ঢাকা ০৯:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জগন্নাথপুরে প্রবাসীর স্ত্রী হত্যায় জিতেশ চন্দ্র গোপের মৃত্যুদণ্ড আর না ফেরার শর্তে চুয়েট ছাড়লেন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম পুনর্গঠন হচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ দাবানলে ৩০০ বাড়ি ভস্মীভূত, ঘরছাড়া হাজারো মানুষ পল্লবীতে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, মাসে পাবেন আড়াই হাজার টাকা আবুধাবি টেস্টে জয়ের সুবাস পেয়েও ড্রয়ে হতাশ বাংলাদেশ ৩০ ঘণ্টা পর অবরুদ্ধ চুয়েট উপাচার্যকে উদ্ধার করলেন ডিসি–এসপি বিএনপির মুখে জুলাই আর অন্তরে আওয়ামী লীগ: হাসনাত আব্দুল্লাহ বোরহানউদ্দিনে সবজি চাষ ও বাজারজাতকরণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা ঢাবি ক্যাম্পাসে গাড়িচাপায় ৭ শিক্ষার্থী আহত, চালক সহপাঠী আটক

নেত্রকোনায় মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ: ডিএনএ পরীক্ষায় অভিযুক্ত শিক্ষক শনাক্ত

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৫:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



নেত্রকোনার মদনে ১২ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক ও মাদ্রাসা পরিচালক আমানউল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগরের বিরুদ্ধে আদালতে চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আক্তারুজ্জামান নেত্রকোনা আদালতে এই চার্জশিট জমা দেন।

এর আগে গত ২৪ আগস্ট মামলার গুরুত্বপূর্ণ ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন পুলিশের হাতে পৌঁছায়। ওই প্রতিবেদনে ৯৯.৯৯৯ শতাংশ বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ভুক্তভোগী শিশুর জন্ম দেওয়া কন্যাসন্তানের জৈবিক বাবা কাইটাল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের মহিলা কওমি মাদ্রাসার পরিচালক আমানউল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগর (৩০)।

মামলার এজাহার ও চার্জশিট সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে আমানউল্লাহ সাগর নিজ প্রতিষ্ঠানের ওই শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করেন। প্রাণনাশের হুমকির মুখে শিশুটি বিষয়টি এতদিন গোপন রাখতে বাধ্য হয়েছিল। পরবর্তীতে শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে গত ১৮ এপ্রিল স্থানীয় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করা হলে সে অন্তঃসত্ত্বা বলে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে অভিযুক্ত শিক্ষকের পরিবারের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগীর পরিবারকে গ্রামছাড়ার হুমকি দেওয়া হয় এবং টাকার বিনিময়ে আপস-রফার চেষ্টা চালানো হয়। ব্যর্থ হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মাদ্রাসায় তালা ঝুলিয়ে পরিবারসহ আত্মগোপনে চলে যান।

গত ২৩ এপ্রিল ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে আমানউল্লাহ সাগর ও তার ভাই মামুন মিয়াসহ দুজনকে আসামি করে মদন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় সাগর ভুক্তভোগীর পরিবারকে হুমকি দিতে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ৫ মে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে নিজেকে নির্দোষ দাবি করার পরদিন ৬ মে র‍্যাব-১৪ ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। এদিকে নিরাপত্তার স্বার্থে ভুক্তভোগী শিশুটিকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় সিলেটের একটি সেফহোমে স্থানান্তর করা হয়।

আদালতের নির্দেশে গত ১৭ মে সাগরের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এরপর গত ২ জুলাই সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভুক্তভোগী শিশুটি একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়। ২৮ জুলাই সিআইডির একটি প্রতিনিধি দল সেফহোমে গিয়ে নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠায়।

মদন থানার ওসি সালাহ উদ্দিন করীম জানান, ডিএনএ প্রতিবেদনে ধর্ষণের অপরাধ ও পিতৃত্বের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। চার্জশিটে চারজনকে সাক্ষী রাখা হয়েছে এবং সাগরের ভাই মামুন মিয়াকেও আসামি করা হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

নেত্রকোনায় মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ: ডিএনএ পরীক্ষায় অভিযুক্ত শিক্ষক শনাক্ত

আপডেট সময় : ০৬:৫৫:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

নেত্রকোনার মদনে ১২ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক ও মাদ্রাসা পরিচালক আমানউল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগরের বিরুদ্ধে আদালতে চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আক্তারুজ্জামান নেত্রকোনা আদালতে এই চার্জশিট জমা দেন।

এর আগে গত ২৪ আগস্ট মামলার গুরুত্বপূর্ণ ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন পুলিশের হাতে পৌঁছায়। ওই প্রতিবেদনে ৯৯.৯৯৯ শতাংশ বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ভুক্তভোগী শিশুর জন্ম দেওয়া কন্যাসন্তানের জৈবিক বাবা কাইটাল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের মহিলা কওমি মাদ্রাসার পরিচালক আমানউল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগর (৩০)।

মামলার এজাহার ও চার্জশিট সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে আমানউল্লাহ সাগর নিজ প্রতিষ্ঠানের ওই শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করেন। প্রাণনাশের হুমকির মুখে শিশুটি বিষয়টি এতদিন গোপন রাখতে বাধ্য হয়েছিল। পরবর্তীতে শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে গত ১৮ এপ্রিল স্থানীয় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করা হলে সে অন্তঃসত্ত্বা বলে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে অভিযুক্ত শিক্ষকের পরিবারের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগীর পরিবারকে গ্রামছাড়ার হুমকি দেওয়া হয় এবং টাকার বিনিময়ে আপস-রফার চেষ্টা চালানো হয়। ব্যর্থ হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মাদ্রাসায় তালা ঝুলিয়ে পরিবারসহ আত্মগোপনে চলে যান।

গত ২৩ এপ্রিল ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে আমানউল্লাহ সাগর ও তার ভাই মামুন মিয়াসহ দুজনকে আসামি করে মদন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় সাগর ভুক্তভোগীর পরিবারকে হুমকি দিতে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ৫ মে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে নিজেকে নির্দোষ দাবি করার পরদিন ৬ মে র‍্যাব-১৪ ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। এদিকে নিরাপত্তার স্বার্থে ভুক্তভোগী শিশুটিকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় সিলেটের একটি সেফহোমে স্থানান্তর করা হয়।

আদালতের নির্দেশে গত ১৭ মে সাগরের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এরপর গত ২ জুলাই সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভুক্তভোগী শিশুটি একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়। ২৮ জুলাই সিআইডির একটি প্রতিনিধি দল সেফহোমে গিয়ে নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠায়।

মদন থানার ওসি সালাহ উদ্দিন করীম জানান, ডিএনএ প্রতিবেদনে ধর্ষণের অপরাধ ও পিতৃত্বের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। চার্জশিটে চারজনকে সাক্ষী রাখা হয়েছে এবং সাগরের ভাই মামুন মিয়াকেও আসামি করা হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh