শ্রীপুরে শত বছরের ভিটেমাটি রক্ষার দাবিতে শতাধিক পরিবারের মানববন্ধন
- আপডেট সময় : ০৭:০৮:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভায় পৈতৃক ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বেতজুরী গ্রামের শতাধিক পরিবার। একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ তুলে নিজেদের শেষ সম্বল রক্ষায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগীরা।
শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার বেতজুরী এলাকায় এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে শতাধিক পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। আন্দোলনকারীদের দাবি, এই জমিতে কেবল তাঁদের বসতবাড়িই নয়, বরং পূর্বপুরুষদের কবরস্থান, মসজিদ, মাদ্রাসা এবং বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। উচ্ছেদ করা হলে তাঁদের মাথা গোঁজার আর কোনো ঠাঁই থাকবে না।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সাবেক এরশাদ সরকারের আমলে কর্নেল (অব.) রেজাউল করিম নামের এক ব্যক্তি সরকারের কাছ থেকে জমি বন্দোবস্ত নিয়েছিলেন। তাঁদের দাবি অনুযায়ী, ওই জমিটি মূলত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পূর্ব পাশে তুলা গবেষণা ইনস্টিটিউটের আওতাধীন এলাকায় অবস্থিত ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে সরকারি স্কেচ ম্যাপ পরিবর্তন করে মহাসড়কের পশ্চিম পাশের বেতজুরী গ্রামের বসতবাড়ির জমিটি দখলের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং কয়েকজনকে ডেকে সরাসরি ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। এছাড়া ওমর ফারুক নামের এক ব্যক্তিকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা ‘আম-মোক্তার’ প্রতিনিধি বানিয়ে ডিবি পুলিশে অভিযোগ এবং আদালতে একাধিক মামলা দায়ের করে তাঁদের হয়রানি করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী মো. এনামুল বলেন, বংশপরম্পরায় তাঁরা এই জমি ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু হঠাৎ প্রভাবশালীদের নজর পড়ায় তাঁরা উচ্ছেদ আতঙ্কে ভুগছেন। তাঁদের হয়রানি করতে বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে এবং পুলিশ তদন্তে এসে এখানে মাদ্রাসা পরিচালনার সত্যতাও পেয়েছে। আরেক ভুক্তভোগী মারহুমা আক্তার হেলেনা বলেন, "আমাদের উচ্ছেদ করা হলে আমরা কোথায় যাব? এটি আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি। প্রতিপক্ষ প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে আমাদের ওপর অন্যায়ভাবে বল প্রয়োগ করছে।"
এসব অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে অভিযুক্ত ওমর ফারুকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।


























