তাপপ্রবাহে দক্ষিণ এশিয়ায় কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধি বড় ঝুঁকির মুখে: বিশ্বব্যাংক

- আপডেট সময় : ১১:৪৬:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

তীব্র তাপপ্রবাহের কবলে পড়ে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রতিবছর প্রায় ৩ কোটি ১০ লাখ পূর্ণকালীন চাকরির সমপরিমাণ কর্মঘণ্টা হারিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের সদ্য প্রকাশিত ‘বাসযোগ্য ভবিষ্যৎ: দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলোকে তীব্র তাপপ্রবাহ থেকে রক্ষা করে কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধি সুরক্ষার উপায়’ শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পরিস্থিতি চলমান থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে অঞ্চলটির অর্থনীতি প্রায় ৭ শতাংশ সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অথচ একই সময়ে এই অঞ্চলে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা ২৮ কোটি বাড়বে, যা ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রাকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উৎপাদনশীলতার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করছে।
প্রতিবেদনটির তথ্যমতে, ২০৭০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় ৫২ কোটি মানুষ প্রতিবছর অন্তত এক মাস বিপজ্জনক তাপপ্রবাহের সম্মুখীন হতে পারেন, যা বর্তমানে এ ধরনের ঝুঁকিতে থাকা মানুষের সংখ্যার চার গুণ। এই পরিস্থিতির কারণে শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা কমে যাচ্ছে, ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে এবং শহরগুলোর প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ, অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক, নারী, শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জাট বলেন, এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ মূলত শহরগুলোর ওপর নির্ভরশীল। তিনি আরও বলেন, তাপসহনশীল শহর গড়ে তোলা শুধু সুরক্ষার বিষয় নয়, বরং তা কর্মসংস্থান ধরে রাখা, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার পূর্বশর্ত।
প্রতিবেদনে তাপপ্রবাহকে কেবল একটি মৌসুমি দুর্যোগ হিসেবে না দেখে উন্নয়ন পরিকল্পনার মূল অংশ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশ্বব্যাংক নগর-পরিকল্পনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, সরকারি নীতি ও বেসরকারি বিনিয়োগে তাপঝুঁকি মোকাবিলাকে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তাপসহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ, হিট অ্যাকশন প্ল্যান আরও কার্যকর করা, ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমিকদের সুরক্ষা, টেকসই শীতলীকরণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, আগাম সতর্কবার্তা উন্নত করা এবং সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা।
যুক্তরাজ্য সরকারের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের (এফসিডিও) প্রধান কর্মসূচি ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন ফর আ রেজিলিয়েন্ট এশিয়া’ (কারা)-এর অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছে বিশ্বব্যাংকের গ্লোবাল ফ্যাসিলিটি ফর ডিজাস্টার রিডাকশন অ্যান্ড রিকভারি (জিএফডিআরআর) এবং সিটি রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম (সিআরপি)। এফসিডিওর এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জলবায়ু সহনশীলতা বিভাগের প্রধান জন ওয়ারবার্টন বিষয়টিকে কেবল জলবায়ু সংকট নয়, বরং একটি উন্নয়ন সংকট হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, প্রচণ্ড গরমের কারণে মানুষের জীবিকা ধ্বংস হচ্ছে এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর চাপ বাড়ছে, যা ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে আরও দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন শহরে ইতিমধ্যে হিট অ্যাকশন প্ল্যান, নগর সবুজায়ন, তাপসহনশীল অবকাঠামো, আগাম সতর্কবার্তা এবং জ্বালানি-সাশ্রয়ী শীতলীকরণ ব্যবস্থার মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ইতিবাচক ফল দিচ্ছে। তবে এগুলো আরও বিস্তৃত করতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, উন্নত সমন্বয়ব্যবস্থা এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের অধিক বিনিয়োগ প্রয়োজন। বিশ্বব্যাংকের মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় দ্রুত নগরায়ণ ঘটছে এবং সরকারগুলোর বর্তমান সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে শহরগুলো ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে থাকবে কি না, নাকি ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রায় তাদের সক্ষমতা ক্ষয় হবে।




























