ঢাকা ০৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মেসির বিদায়ী ম্যাচের টিকিট বিক্রির নতুন সময়সূচি ঘোষণা নোয়াখালীতে নিম্নমানের সেতু নির্মাণ, দুই প্রকৌশলীর কৈফিয়ত তলব নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে আগাম আলু চাষে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন বরিশালে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ সাবেক সাত এমপি ও তাদের স্বজনদের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা আপা আর ফিরে আসবে না, খুনিদের ছাড় নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী বারিধারায় গাড়িচাপা: কিশোর চালক আজান আলী শরীফ অবশেষে গ্রেপ্তার সম্ভাবনা থেকে সংকটে গণঅধিকার পরিষদ: রাজনীতির মাঠে টিকে থাকার লড়াই মাস্টার্স পরীক্ষার আগেই বিচারক হলেন ইবির রাজু আহমেদ শাল্লায় বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত

অস্থির ডিম ও মুরগির বাজার, স্বস্তি সবজির দামে

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৫:০৮:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ঢাকার নিত্যপণ্যের বাজারে ডিম ও মুরগির দামে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। শুক্রবার ঢাকার একাধিক বাজার ঘুরে দেখা গেছে, টানা ঊর্ধ্বমুখী ব্রয়লার মুরগির দাম আরও বেড়েছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৮০ থেকে ১৯০ টাকার মধ্যে। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। সোনালি মুরগির দামও বেড়েছে; সপ্তাহখানেক আগে ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হওয়া সোনালি মুরগি এখন ৩৬০ থেকে ৩৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মুরগির দাম বাড়ার কারণ হিসেবে বিক্রেতারা খামারের সমস্যার কথা জানিয়েছেন। কাওরান বাজারের মুরগি বিক্রেতা সোহেল জানান, অতিরিক্ত গরমের কারণে গত দুই মাসে অনেক খামারে মুরগি মারা গেছে এবং অনেকে আগেভাগে বিক্রি করে দিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে অনেক খামারে নতুন করে মুরগি তোলা হয়নি। মগবাজার কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী সেলিম যোগ করেন, বন্যার কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে খামার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে। পাশাপাশি সবজি ও মাছের দাম বেশি থাকায় অনেকে মুরগি ও ডিমের দিকে ঝুঁকেছেন, ফলে চাহিদাও বেড়েছে।

ডিমের বাজারেও আগুন। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডজন ফার্মের বাদামি ডিমের দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় পৌঁছেছে। কিছুদিন আগেও এই ডিম ১৩০ টাকায় পাওয়া যেত। অর্থাৎ প্রতি হালি ডিম এখন ৫০ টাকা বা তার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। হাঁসের ডিমের দামও বেড়েছে, বর্তমানে প্রতি পিস হাঁসের ডিম ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কাওরান বাজারের ডিম ব্যবসায়ী আরিফ জানান, গত দেড় মাসে ডিমের দাম ডজনে ৫০ টাকা বেড়েছে। তিনি বলেন, খামারিরা প্রতি শ’ ডিম ৯০০ টাকায় ছাড়লেও পাইকাররা তাদের কাছে ১১৬০ টাকায় বিক্রি করছেন। তিনি সরকারের তদারকি প্রতিষ্ঠানগুলোকে খুচরা দোকানির বদলে পাইকারি ব্যবসায়ীদের ওপর অভিযান চালানোর আহ্বান জানান। তার মতে, ডিমের দাম ১৩০ টাকার মধ্যে থাকলে খুচরা ও খামারি সবাই লাভবান হতে পারে।

সবজির বাজারে অবশ্য স্বস্তির খবর পাওয়া গেছে। গত কয়েকদিনের ব্যবধানে সবজির দাম ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। আগে ১২০ টাকায় বিক্রি হওয়া সবজি এখন ৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। প্রায় সব ধরনের সবজিই এখন ১০০ টাকার নিচে নেমে এসেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে। গোল বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা, দেশি শসা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, জালি কুমড়া ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৩০ টাকা, এবং ধুন্দল, লাউ, পটোল ও ঝিঙা ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কচুর লতি ৬০ টাকা, কচুরমুখী ৭০ টাকা এবং করলা ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হওয়া কাঁচামরিচ এখন ২৪০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

তবে মুদিপণ্যের মধ্যে পিয়াজের দাম ৪০ থেকে বেড়ে ৫০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এছাড়া মরিচের গুঁড়ার দাম কেজিতে প্রায় ১০০ টাকা বেড়েছে। খুচরা দোকানিরা আগে ৩০০ টাকায় মরিচ কিনলেও এখন ৪০০ টাকায় কিনছেন, যার ফলে খুচরা বিক্রিতে কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

অস্থির ডিম ও মুরগির বাজার, স্বস্তি সবজির দামে

আপডেট সময় : ০৫:০৮:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

ঢাকার নিত্যপণ্যের বাজারে ডিম ও মুরগির দামে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। শুক্রবার ঢাকার একাধিক বাজার ঘুরে দেখা গেছে, টানা ঊর্ধ্বমুখী ব্রয়লার মুরগির দাম আরও বেড়েছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৮০ থেকে ১৯০ টাকার মধ্যে। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। সোনালি মুরগির দামও বেড়েছে; সপ্তাহখানেক আগে ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হওয়া সোনালি মুরগি এখন ৩৬০ থেকে ৩৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মুরগির দাম বাড়ার কারণ হিসেবে বিক্রেতারা খামারের সমস্যার কথা জানিয়েছেন। কাওরান বাজারের মুরগি বিক্রেতা সোহেল জানান, অতিরিক্ত গরমের কারণে গত দুই মাসে অনেক খামারে মুরগি মারা গেছে এবং অনেকে আগেভাগে বিক্রি করে দিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে অনেক খামারে নতুন করে মুরগি তোলা হয়নি। মগবাজার কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী সেলিম যোগ করেন, বন্যার কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে খামার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে। পাশাপাশি সবজি ও মাছের দাম বেশি থাকায় অনেকে মুরগি ও ডিমের দিকে ঝুঁকেছেন, ফলে চাহিদাও বেড়েছে।

ডিমের বাজারেও আগুন। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডজন ফার্মের বাদামি ডিমের দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় পৌঁছেছে। কিছুদিন আগেও এই ডিম ১৩০ টাকায় পাওয়া যেত। অর্থাৎ প্রতি হালি ডিম এখন ৫০ টাকা বা তার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। হাঁসের ডিমের দামও বেড়েছে, বর্তমানে প্রতি পিস হাঁসের ডিম ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কাওরান বাজারের ডিম ব্যবসায়ী আরিফ জানান, গত দেড় মাসে ডিমের দাম ডজনে ৫০ টাকা বেড়েছে। তিনি বলেন, খামারিরা প্রতি শ’ ডিম ৯০০ টাকায় ছাড়লেও পাইকাররা তাদের কাছে ১১৬০ টাকায় বিক্রি করছেন। তিনি সরকারের তদারকি প্রতিষ্ঠানগুলোকে খুচরা দোকানির বদলে পাইকারি ব্যবসায়ীদের ওপর অভিযান চালানোর আহ্বান জানান। তার মতে, ডিমের দাম ১৩০ টাকার মধ্যে থাকলে খুচরা ও খামারি সবাই লাভবান হতে পারে।

সবজির বাজারে অবশ্য স্বস্তির খবর পাওয়া গেছে। গত কয়েকদিনের ব্যবধানে সবজির দাম ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। আগে ১২০ টাকায় বিক্রি হওয়া সবজি এখন ৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। প্রায় সব ধরনের সবজিই এখন ১০০ টাকার নিচে নেমে এসেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে। গোল বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা, দেশি শসা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, জালি কুমড়া ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৩০ টাকা, এবং ধুন্দল, লাউ, পটোল ও ঝিঙা ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কচুর লতি ৬০ টাকা, কচুরমুখী ৭০ টাকা এবং করলা ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হওয়া কাঁচামরিচ এখন ২৪০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

তবে মুদিপণ্যের মধ্যে পিয়াজের দাম ৪০ থেকে বেড়ে ৫০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এছাড়া মরিচের গুঁড়ার দাম কেজিতে প্রায় ১০০ টাকা বেড়েছে। খুচরা দোকানিরা আগে ৩০০ টাকায় মরিচ কিনলেও এখন ৪০০ টাকায় কিনছেন, যার ফলে খুচরা বিক্রিতে কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin