সোনারগাঁয়ে ট্রলারডুবি: একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ বাবা
- আপডেট সময় : ১১:৫৮:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আত্মীয়ের বিয়েতে অংশ নিতে আসার পথে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় একই পরিবারের তিন সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় তাদের বাবা হেলাল উদ্দিন (৫৫) এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এর আগে দুর্ঘটনাটি ঘটার পরপরই রায়েশা বেগম (৫৫) নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।
উদ্ধার হওয়া তিন ভাই-বোন হলেন—হেলাল উদ্দিনের ছেলে সজীব (২২) ও সামিন (৫) এবং মেয়ে সামিয়া (১৭)। গত শুক্রবার রাতে ও আজ শনিবার সকালে মেঘনা নদীর বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রলারটি উদ্ধার করা হয়। ট্রলারটির ভেতর থেকে দুটি গরু ও একটি ছাগলও মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সোনারগাঁও উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের সোনাময়ী এলাকায় আমান সিমেন্ট কারখানাসংলগ্ন মেঘনা নদীতে ১৩ জন যাত্রী নিয়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লার হোমনা থেকে স্বজনেরা একটি ট্রলারে করে সোনারগাঁয়ের হাড়িয়া এলাকায় আসছিলেন। বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হাড়িয়া এলাকার সাজিয়া আক্তার ও শিশিরের বিয়েতে অংশ নেওয়ার কথা ছিল তাদের। কিন্তু মেঘনা নদী পার হওয়ার সময় বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে গেলে যাত্রীরা পানিতে পড়ে যান।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা অন্য একটি ট্রলার নিয়ে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনের স্ত্রী শিরিন বেগম (৪৫) ও তাদের আরেক মেয়ে লামিয়া আক্তারকে স্থানীয়রা জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন। বর্তমানে তাদের স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দলও উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়।
সোনারগাঁও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ জাহেদ চৌধুরী জানান, দুর্ঘটনাটি বৃহস্পতিবার আনুমানিক বেলা দেড়টার দিকে ঘটলেও তারা খবর পেয়েছেন বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে। খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনের সন্ধানে মেঘনা নদীতে এখনো উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।




























