কালীগঞ্জে কলা ব্যবসায়ীকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ জামাতার বিরুদ্ধে
- আপডেট সময় : ১২:৫২:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুরের কালীগঞ্জে পারিবারিক কলহের জেরে মজিদ মোড়ল (৬৫) নামে এক কলা ব্যবসায়ীকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে তার জামাতার বিরুদ্ধে। উপজেলার জামালপুর কলাপট্টিতে শুক্রবার বিকেলে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত জামাতা মোজাম্মেল হোসেন ওরফে মুজা সরকার (৩৫) ঘটনার পর ট্রলি ব্যাগ ও কুড়াল ফেলে পালিয়ে গেছেন।
নিহত মজিদ মোড়ল উপজেলার জামালপুর মধ্যপাড়া এলাকার মৃত আলতু মোড়লের ছেলে। অন্যদিকে অভিযুক্ত মোজাম্মেল উত্তর জামালপুর সরকারপাড়া এলাকার মৃত নোয়াব আলী সরকারের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মজিদ মোড়লের মেয়ে শাহানাজ বেগমের সঙ্গে স্বামী মোজাম্মেলের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, মোজাম্মেল মাদকাসক্ত ছিলেন এবং প্রায়ই স্ত্রীকে মারধর ও নির্যাতন করতেন। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে শাহানাজ একাধিকবার বাবার বাড়িতে চলে আসেন এবং সম্প্রতি তিনি সেখানেই অবস্থান করছিলেন। নিহতের ছেলে বিল্লাল হোসেন মোড়ল জানান, বোন বাবার বাড়িতে চলে আসার পরও মোজাম্মেল সেখানে এসে এবং রাস্তাঘাটে তাকে উত্ত্যক্ত করতেন। এ নিয়ে শ্বশুর মজিদ মোড়লের সঙ্গে মোজাম্মেলের বিরোধ চরম আকার ধারণ করে।
হত্যাকাণ্ডের বিবরণ দিয়ে নিহতের মেয়ে শাহানাজ বেগম বলেন, শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে তার বাবা জামালপুর কলাপট্টিতে নিজের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় মোজাম্মেল একটি ট্রলি ব্যাগ নিয়ে সেখানে হাজির হন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ব্যাগ থেকে কুড়াল বের করে তিনি মজিদ মোড়লকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। একপর্যায়ে মজিদ মাটিতে লুটিয়ে পড়লে মোজাম্মেল কুড়াল ও ট্রলি ব্যাগটি ঘটনাস্থলেই ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
পরে স্থানীয় বাসিন্দারা গুরুতর আহত অবস্থায় মজিদকে উদ্ধার করে প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. জিয়াউর রহমান জানান, মজিদ মোড়লকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানো হয়।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং লাশের প্রাথমিক সুরতহাল সম্পন্ন করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।


























