ঢাকা ০৯:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

নলছিটিতে নদীভাঙনের কবলে দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ঝুঁকিতে ৩০০ শিক্ষার্থী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৩১:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঝালকাঠির নলছিটির বিষখালী নদীর তীরে অবস্থিত দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখন নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ভবানীপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দুটির খেলার মাঠ এবং বেড়িবাঁধের একটি বড় অংশ গত ১৫ আগস্টের ভয়াবহ ভাঙনে ইতিমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে। বর্তমানে জোয়ারের সময় নদীর ঢেউ সরাসরি বিদ্যালয় দুটির আঙিনায় আঘাত করছে, যা শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ভবানীপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একসময় ৩০০ শিক্ষার্থী থাকলেও নদীভাঙন ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে বর্তমানে তা কমে প্রায় ২০০ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছে আরও প্রায় ৯০ জন শিক্ষার্থী। ভাঙনের আশঙ্কায় অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের দূরের অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানোর কথা ভাবছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে এলাকার শিক্ষা কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভবানীপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুন্নি আক্তার জানান, ভাঙনের কারণে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন থাকলেও পাঠদান কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছেন। ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনমথ রঞ্জন সমদ্দারও একই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে বিদ্যালয়টি রক্ষার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ইব্রাহিম হাওলাদার জানান, নদীভাঙনে ইতিমধ্যে অনেক পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে এবং এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও হুমকির মুখে।

পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো সম্প্রতি ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি বিদ্যালয় দুটি রক্ষায় দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রতীক কুমার কুন্ডু জানিয়েছেন যে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুটি রক্ষায় দ্রুত প্রশাসনিক ও কারিগরি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, সময়মতো কার্যকর উদ্যোগ নিলে শত শত শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম নিরাপদ রাখা সম্ভব হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

নলছিটিতে নদীভাঙনের কবলে দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ঝুঁকিতে ৩০০ শিক্ষার্থী

আপডেট সময় : ০৩:৩১:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

ঝালকাঠির নলছিটির বিষখালী নদীর তীরে অবস্থিত দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখন নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ভবানীপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দুটির খেলার মাঠ এবং বেড়িবাঁধের একটি বড় অংশ গত ১৫ আগস্টের ভয়াবহ ভাঙনে ইতিমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে। বর্তমানে জোয়ারের সময় নদীর ঢেউ সরাসরি বিদ্যালয় দুটির আঙিনায় আঘাত করছে, যা শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ভবানীপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একসময় ৩০০ শিক্ষার্থী থাকলেও নদীভাঙন ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে বর্তমানে তা কমে প্রায় ২০০ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছে আরও প্রায় ৯০ জন শিক্ষার্থী। ভাঙনের আশঙ্কায় অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের দূরের অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানোর কথা ভাবছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে এলাকার শিক্ষা কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভবানীপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুন্নি আক্তার জানান, ভাঙনের কারণে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন থাকলেও পাঠদান কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছেন। ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনমথ রঞ্জন সমদ্দারও একই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে বিদ্যালয়টি রক্ষার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ইব্রাহিম হাওলাদার জানান, নদীভাঙনে ইতিমধ্যে অনেক পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে এবং এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও হুমকির মুখে।

পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো সম্প্রতি ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি বিদ্যালয় দুটি রক্ষায় দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রতীক কুমার কুন্ডু জানিয়েছেন যে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুটি রক্ষায় দ্রুত প্রশাসনিক ও কারিগরি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, সময়মতো কার্যকর উদ্যোগ নিলে শত শত শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম নিরাপদ রাখা সম্ভব হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin