ঢাকা ০৩:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কিয়েভের উপকণ্ঠে রুশ ড্রোন হামলায় নিহত ২৭ গোলাপগঞ্জে মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে পুলিশ কনস্টেবল সাময়িক বরখাস্ত মার্কিন অবরোধের মাঝেই ইরানের ৭.৫ বিলিয়ন ডলারের তেল রাজস্ব ইসির প্রস্তুতি শেষ হলেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকারীর টানে রিকশা থেকে পড়ে শিক্ষিকার মৃত্যু বাউফলে রহস্যজনকভাবে ৩ মহিষের মৃত্যু, অসুস্থ আরও অন্তত ৩০ কক্সবাজারে কাগজপত্রহীন ৩ বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ, ‘বাবার উপহার’ দাবি তরুণদের সচিবালয়ে সাপ পিটিয়ে হত্যা: বন্য প্রাণী আইনে কী দণ্ড হতে পারে লেবানন-ইসরাইল চুক্তি প্রত্যাখ্যান করলেন হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেম ওয়ালটন প্লাজায় ২০০ জন ডেপুটি ম্যানেজার নিয়োগ, আবেদন চলছে

বাউফলে রহস্যজনকভাবে ৩ মহিষের মৃত্যু, অসুস্থ আরও অন্তত ৩০

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪৯:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের মমিনপুরের লালচরে রহস্যজনকভাবে তিনটি মহিষ মারা গেছে। একই ঘটনায় আরও অন্তত ৩০টি মহিষ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে চরে মহিষ চরাতে নেওয়ার পর এই ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া মহিষগুলোর মালিকদের মধ্যে রফিজ মৃধা, সুমন মাঝি ও রুহুল আমিনের নাম জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে লালচরে প্রায় ৫০০ মহিষ উন্মুক্তভাবে চড়ানো হয়। শুক্রবার রাখালরা যথারীতি মহিষগুলো চরে নিয়ে যান। ঘাস খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বেশ কয়েকটি মহিষ অসুস্থ হয়ে পড়ে। অনেক মহিষের মুখ দিয়ে লালা ঝরতে দেখা যায় এবং কয়েকটি পানিতে পড়ে মারা যায়। মোস্তফা ফকির নামের এক খামারি জানান, তার নিজের ১৮টি মহিষসহ মোট ৩৩টি মহিষ অসুস্থ হয়েছে, যার মধ্যে তিনটি মারা গেছে। তিনি কয়েক বছর ধরে এখানে মহিষ পালন করছেন এবং এর আগে এমন ঘটনা কখনো ঘটেনি। তার দাবি, চাঁদাবাজি ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে চরের পানিতে বিষ প্রয়োগের কারণে মহিষগুলো অসুস্থ হতে পারে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সম্প্রতি লালচরে মহিষ চরানোর জন্য ছাত্রদলের সাবেক নেতা মাঈনউদ্দিনের পক্ষ থেকে মহিষপ্রতি ২০০ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। এ নিয়ে স্থানীয়রা মানববন্ধন ও বিক্ষোভও করেছিলেন। তবে পানিতে বিষ প্রয়োগের অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

খবর পেয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অসুস্থ মহিষগুলোর জরুরি চিকিৎসা শুরু করেন। উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, গুরুতর অসুস্থ মহিষগুলোকে ট্রলারে করে নিমদি ঘাটে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। মারা যাওয়া মহিষের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শুভেন্দু সরকার খামারিদের নিরাপত্তার স্বার্থে আপাতত লালচরে মহিষ না চড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তবে বিকল্প চারণভূমি না থাকায় ৫০০ মহিষের খাবার ও লালন-পালন নিয়ে খামারিরা বিপাকে পড়েছেন।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। খামারিদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে বাউফলের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চর মিয়াজানে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং ঘটনাটি তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

বাউফলে রহস্যজনকভাবে ৩ মহিষের মৃত্যু, অসুস্থ আরও অন্তত ৩০

আপডেট সময় : ০২:৪৯:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের মমিনপুরের লালচরে রহস্যজনকভাবে তিনটি মহিষ মারা গেছে। একই ঘটনায় আরও অন্তত ৩০টি মহিষ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে চরে মহিষ চরাতে নেওয়ার পর এই ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া মহিষগুলোর মালিকদের মধ্যে রফিজ মৃধা, সুমন মাঝি ও রুহুল আমিনের নাম জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে লালচরে প্রায় ৫০০ মহিষ উন্মুক্তভাবে চড়ানো হয়। শুক্রবার রাখালরা যথারীতি মহিষগুলো চরে নিয়ে যান। ঘাস খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বেশ কয়েকটি মহিষ অসুস্থ হয়ে পড়ে। অনেক মহিষের মুখ দিয়ে লালা ঝরতে দেখা যায় এবং কয়েকটি পানিতে পড়ে মারা যায়। মোস্তফা ফকির নামের এক খামারি জানান, তার নিজের ১৮টি মহিষসহ মোট ৩৩টি মহিষ অসুস্থ হয়েছে, যার মধ্যে তিনটি মারা গেছে। তিনি কয়েক বছর ধরে এখানে মহিষ পালন করছেন এবং এর আগে এমন ঘটনা কখনো ঘটেনি। তার দাবি, চাঁদাবাজি ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে চরের পানিতে বিষ প্রয়োগের কারণে মহিষগুলো অসুস্থ হতে পারে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সম্প্রতি লালচরে মহিষ চরানোর জন্য ছাত্রদলের সাবেক নেতা মাঈনউদ্দিনের পক্ষ থেকে মহিষপ্রতি ২০০ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। এ নিয়ে স্থানীয়রা মানববন্ধন ও বিক্ষোভও করেছিলেন। তবে পানিতে বিষ প্রয়োগের অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

খবর পেয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অসুস্থ মহিষগুলোর জরুরি চিকিৎসা শুরু করেন। উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, গুরুতর অসুস্থ মহিষগুলোকে ট্রলারে করে নিমদি ঘাটে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। মারা যাওয়া মহিষের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শুভেন্দু সরকার খামারিদের নিরাপত্তার স্বার্থে আপাতত লালচরে মহিষ না চড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তবে বিকল্প চারণভূমি না থাকায় ৫০০ মহিষের খাবার ও লালন-পালন নিয়ে খামারিরা বিপাকে পড়েছেন।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। খামারিদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে বাউফলের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চর মিয়াজানে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং ঘটনাটি তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin