ঢাকা ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঋণের চাপে সপরিবারে আত্মগোপনে থাকা স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু আটক পাকিস্তান ও কুয়েতের মধ্যে নতুন যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের জন্য অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকা প্রকাশ মিয়ানমারে পণ্য রপ্তানির অর্থ আসবে তৃতীয় দেশ থেকে, ছাড় দিচ্ছে এনবিআর নেপালে বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯, নিখোঁজ দেড় হাজার হরমুজ প্রণালি খুলতে শর্তের তালিকা তৈরি করছে ইরান শরীয়তপুরে সাংবাদিক মারধরের পর বিএনপি নেতার পাল্টা চাঁদাবাজির অভিযোগ দুই বছরের প্রেমের ইতি টানলেন অনন্যা পাণ্ডে লা লিগায় জয়রথ অব্যাহত বার্সেলোনার, হারল আথলেতিক বিলবাও এলিয়েনের মুখোমুখি হলে মানুষের করণীয় কী?

কাজিপুরে যমুনার চরে জমে উঠেছে ভাসমান পাটের হাট

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৩০:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার যমুনা নদীর নাটুয়ারপাড়া চরে বসেছে ঐতিহ্যবাহী ভাসমান পাটের হাট। সোনালী আঁশের সুদিন ফিরে আসায় এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। সপ্তাহের প্রতি শনি ও বুধবার ভোরে যমুনা নদীর পাড়ে নৌকার ওপর এই হাট জমে ওঠে। কাজিপুর ছাড়াও পার্শ্ববর্তী জামালপুর, বগুড়া, টাঙ্গাইল ও কুড়িগ্রাম জেলার ক্রেতা-বিক্রেতা ও পাইকাররা এই হাটে এসে ভিড় করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর কাজিপুরে ৪ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। বড় ধরনের বন্যা না হওয়ায় কৃষকরা সময়মতো পাট কেটে ধুয়ে বাজারে তুলতে পেরেছেন। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ পাট মানভেদে ৩ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। উৎপাদন খরচ পুষিয়ে ভালো লাভ পাওয়ায় কৃষকরা আবার পাট চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

নৌকায় করে যাতায়াত ও পরিবহনের সুবিধার কারণে এই ভাসমান হাট পাইকারদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। সরিষাবাড়ী উপজেলার পাটের পাইকার হাসান আলী জানান, নৌকা থেকে সরাসরি অন্য নৌকায় পাট তোলা সহজ এবং এতে পরিবহন খরচ অনেক কমে যায়। তিনি প্রতি হাটে ৫০ থেকে ৬০ মণ পাট কেনেন। চরগিরিশের বেপারি আবু সামা প্রতি হাটে ৭০ থেকে ৮০ মণ পাট কেনেন এবং তিনিও নৌকায় পরিবহনের সুবিধার কথা উল্লেখ করেন।

নাটুয়ারপাড়ার স্থানীয় কৃষক আব্দুর আবু সাইদ জানান, তিনি ৩ বিঘা জমিতে পাট চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন এবং প্রতি মণ ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহিমের মতে, টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর, কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী ও জামালপুরের মাদারগঞ্জ থেকে অনেক পাইকার এখানে আসেন। প্রতি হাটে প্রায় ১ থেকে ২ হাজার মণ পাট বেচাকেনা হয়। নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান চাঁন জানান, ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা অত্যন্ত আনন্দিত এবং প্রতিটি হাটে গড়ে ১ থেকে দেড় হাজার মণ পাট বেচাকেনা হচ্ছে।

কাজিপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, এ বছর উপজেলায় ৪ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে। বন্যায় পাটের কোনো ক্ষতি না হওয়ায় কৃষকরা সময়মতো ফসল ঘরে তুলতে পেরেছেন। লাভজনক হওয়ায় কাজিপুরের কৃষকরা এখন পাট চাষে অনেক বেশি মনোযোগী হচ্ছেন। সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও জামালপুরের ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতিতে এই হাটটি এখন মুখরিত।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

কাজিপুরে যমুনার চরে জমে উঠেছে ভাসমান পাটের হাট

আপডেট সময় : ০১:৩০:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার যমুনা নদীর নাটুয়ারপাড়া চরে বসেছে ঐতিহ্যবাহী ভাসমান পাটের হাট। সোনালী আঁশের সুদিন ফিরে আসায় এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। সপ্তাহের প্রতি শনি ও বুধবার ভোরে যমুনা নদীর পাড়ে নৌকার ওপর এই হাট জমে ওঠে। কাজিপুর ছাড়াও পার্শ্ববর্তী জামালপুর, বগুড়া, টাঙ্গাইল ও কুড়িগ্রাম জেলার ক্রেতা-বিক্রেতা ও পাইকাররা এই হাটে এসে ভিড় করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর কাজিপুরে ৪ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। বড় ধরনের বন্যা না হওয়ায় কৃষকরা সময়মতো পাট কেটে ধুয়ে বাজারে তুলতে পেরেছেন। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ পাট মানভেদে ৩ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। উৎপাদন খরচ পুষিয়ে ভালো লাভ পাওয়ায় কৃষকরা আবার পাট চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

নৌকায় করে যাতায়াত ও পরিবহনের সুবিধার কারণে এই ভাসমান হাট পাইকারদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। সরিষাবাড়ী উপজেলার পাটের পাইকার হাসান আলী জানান, নৌকা থেকে সরাসরি অন্য নৌকায় পাট তোলা সহজ এবং এতে পরিবহন খরচ অনেক কমে যায়। তিনি প্রতি হাটে ৫০ থেকে ৬০ মণ পাট কেনেন। চরগিরিশের বেপারি আবু সামা প্রতি হাটে ৭০ থেকে ৮০ মণ পাট কেনেন এবং তিনিও নৌকায় পরিবহনের সুবিধার কথা উল্লেখ করেন।

নাটুয়ারপাড়ার স্থানীয় কৃষক আব্দুর আবু সাইদ জানান, তিনি ৩ বিঘা জমিতে পাট চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন এবং প্রতি মণ ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহিমের মতে, টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর, কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী ও জামালপুরের মাদারগঞ্জ থেকে অনেক পাইকার এখানে আসেন। প্রতি হাটে প্রায় ১ থেকে ২ হাজার মণ পাট বেচাকেনা হয়। নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান চাঁন জানান, ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা অত্যন্ত আনন্দিত এবং প্রতিটি হাটে গড়ে ১ থেকে দেড় হাজার মণ পাট বেচাকেনা হচ্ছে।

কাজিপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, এ বছর উপজেলায় ৪ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে। বন্যায় পাটের কোনো ক্ষতি না হওয়ায় কৃষকরা সময়মতো ফসল ঘরে তুলতে পেরেছেন। লাভজনক হওয়ায় কাজিপুরের কৃষকরা এখন পাট চাষে অনেক বেশি মনোযোগী হচ্ছেন। সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও জামালপুরের ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতিতে এই হাটটি এখন মুখরিত।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh