ঢাকা ০৫:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হামের উপসর্গে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১২৭০ জন ঢাকা ও উপকণ্ঠের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা আধুনিকায়নে এডিবির ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ গাজীপুরে ট্রাক ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩ জাতিসংঘে এরদোয়ানের ভাষণের সময় মোবাইল ফোনে মগ্ন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট মাগুরায় বেশি দামে সার ও মেয়াদোত্তীর্ণ বীজ বিক্রি, ১ লাখ টাকা জরিমানা গণমাধ্যমে সরকার ও বিরোধী দলের কথা সমান গুরুত্বের দাবি শফিকুর রহমানের কোনো শিশুই শিক্ষার বাইরে থাকবে না: সমাজকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ হোসেন খাগড়াছড়িতে ৭৭৮ শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি ও সেলাই মেশিন বিতরণ ট্রাইব্যুনাল অবমাননার মামলায় দুই আইনজীবীর শুনানি ২৬ অক্টোবর বিশ্ববাজারে টানা ছয় দিন কমছে জ্বালানি তেলের দাম

কুবি শিক্ষকের ছেলের লাশ উদ্ধার, স্বরাষ্ট্রসচিবকে ফোন করে কাঁদলেন এমপি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:৩০:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। এ সময় সেখানে দাঁড়িয়েই স্বরাষ্ট্রসচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীকে ফোন করেন তিনি। ফোনে কথা বলার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং এই ঘটনার দ্রুত প্রতিকার ও ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্রসচিবের প্রতি আকুল অনুরোধ জানান। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঘটনাস্থল থেকে এই ফোন কলটি করা হয়, যার একটি ভিডিও পরবর্তীতে এমপি মনিরুল হকের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়েছে।

ফোনে নিজের পরিচয় দিয়ে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী স্বরাষ্ট্রসচিবকে বলেন, ‘আমি মনিরুল হক চৌধুরী বলছিলাম। ভাই, সরি যে আমি কান্নার মধ্যে…. শুনছেন তো কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এখানে কী ঘটনা ঘটেছে।’ এরপর তিনি এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘আমি কল করেছি যে আপনি জানেন কিনা। এই ব্যাপারে একটু তড়িৎ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।’ ওপাশ থেকে স্বরাষ্ট্রসচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘জ্বি, শুনেছি। আমরা সেটা নিয়েই ব্যবস্থার চিন্তা করছি, কী করবো। আমি রিপোর্টটা পেয়েছি এবং দেখছি।’ জবাবে এমপি বলেন, ‘একেবারে অসহনীয় সিচুয়েশন। থ্যাংক ইউ ভেরি মাচ ফর অ্যাটেনশন।’

এর আগে, অপ্রতিমের মৃত্যুর খবর পেয়ে তার কোটবাড়ির বাসায় যান সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। সেখানে একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে চরম শোকে ভেঙে পড়েন মা ড. নাহিদা বেগম। বিলাপ করতে করতে তিনি উপস্থিত সবার কাছে প্রশ্ন তোলেন, ‘আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে? আমাকে জবাব দেন, আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে? আমি এই কুমিল্লায় চাকরি করতে এসেছি, এটা কি আমার অন্যায়? আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে, আমি এটার জবাব চাই?’ সন্তানহারা এই মা আরও বলেন, ‘আমি কোনো বিচার চাই না, আমাকে এর উত্তর দিতে হবে। আমার ছোট্ট একটা ছেলে, সে কি অন্যায় করেছে। তার কী অন্যায় ছিল, আমি শুধু জানতে চাই। এটা কোন দেশ?’ একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে কীভাবে বাকি জীবন কাটাবেন, সেই অসহায়ত্ব প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমার তো একটাই ছেলে। আমি কেমনে আমার জীবন কাটাবো? আমি আমার জীবন পার করবো কেমনে? আমারে একটু সবাই বলেন, আমি আমার জীবনটা পার করবো কেমনে।’

শোকার্ত মায়ের এমন আহাজারি শুনে নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীও। তিনিও কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং অত্যন্ত অসহায় কণ্ঠে বলেন, ‘এর কোনো জবাব আমার কাছে নেই মা।’

নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২০ ঘণ্টা পর শনিবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে অবস্থিত জঙ্গল লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকা থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার পেশায় একজন ব্যবসায়ী। এর আগে, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের মোবাইল ফোনটি নিয়ে বন্ধুদের সাথে ছবি তোলার কথা বলে বের হয়েছিল অপ্রতিম। এরপর আর সে বাড়ি ফিরে আসেনি। পরবর্তীতে কোনো সন্ধান না পেয়ে তার বাবা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

কুবি শিক্ষকের ছেলের লাশ উদ্ধার, স্বরাষ্ট্রসচিবকে ফোন করে কাঁদলেন এমপি

আপডেট সময় : ০৯:৩০:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। এ সময় সেখানে দাঁড়িয়েই স্বরাষ্ট্রসচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীকে ফোন করেন তিনি। ফোনে কথা বলার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং এই ঘটনার দ্রুত প্রতিকার ও ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্রসচিবের প্রতি আকুল অনুরোধ জানান। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঘটনাস্থল থেকে এই ফোন কলটি করা হয়, যার একটি ভিডিও পরবর্তীতে এমপি মনিরুল হকের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়েছে।

ফোনে নিজের পরিচয় দিয়ে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী স্বরাষ্ট্রসচিবকে বলেন, ‘আমি মনিরুল হক চৌধুরী বলছিলাম। ভাই, সরি যে আমি কান্নার মধ্যে…. শুনছেন তো কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এখানে কী ঘটনা ঘটেছে।’ এরপর তিনি এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘আমি কল করেছি যে আপনি জানেন কিনা। এই ব্যাপারে একটু তড়িৎ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।’ ওপাশ থেকে স্বরাষ্ট্রসচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘জ্বি, শুনেছি। আমরা সেটা নিয়েই ব্যবস্থার চিন্তা করছি, কী করবো। আমি রিপোর্টটা পেয়েছি এবং দেখছি।’ জবাবে এমপি বলেন, ‘একেবারে অসহনীয় সিচুয়েশন। থ্যাংক ইউ ভেরি মাচ ফর অ্যাটেনশন।’

এর আগে, অপ্রতিমের মৃত্যুর খবর পেয়ে তার কোটবাড়ির বাসায় যান সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। সেখানে একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে চরম শোকে ভেঙে পড়েন মা ড. নাহিদা বেগম। বিলাপ করতে করতে তিনি উপস্থিত সবার কাছে প্রশ্ন তোলেন, ‘আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে? আমাকে জবাব দেন, আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে? আমি এই কুমিল্লায় চাকরি করতে এসেছি, এটা কি আমার অন্যায়? আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে, আমি এটার জবাব চাই?’ সন্তানহারা এই মা আরও বলেন, ‘আমি কোনো বিচার চাই না, আমাকে এর উত্তর দিতে হবে। আমার ছোট্ট একটা ছেলে, সে কি অন্যায় করেছে। তার কী অন্যায় ছিল, আমি শুধু জানতে চাই। এটা কোন দেশ?’ একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে কীভাবে বাকি জীবন কাটাবেন, সেই অসহায়ত্ব প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমার তো একটাই ছেলে। আমি কেমনে আমার জীবন কাটাবো? আমি আমার জীবন পার করবো কেমনে? আমারে একটু সবাই বলেন, আমি আমার জীবনটা পার করবো কেমনে।’

শোকার্ত মায়ের এমন আহাজারি শুনে নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীও। তিনিও কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং অত্যন্ত অসহায় কণ্ঠে বলেন, ‘এর কোনো জবাব আমার কাছে নেই মা।’

নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২০ ঘণ্টা পর শনিবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে অবস্থিত জঙ্গল লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকা থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার পেশায় একজন ব্যবসায়ী। এর আগে, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের মোবাইল ফোনটি নিয়ে বন্ধুদের সাথে ছবি তোলার কথা বলে বের হয়েছিল অপ্রতিম। এরপর আর সে বাড়ি ফিরে আসেনি। পরবর্তীতে কোনো সন্ধান না পেয়ে তার বাবা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh