ঢাকা ০২:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ হাজার মিয়ানমার নাগরিককে ফেরত পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া ঢাকার মঞ্চ মাতাতে আসছেন সেই ভাইরাল গানের ওটিলিয়া কলকাতা বইমেলার সুবর্ণজয়ন্তী: যুক্ত হচ্ছে ইজেডসিসি ও বুক ট্রাস্ট প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও সাবেক সচিব ড. হারুনুর রশিদ আর নেই পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পে পিডি নিয়োগ দিল পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় প্রাচীন চীনের হুয়াই গাছের নিচে বইয়ের বাজারের ইতিহাস চেলসিতে যেতে পারেন মার্টিনেজ, আলোচনা চালাচ্ছে দুই ক্লাব অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে টাইগারদের মন্ত্রিসভার অভিনন্দন নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে নতুন বন্যার আশঙ্কায় বিশেষজ্ঞরা বড় পর্দায় ফিরছেন ‘স্কুইড গেম’ নির্মাতা, নতুন সিনেমার নাম ‘কে.ও. ক্লাব’

নেত্রকোনায় মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ: ডিএনএ পরীক্ষায় অভিযুক্ত শিক্ষক শনাক্ত

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৫:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নেত্রকোনার মদনে ১২ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক ও মাদ্রাসা পরিচালক আমানউল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগরের বিরুদ্ধে আদালতে চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আক্তারুজ্জামান নেত্রকোনা আদালতে এই চার্জশিট জমা দেন।

এর আগে গত ২৪ আগস্ট মামলার গুরুত্বপূর্ণ ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন পুলিশের হাতে পৌঁছায়। ওই প্রতিবেদনে ৯৯.৯৯৯ শতাংশ বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ভুক্তভোগী শিশুর জন্ম দেওয়া কন্যাসন্তানের জৈবিক বাবা কাইটাল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের মহিলা কওমি মাদ্রাসার পরিচালক আমানউল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগর (৩০)।

মামলার এজাহার ও চার্জশিট সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে আমানউল্লাহ সাগর নিজ প্রতিষ্ঠানের ওই শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করেন। প্রাণনাশের হুমকির মুখে শিশুটি বিষয়টি এতদিন গোপন রাখতে বাধ্য হয়েছিল। পরবর্তীতে শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে গত ১৮ এপ্রিল স্থানীয় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করা হলে সে অন্তঃসত্ত্বা বলে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে অভিযুক্ত শিক্ষকের পরিবারের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগীর পরিবারকে গ্রামছাড়ার হুমকি দেওয়া হয় এবং টাকার বিনিময়ে আপস-রফার চেষ্টা চালানো হয়। ব্যর্থ হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মাদ্রাসায় তালা ঝুলিয়ে পরিবারসহ আত্মগোপনে চলে যান।

গত ২৩ এপ্রিল ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে আমানউল্লাহ সাগর ও তার ভাই মামুন মিয়াসহ দুজনকে আসামি করে মদন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় সাগর ভুক্তভোগীর পরিবারকে হুমকি দিতে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ৫ মে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে নিজেকে নির্দোষ দাবি করার পরদিন ৬ মে র‍্যাব-১৪ ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। এদিকে নিরাপত্তার স্বার্থে ভুক্তভোগী শিশুটিকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় সিলেটের একটি সেফহোমে স্থানান্তর করা হয়।

আদালতের নির্দেশে গত ১৭ মে সাগরের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এরপর গত ২ জুলাই সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভুক্তভোগী শিশুটি একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়। ২৮ জুলাই সিআইডির একটি প্রতিনিধি দল সেফহোমে গিয়ে নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠায়।

মদন থানার ওসি সালাহ উদ্দিন করীম জানান, ডিএনএ প্রতিবেদনে ধর্ষণের অপরাধ ও পিতৃত্বের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। চার্জশিটে চারজনকে সাক্ষী রাখা হয়েছে এবং সাগরের ভাই মামুন মিয়াকেও আসামি করা হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

নেত্রকোনায় মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ: ডিএনএ পরীক্ষায় অভিযুক্ত শিক্ষক শনাক্ত

আপডেট সময় : ০৬:৫৫:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

নেত্রকোনার মদনে ১২ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক ও মাদ্রাসা পরিচালক আমানউল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগরের বিরুদ্ধে আদালতে চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আক্তারুজ্জামান নেত্রকোনা আদালতে এই চার্জশিট জমা দেন।

এর আগে গত ২৪ আগস্ট মামলার গুরুত্বপূর্ণ ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন পুলিশের হাতে পৌঁছায়। ওই প্রতিবেদনে ৯৯.৯৯৯ শতাংশ বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ভুক্তভোগী শিশুর জন্ম দেওয়া কন্যাসন্তানের জৈবিক বাবা কাইটাল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের মহিলা কওমি মাদ্রাসার পরিচালক আমানউল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগর (৩০)।

মামলার এজাহার ও চার্জশিট সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে আমানউল্লাহ সাগর নিজ প্রতিষ্ঠানের ওই শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করেন। প্রাণনাশের হুমকির মুখে শিশুটি বিষয়টি এতদিন গোপন রাখতে বাধ্য হয়েছিল। পরবর্তীতে শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে গত ১৮ এপ্রিল স্থানীয় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করা হলে সে অন্তঃসত্ত্বা বলে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে অভিযুক্ত শিক্ষকের পরিবারের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগীর পরিবারকে গ্রামছাড়ার হুমকি দেওয়া হয় এবং টাকার বিনিময়ে আপস-রফার চেষ্টা চালানো হয়। ব্যর্থ হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মাদ্রাসায় তালা ঝুলিয়ে পরিবারসহ আত্মগোপনে চলে যান।

গত ২৩ এপ্রিল ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে আমানউল্লাহ সাগর ও তার ভাই মামুন মিয়াসহ দুজনকে আসামি করে মদন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় সাগর ভুক্তভোগীর পরিবারকে হুমকি দিতে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ৫ মে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে নিজেকে নির্দোষ দাবি করার পরদিন ৬ মে র‍্যাব-১৪ ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। এদিকে নিরাপত্তার স্বার্থে ভুক্তভোগী শিশুটিকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় সিলেটের একটি সেফহোমে স্থানান্তর করা হয়।

আদালতের নির্দেশে গত ১৭ মে সাগরের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এরপর গত ২ জুলাই সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভুক্তভোগী শিশুটি একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়। ২৮ জুলাই সিআইডির একটি প্রতিনিধি দল সেফহোমে গিয়ে নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠায়।

মদন থানার ওসি সালাহ উদ্দিন করীম জানান, ডিএনএ প্রতিবেদনে ধর্ষণের অপরাধ ও পিতৃত্বের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। চার্জশিটে চারজনকে সাক্ষী রাখা হয়েছে এবং সাগরের ভাই মামুন মিয়াকেও আসামি করা হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh