ঢাকা ০৬:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সোবহানার সেঞ্চুরি, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের রেকর্ড সংগ্রহ ৫ বছর পর ন্যান্সি ও জাহিদ নিরবের দ্বৈত গান ‘দিওয়ানা দিল’ তুরস্কে পর্যটকবাহী বাস ও টো ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ১১, আহত ২৭ পিরোজপুরে ডেঙ্গু ও কিশোর গ্যাং দমনে প্রতিমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা জাতীয় ক্রিকেট লিগে একদিনে পাঁচ ব্যাটারের সেঞ্চুরি দিল্লির রাজপথে প্রতিবাদের ভূত যেভাবে মোদি সরকারকে তাড়া করছে দুর্গাপূজায় নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টা রুখতে সজাগ থাকার আহ্বান রিজভীর আয়াসসহ চারজনের বিরুদ্ধে যেসব ধারায় মামলা, রিমান্ডের আদেশ চাঁদপুরে জেলেদের ৫ টন চাল জব্দ, তদন্ত কমিটি গঠন নতুন রেকর্ডের হাতছানি হানসি ফ্লিকের বার্সেলোনার সামনে

নান্দাইলে ১০৮ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই, ব্যাহত পাঠদান

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৬:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক ও সহায়ক জনবলের তীব্র সংকট চলছে। উপজেলার মোট ১৭৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১০৮টিতেই বর্তমানে কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। এর মধ্যে ৪৬টি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে, আর বাকি ৬২টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে আছে।

প্রধান শিক্ষক না থাকায় ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ওপর পাঠদানের পাশাপাশি অতিরিক্ত প্রশাসনিক কাজের চাপ পড়ছে। শিক্ষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, দাপ্তরিক কাজ, উপবৃত্তি সংক্রান্ত হিসাব-নিকাশ, বিভিন্ন সভা এবং শিক্ষা অফিসে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে গিয়ে তাঁদের শ্রেণিকক্ষে সময় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষক ও অভিভাবক মহল মনে করেন, বিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষার মান বজায় রাখতে এবং প্রশাসনিক নেতৃত্বের সংকট কাটাতে দ্রুত শূন্য পদগুলোতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের মাঠপর্যায়ের তদারকিতেও জনবল ঘাটতি রয়েছে। এখানে আটজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার (এটিইও) পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ছয়জন। ফলে অতিরিক্ত বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কর্মকর্তাদের পক্ষে নিয়মিত পরিদর্শন, শিক্ষকদের পাঠদান পর্যবেক্ষণ ও বিদ্যালয়ের পরিবেশ মূল্যায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।

বিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থাও হুমকির মুখে রয়েছে। উপজেলার ১৭৮টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭২টিতেই নৈশপ্রহরী-কাম-দপ্তরি নেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিরাপত্তার এই ঘাটতির সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, সাউন্ড সিস্টেম ও বৈদ্যুতিক ফ্যানসহ সরকারি সরঞ্জাম চুরির ঘটনা ঘটছে।

এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফজিলাতুন্নেছা জানান, শূন্য পদগুলোর তালিকা নিয়মিত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হচ্ছে। নিয়োগ ও পদোন্নতির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে জনবল সংকট অনেকটাই কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

নান্দাইলে ১০৮ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই, ব্যাহত পাঠদান

আপডেট সময় : ০৩:৪৬:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক ও সহায়ক জনবলের তীব্র সংকট চলছে। উপজেলার মোট ১৭৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১০৮টিতেই বর্তমানে কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। এর মধ্যে ৪৬টি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে, আর বাকি ৬২টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে আছে।

প্রধান শিক্ষক না থাকায় ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ওপর পাঠদানের পাশাপাশি অতিরিক্ত প্রশাসনিক কাজের চাপ পড়ছে। শিক্ষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, দাপ্তরিক কাজ, উপবৃত্তি সংক্রান্ত হিসাব-নিকাশ, বিভিন্ন সভা এবং শিক্ষা অফিসে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে গিয়ে তাঁদের শ্রেণিকক্ষে সময় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষক ও অভিভাবক মহল মনে করেন, বিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষার মান বজায় রাখতে এবং প্রশাসনিক নেতৃত্বের সংকট কাটাতে দ্রুত শূন্য পদগুলোতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের মাঠপর্যায়ের তদারকিতেও জনবল ঘাটতি রয়েছে। এখানে আটজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার (এটিইও) পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ছয়জন। ফলে অতিরিক্ত বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কর্মকর্তাদের পক্ষে নিয়মিত পরিদর্শন, শিক্ষকদের পাঠদান পর্যবেক্ষণ ও বিদ্যালয়ের পরিবেশ মূল্যায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।

বিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থাও হুমকির মুখে রয়েছে। উপজেলার ১৭৮টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭২টিতেই নৈশপ্রহরী-কাম-দপ্তরি নেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিরাপত্তার এই ঘাটতির সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, সাউন্ড সিস্টেম ও বৈদ্যুতিক ফ্যানসহ সরকারি সরঞ্জাম চুরির ঘটনা ঘটছে।

এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফজিলাতুন্নেছা জানান, শূন্য পদগুলোর তালিকা নিয়মিত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হচ্ছে। নিয়োগ ও পদোন্নতির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে জনবল সংকট অনেকটাই কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।