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক—এই পাঁচটি ব্যাংকের সমন্বয়ে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান অবস্থা বেশ নাজুক। ব্যাংকগুলোতে প্রায় ৭৬ লাখ আমানতকারীর ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা জমা রয়েছে, যার মধ্যে ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যক্তি আমানতকারীদের। এই পাঁচ ব্যাংকের মোট ১ লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকা ঋণের ৮৬ শতাংশই বর্তমানে খেলাপি এবং মূলধন ঘাটতির পরিমাণ দেড় লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। গত বছরের নভেম্বরে যাত্রা করা এই ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা ইতিমধ্যে সরকার জোগান দিয়েছে।

এদিকে, ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং গ্রাহকের আস্থা ফেরাতে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি হিসাবের গ্রাহকদের মূল আমানত ফেরত দেওয়া শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে গ্রাহকরা কোনো মুনাফা ছাড়াই তাদের জমানো মূল অর্থ এককালীন তুলতে পারবেন। এ লক্ষ্যে মঙ্গলবার থেকে ব্যাংকটির শাখাগুলোতে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। ব্যাংকটির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এফ সাব্বির আহমদের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে শাখা ব্যবস্থাপকদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আবেদুর রহমান সিকদার জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক ও পরিচালনা পর্ষদের নির্দেশনায় ব্যাংকের কার্যক্রম গোছানোর কাজ চলছে। খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং একটি ‘ওয়ার রুম’ গঠন করা হয়েছে। ব্যাংকটি ইতোমধ্যে প্রায় ১০ হাজার মামলা করেছে এবং আরও মামলা করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের জন্য বিদেশি কৌশলগত অংশীদার খুঁজছে সরকার

আপডেট সময় : ০৫:১৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসিতে স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম ফিরিয়ে আনা এবং এর দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিদেশি কৌশলগত অংশীদার খুঁজছে সরকার। ব্যাংকটির মূলধন শক্তিশালীকরণ, খেলাপি ঋণ আদায়, তারল্য পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে এই আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে কাতারের পক্ষ থেকে ব্যাংকটিতে বিনিয়োগের একটি প্রস্তাব পাওয়া গেছে এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনাও হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকটি মুসলিম দেশের সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, গত ১৭ ও ১৮ আগস্ট তার কাতার সফরের সময় সে দেশের সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিনিয়োগের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ড. তিতুমীর বলেন, ব্যাংকটিকে পুরোপুরি কার্যকর করতে সরকারের সামনে দুটি বিকল্প রয়েছে—সরকার নিজে অর্থ জোগানো অথবা কৌশলগত অংশীদার যুক্ত করা। সরকার বর্তমানে দ্বিতীয় বিকল্পটি বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। কাতার ছাড়াও সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আরও কয়েকটি দেশের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক—এই পাঁচটি ব্যাংকের সমন্বয়ে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান অবস্থা বেশ নাজুক। ব্যাংকগুলোতে প্রায় ৭৬ লাখ আমানতকারীর ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা জমা রয়েছে, যার মধ্যে ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যক্তি আমানতকারীদের। এই পাঁচ ব্যাংকের মোট ১ লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকা ঋণের ৮৬ শতাংশই বর্তমানে খেলাপি এবং মূলধন ঘাটতির পরিমাণ দেড় লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। গত বছরের নভেম্বরে যাত্রা করা এই ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা ইতিমধ্যে সরকার জোগান দিয়েছে।

এদিকে, ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং গ্রাহকের আস্থা ফেরাতে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি হিসাবের গ্রাহকদের মূল আমানত ফেরত দেওয়া শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে গ্রাহকরা কোনো মুনাফা ছাড়াই তাদের জমানো মূল অর্থ এককালীন তুলতে পারবেন। এ লক্ষ্যে মঙ্গলবার থেকে ব্যাংকটির শাখাগুলোতে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। ব্যাংকটির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এফ সাব্বির আহমদের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে শাখা ব্যবস্থাপকদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আবেদুর রহমান সিকদার জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক ও পরিচালনা পর্ষদের নির্দেশনায় ব্যাংকের কার্যক্রম গোছানোর কাজ চলছে। খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং একটি ‘ওয়ার রুম’ গঠন করা হয়েছে। ব্যাংকটি ইতোমধ্যে প্রায় ১০ হাজার মামলা করেছে এবং আরও মামলা করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh