ঢাকা ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঋণের চাপে সপরিবারে আত্মগোপনে থাকা স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু আটক পাকিস্তান ও কুয়েতের মধ্যে নতুন যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের জন্য অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকা প্রকাশ মিয়ানমারে পণ্য রপ্তানির অর্থ আসবে তৃতীয় দেশ থেকে, ছাড় দিচ্ছে এনবিআর নেপালে বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯, নিখোঁজ দেড় হাজার হরমুজ প্রণালি খুলতে শর্তের তালিকা তৈরি করছে ইরান শরীয়তপুরে সাংবাদিক মারধরের পর বিএনপি নেতার পাল্টা চাঁদাবাজির অভিযোগ দুই বছরের প্রেমের ইতি টানলেন অনন্যা পাণ্ডে লা লিগায় জয়রথ অব্যাহত বার্সেলোনার, হারল আথলেতিক বিলবাও এলিয়েনের মুখোমুখি হলে মানুষের করণীয় কী?

হোসেনপুরে সাবেক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা’ মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৩:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে মারামারির একটি মামলায় সাক্ষী হওয়ায় সাবেক এক ইউপি সদস্যকে হয়রানি ও মিথ্যা নারী নির্যাতন মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে এবং মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে স্থানীয় গ্রামবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ পানান এলাকার হকফুল কুঁড়ি কিন্ডারগার্টেনের সামনে সড়কে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন গোবিন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান সদস্য আব্দুল মালেক খোকা, স্থানীয় বাসিন্দা মো. শফিক, মো. জালাল মিয়া, শিল্পী আক্তার, লিপি আক্তার ও আলপিনা বেগমসহ আরও অনেকে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ২৬ জুন জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে র্যাব সদস্য মো. মোস্তুফা কামাল ও তার ভাই এনামুল তাদের চাচা-শ্বশুর মিজানুর রহমান রিটনকে ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করতে গেলে নাজমুল নামে এক যুবককে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মো. সাইদুল ইসলামকে প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী করা হয়।

মানববন্ধনে আরও জানানো হয়, পরবর্তীতে ওই হামলার ঘটনাটি আপস-মীমাংসার জন্য র্যাব সদস্য মোস্তুফা কামালের স্ত্রী তানজিনা আক্তার সাবেক ইউপি সদস্য সাইদুল ইসলামের কাছে যান। তবে আহত ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তখন কোনো মীমাংসা করা সম্ভব নয় বলে সাইদুল ইসলাম জানান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তানজিনা তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এরপর মূল মামলার আসামি স্বামীকে রক্ষা করতে এবং সাক্ষী সাইদুল ইসলামকে চাপে ফেলতে তানজিনা আক্তার বাদী হয়ে সাইদুল ইসলাম ও মামলার বাদী মিজানুর রহমান রিটনের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা করেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, মামলায় যে ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেদিন বাস্তবে তেমন কিছুই ঘটেনি।

এ বিষয়ে হকফুল কুঁড়ি কিন্ডারগার্টেনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক জাহেদুল ইসলাম বলেন, তানজিনা আমার স্কুলের একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক এবং সাইদুল মেম্বার আমাদের গ্রামের একজন প্রবীণ ও সম্মানিত ব্যক্তি। স্কুলের ভেতরে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমি শুধু শুনেছি সাইদুল মেম্বার তানজিনার শাশুড়িকে বলছিলেন, আপনার ছেলের বউকে এখান থেকে নিয়ে যান।

স্কুলের পাশের মুদির দোকানদার মো. শফিক বলেন, তানজিনা তার স্বামীর মামলার মীমাংসার জন্য শাশুড়িকে সঙ্গে নিয়ে সাইদুল মেম্বারের কাছে এসেছিলেন। মেম্বার মীমাংসায় অপারগতা জানালে তানজিনা মামলার বাদী রিটনকে কুপিয়ে বস্তায় ভরে পাঠানোর হুমকি দেন। এতে মেম্বার ক্ষুব্ধ হয়ে উচ্চবাচ্য করেন এবং তার শাশুড়িকে ডেকে তানজিনাকে নিয়ে যেতে বলেন। পরে শাশুড়ি মেম্বারের কাছে ক্ষমা চেয়ে তাকে নিয়ে চলে যান। আমাদের সামনে তানজিনার শ্লীলতাহানি বা গায়ে হাত তোলার কোনো ঘটনা ঘটেনি।

১ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য আব্দুল মালেক খোকা বলেন, ওইদিন আমি স্কুলের সামনে উপস্থিত ছিলাম। তানজিনা তার স্বামীর মামলার মীমাংসার কোনো আশ্বাস না পেয়ে সাইদুল মেম্বারকে হুমকি দেন। শ্লীলতাহানি বা তার শরীরে হাত দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। সাইদুল মেম্বার ৬৫ বছর বয়সী একজন বৃদ্ধ মানুষ। তিনি আরও বলেন, তানজিনা বাদী হয়ে মামলায় যাদের সাক্ষী করেছেন, তাদের কেউই সেদিন স্কুলের সামনে উপস্থিত ছিলেন না। একজন নারীর ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে এমন অভিযোগ করা উচিত হয়নি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

এদিকে মামলার সাক্ষী আব্দুল কাদির ও ধারাশিকু জানান, তারা এ ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানেন না। কেন তাদের মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে সে বিষয়েও তারা অবগত নন।

এ বিষয়ে মামলার বাদী তানজিনা আক্তারের বাড়িতে গিয়ে সাংবাদিকরা কথা বলতে চাইলে তিনি রাজি হননি। তিনি জানান, ওইদিন কী ঘটেছিল তা তার স্বামী র্যাব সদস্য মো. মোস্তুফা কামাল ভালো বলতে পারবেন।

অভিযোগের বিষয়ে র্যাব সদস্য মো. মোস্তুফা কামাল বলেন, তাদের সঙ্গে আমাদের জমি সংক্রান্ত কোনো বিরোধ নেই। তারা আমাদের নামে মিথ্যা মামলা করেছে। ওই বিষয়ে আমার স্ত্রী তানজিনা আক্তার মামলার সাক্ষী সাইদুল মেম্বারের কাছে গেলে তিনি আমার স্ত্রীর সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। পরে আমার স্ত্রী রাগান্বিত হয়ে মামলা করেছে। মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হলে আমার স্ত্রীরও বিচার হবে।

মানববন্ধন থেকে বক্তারা সাবেক ইউপি সদস্য সাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটিকে হয়রানিমূলক দাবি করে তা অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানান।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

হোসেনপুরে সাবেক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা’ মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

আপডেট সময় : ১০:৫৩:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে মারামারির একটি মামলায় সাক্ষী হওয়ায় সাবেক এক ইউপি সদস্যকে হয়রানি ও মিথ্যা নারী নির্যাতন মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে এবং মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে স্থানীয় গ্রামবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ পানান এলাকার হকফুল কুঁড়ি কিন্ডারগার্টেনের সামনে সড়কে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন গোবিন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান সদস্য আব্দুল মালেক খোকা, স্থানীয় বাসিন্দা মো. শফিক, মো. জালাল মিয়া, শিল্পী আক্তার, লিপি আক্তার ও আলপিনা বেগমসহ আরও অনেকে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ২৬ জুন জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে র্যাব সদস্য মো. মোস্তুফা কামাল ও তার ভাই এনামুল তাদের চাচা-শ্বশুর মিজানুর রহমান রিটনকে ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করতে গেলে নাজমুল নামে এক যুবককে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মো. সাইদুল ইসলামকে প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী করা হয়।

মানববন্ধনে আরও জানানো হয়, পরবর্তীতে ওই হামলার ঘটনাটি আপস-মীমাংসার জন্য র্যাব সদস্য মোস্তুফা কামালের স্ত্রী তানজিনা আক্তার সাবেক ইউপি সদস্য সাইদুল ইসলামের কাছে যান। তবে আহত ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তখন কোনো মীমাংসা করা সম্ভব নয় বলে সাইদুল ইসলাম জানান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তানজিনা তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এরপর মূল মামলার আসামি স্বামীকে রক্ষা করতে এবং সাক্ষী সাইদুল ইসলামকে চাপে ফেলতে তানজিনা আক্তার বাদী হয়ে সাইদুল ইসলাম ও মামলার বাদী মিজানুর রহমান রিটনের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা করেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, মামলায় যে ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেদিন বাস্তবে তেমন কিছুই ঘটেনি।

এ বিষয়ে হকফুল কুঁড়ি কিন্ডারগার্টেনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক জাহেদুল ইসলাম বলেন, তানজিনা আমার স্কুলের একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক এবং সাইদুল মেম্বার আমাদের গ্রামের একজন প্রবীণ ও সম্মানিত ব্যক্তি। স্কুলের ভেতরে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমি শুধু শুনেছি সাইদুল মেম্বার তানজিনার শাশুড়িকে বলছিলেন, আপনার ছেলের বউকে এখান থেকে নিয়ে যান।

স্কুলের পাশের মুদির দোকানদার মো. শফিক বলেন, তানজিনা তার স্বামীর মামলার মীমাংসার জন্য শাশুড়িকে সঙ্গে নিয়ে সাইদুল মেম্বারের কাছে এসেছিলেন। মেম্বার মীমাংসায় অপারগতা জানালে তানজিনা মামলার বাদী রিটনকে কুপিয়ে বস্তায় ভরে পাঠানোর হুমকি দেন। এতে মেম্বার ক্ষুব্ধ হয়ে উচ্চবাচ্য করেন এবং তার শাশুড়িকে ডেকে তানজিনাকে নিয়ে যেতে বলেন। পরে শাশুড়ি মেম্বারের কাছে ক্ষমা চেয়ে তাকে নিয়ে চলে যান। আমাদের সামনে তানজিনার শ্লীলতাহানি বা গায়ে হাত তোলার কোনো ঘটনা ঘটেনি।

১ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য আব্দুল মালেক খোকা বলেন, ওইদিন আমি স্কুলের সামনে উপস্থিত ছিলাম। তানজিনা তার স্বামীর মামলার মীমাংসার কোনো আশ্বাস না পেয়ে সাইদুল মেম্বারকে হুমকি দেন। শ্লীলতাহানি বা তার শরীরে হাত দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। সাইদুল মেম্বার ৬৫ বছর বয়সী একজন বৃদ্ধ মানুষ। তিনি আরও বলেন, তানজিনা বাদী হয়ে মামলায় যাদের সাক্ষী করেছেন, তাদের কেউই সেদিন স্কুলের সামনে উপস্থিত ছিলেন না। একজন নারীর ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে এমন অভিযোগ করা উচিত হয়নি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

এদিকে মামলার সাক্ষী আব্দুল কাদির ও ধারাশিকু জানান, তারা এ ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানেন না। কেন তাদের মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে সে বিষয়েও তারা অবগত নন।

এ বিষয়ে মামলার বাদী তানজিনা আক্তারের বাড়িতে গিয়ে সাংবাদিকরা কথা বলতে চাইলে তিনি রাজি হননি। তিনি জানান, ওইদিন কী ঘটেছিল তা তার স্বামী র্যাব সদস্য মো. মোস্তুফা কামাল ভালো বলতে পারবেন।

অভিযোগের বিষয়ে র্যাব সদস্য মো. মোস্তুফা কামাল বলেন, তাদের সঙ্গে আমাদের জমি সংক্রান্ত কোনো বিরোধ নেই। তারা আমাদের নামে মিথ্যা মামলা করেছে। ওই বিষয়ে আমার স্ত্রী তানজিনা আক্তার মামলার সাক্ষী সাইদুল মেম্বারের কাছে গেলে তিনি আমার স্ত্রীর সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। পরে আমার স্ত্রী রাগান্বিত হয়ে মামলা করেছে। মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হলে আমার স্ত্রীরও বিচার হবে।

মানববন্ধন থেকে বক্তারা সাবেক ইউপি সদস্য সাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটিকে হয়রানিমূলক দাবি করে তা অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানান।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh