সাজেক সড়কে রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের ডাক
- আপডেট সময় : ১২:১৪:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে প্রত্যাহারের দাবিতে রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকে সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে স্থানীয় দুটি সংগঠন। শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে এক যৌথ বিবৃতিতে সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি এই কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। তবে জরুরি পরিষেবার আওতায় রোগী বহনকারী অ্যাম্বুল্যান্স, সংবাদমাধ্যমের গাড়ি এবং ফায়ার সার্ভিসের যানবাহন এই অবরোধের বাইরে থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা এবং সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা। এতে উল্লেখ করা হয়, গত ৮ অক্টোবর সাজেকের উজোর বাজারে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে পাহাড়ি সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নিতে স্থানীয় প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্তের আলোকেই অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধ কর্মসূচি শুরু করা হচ্ছে।
সংগঠন দুটির নেতারা জানান, এলাকায় পাহাড়ি সশস্ত্র গোষ্ঠীর অপতৎপরতার কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা অভিযোগ করেন, প্রতিবাদ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিবর্গের দোকানপাট ও বসতবাড়িতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে এবং তাদের নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা সাফ জানিয়ে দেন, সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের এলাকা থেকে অপসারণ না করা পর্যন্ত তাদের এই রাজপথের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, সাজেক অঞ্চলটি সাধারণত প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) প্রভাবাধীন এলাকা হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় এই দুটি সংগঠনকে জোরপূর্বক অবরোধ দিতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠলে তা অস্বীকার করেন ইউপিডিএফের মুখপাত্র অংগ্য মারমা। তিনি বলেন, সংগঠন দুটিকে অবরোধে বাধ্য করার দাবি সত্য নয়। তবে সাধারণ মানুষের স্বার্থে এবং তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে ঘোষিত এই সামাজিক কর্মসূচির প্রতি ইউপিডিএফের পূর্ণ নৈতিক সমর্থন রয়েছে।
দীঘিনালা-বাঘাইহাট সড়ক হয়ে সাজেক পর্যটনকেন্দ্রে প্রতিদিন দেশের নানা প্রান্ত থেকে হাজারো পর্যটক যাতায়াত করেন। দীর্ঘমেয়াদি সড়ক অবরোধের ফলে পর্যটকদের ভ্রমণের পরিকল্পনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে রিসোর্ট, কটেজ, রেস্তোরাঁ, পর্যটকবাহী পরিবহন ও স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের মুখে পড়তে পারেন। বিশেষ করে যেসব পর্যটক আগে থেকে কটেজ ও রিসোর্ট বুকিং দিয়ে রেখেছেন, তাদের ভ্রমণসূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি সাজেক, বাঘাইছড়ি ও দীঘিনালা রুটে চলাচলকারী পরিবহন শ্রমিক এবং স্থানীয় বাসিন্দারাও চরম ভোগান্তিতে পড়বেন।
সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জানান, শনিবার রাতে সাজেক পর্যটনকেন্দ্রে প্রায় তিন হাজার পর্যটক অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ সড়ক অবরোধের ঘোষণায় তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজান বলেন, সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ ডাকার তথ্য তিনি অবগত হয়েছেন। নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তায় শনিবার সকাল ১০টার দিকে পর্যটকরা নিরাপদে সাজেক ত্যাগ করেছেন বলেও জানান ইউএনও।




























