অনুমোদনের চূড়ান্ত ধাপে ৮ ডিজিটাল ব্যাংক, লাইসেন্স দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক
- আপডেট সময় : ০১:৫৭:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে

দেশে শাখা, উপশাখা কিংবা এটিএম বুথ ছাড়াই সম্পূর্ণ অ্যাপভিত্তিক আধুনিক ব্যাংকিং সেবা চালুর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছেছে। দ্বিতীয় দফায় আবেদন করা ১২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে ৮টিকে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আগামী পর্ষদ সভায় এই ৮টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স দেওয়ার প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
এই নতুন ব্যাংকিং ব্যবস্থায় গ্রাহকেরা ঘরে বসেই মোবাইল ফোন বা অ্যাপের মাধ্যমে হিসাব খোলা, টাকা জমা ও উত্তোলন, লেনদেন এবং ঋণের আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া ভার্চুয়াল কার্ড ও কিউআর কোডের মতো উন্নত প্রযুক্তিভিত্তিক সেবাও মিলবে এখানে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, এই ব্যবস্থা গ্রামাঞ্চলের মানুষ, তরুণ উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা বিশাল জনগোষ্ঠীকে সহজে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে আনতে বড় ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, দ্বিতীয় দফায় পাওয়া আবেদনগুলোর মধ্য থেকে ৮টি প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী পর্ষদ সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য এটি উপস্থাপন করা হবে। তবে কোন কোন ৮টি প্রতিষ্ঠান এই তালিকায় রয়েছে, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি বাংলাদেশ ব্যাংক।
দ্বিতীয় দফায় আবেদন করা ১২টি প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে রবি আজিয়াটার ‘বুস্ট’, বাংলালিংক ও স্কয়ারের যৌথ উদ্যোগ ‘নোভা ডিজিটাল ব্যাংক’, আকিজ রিসোর্সের ‘মুনাফা ইসলামী ডিজিটাল ব্যাংক’, আশার ‘মৈত্রী ডিজিটাল ব্যাংক’, ‘আমার ডিজিটাল ব্যাংক-২২’, ‘৩৬ ডিজিটাল ব্যাংক’, ‘ব্রিটিশ-বাংলা ডিজিটাল ব্যাংক’, ভুটানের ডিকে ব্যাংকের ‘ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান’, ‘অ্যাপ ব্যাংক’, ‘জাপান বাংলা ডিজিটাল ব্যাংক’, ‘উপকারী ডিজিটাল ব্যাংক’ এবং ‘বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক’।
উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, সাইবার নিরাপত্তা, পরিশোধিত মূলধন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিভিন্ন শর্ত কঠোরভাবে যাচাই করে এবার চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ২০২৩ সালের ১৪ জুন দেশে প্রথম ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপনের নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক, যেখানে ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন ছিল ১২৫ কোটি টাকা। প্রথম দফায় ৫২টি আবেদন জমা পড়লে যাচাই-বাছাই শেষে নগদ ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসিকে ২০২৪ সালের জুনে চূড়ান্ত লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে আর্থিক অনিয়ম ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে নগদের লাইসেন্স স্থগিত করা হলে প্রথম দফার উদ্যোগ থমকে যায়।
প্রথম দফার অভিজ্ঞতার পর নীতিমালায় বড় পরিবর্তন আনে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০২৫ সালের ২১ আগস্ট নীতিমালা সংশোধন করে একটি ডিজিটাল ব্যাংকের ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন ১২৫ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ কোটি টাকা করা হয়। এরপর ২৬ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় আবেদনের আহ্বান করা হলে এই ১২টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করে। নতুন নীতিমালায় মূলধনের পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
ব্যাংক এশিয়ার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আরফান আলী জানান, ডিজিটাল ব্যাংকের মাধ্যমে কম খরচে আধুনিক সেবা দেওয়া সম্ভব হবে, যা প্রথাগত ব্যাংকগুলোকেও প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নে উৎসাহিত করবে। তবে প্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তায় বড় বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা এবং শুরুতে তহবিল সংগ্রহের মতো কিছু চ্যালেঞ্জও এখানে রয়েছে। দেশের অপরিণত ডিজিটাল অবকাঠামো এবং গ্রাহকদের সচেতনতার অভাবও ডিজিটাল ব্যাংকের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ও শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে ডিজিটাল ব্যাংক দেশের আর্থিক খাতে বড় পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।





























